ভুয়া দলিলে গোপনে একতরফাভাবে রায় নিয়ে কেনা জমি দখল করেছে ভূমিদস্যু পুলিশের টি.আই. রুমী কাউছার গংরা। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ভূমিদস্যুরা ওই জমিতে নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে। তাদের বাঁধা দেয়ায় প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে জমির মালিককে। জীবনের নিরাপত্তা ও জমি রক্ষায় ভূমিদস্যুদের আইনের আওতায় আনার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগী জমির মালিক মো. হাবিবুর রহমান।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান ভূক্তভোগী জমির মালিক। লিখিত বক্তব্যে মো. হাবিবুর রহমান জানান, গত ২০১২ সালের ১৫ অক্টোবর ৮৮৬৬নং দলিলে জমি কেনার পর সিটি জরিপ মোতাবেক নামজারী করে ৪০ বছরের খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে। এরই মধ্যে বাবু স্বপন কুমার হাওলাদার ১৯৭৩ সালের ৩১ ডিসেম্বরের ৩১৪০৮নং ভূয়া দলিলে দেওয়ানি মামলা দায়ের করে (১৩৭/১৬) গোপনে একতরফাভাবে রায় ডিক্রি নেয়। ভুক্তভোগী বাদী এক তরফা রায় বাতিলের জন্য আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন (২৬০/২০১৮ইং)। উল্লেখিত স্বপন কুমার হাওলাদারের দলিলটি জাল-ভূয়া ও বানানো বলে রেজিষ্ট্রি অফিস চিঠি দিয়ে জানায়। ওই মামলাটিতে আদালত ২০২০ সালের ১৯ মার্চ নালীশি তফসিলের সম্পত্তি থেকে বিবাদী পক্ষকে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিলেও ভূমিদস্যুরা কোভিড-১৯কে উপেক্ষা করে ওই জমিতে অবৈধভাবে কাজ করছে। এ ঘটনাটি রাজউক ও দুদকে অবহিত করে পরবর্তীতে আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশন, মতিঝিল বিভাগের ডিসি, খিলগাঁও থানার ওসিকে অবহিত করে ভুক্তভোগী আবেদন করে। কিন্তু ভূমিদস্যুরা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে আদালতের স্থিতাবস্থা ও নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বেআইনিভাবে পুলিশের টি.আই. রুমি কাউসার ও নবী হোসেন গংরা তাদের পালিত সন্ত্রাসী দিয়ে নির্মাণ কাজ করা অব্যাহত রেখেছে।
তিনি আরো বলেন, ওই জমি দেখতে গেলে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করে এবং পুনরায় ওই জমিতে গেলে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল-হাজতে পাঠাবে না হয় হত্যার পর লাশ গুমের হুমকি দিচ্ছে। ওই ভূমিদস্যুরা ওই এলাকায় আরো অনেক ব্যক্তির জমি দখল করেছে, তারা প্রাণ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। কেউ মুখ খুললে তাকে সন্ত্রাসী বাহিনী মারধর করে ও দুর্নীতিবাজ নারায়গঞ্জ পুলিশের টি.আই রুমী কাউসার ও তার সহযোগিদের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠায়। এমতাবস্থায় ভূমিদস্যু টি.আই. রুমি কাউসার ও নবী হোসেন গং বাহিনীর জাল-জালিয়াতি করে জমি দখল ও প্রতারণার ফাঁদ হতে নিজের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপের দাবি জানান তিনি।