দর্পণ ডেস্ক : দুঃস্বপ্নের ২০২০ শেষ করে আমরা পা দিলাম নতুন বছরে। সবাই মন থেকে চাইছে ‘বিশে যেন বিষ ক্ষয়’ হয়। পৃথিবীর সব কিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে ফিরে আসুক।

গত বছর করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লকডাউন দেওয়া হয়। ঘরে আটকা পড়া মানুষ নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করে। অনেকেই অনেক পুরনো নেতিবাচক অভ্যাস বাদ দিয়ে ইতিবাচক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করেন। আসুন নতুন এই বছরে নিজেকে ভালো রাখার কিছু নতুন অভ্যাস গড়ে তুলি-

১. নিজের যত্নের প্রতি খেয়াল রাখুন
গত বছর কিছুটা মানসিক অস্থিরতার মধ্যেই কাটিয়েছি আমরা। সেই পরিস্থিতি থেকে নিজেকে তুলে আনার জন্য নিজের যত্ন করায় মনযোগ দিন। নিজের যত্ন মানেই যে স্পা-এ যাওয়া তা নয়, নিজের জন্য সারাদিনে কিছুটা হলেও সময় রাখা। সেই সময়ে শুধুই নিজের প্রতি মনযোগ দিন। দিনের সেই অবসরে শরীরের যত্ন নিতে পারেন। আবার যত্ন নিতে পারেন আপনার মনেরও। ডায়েরি লিখা, গান শোনা অথবা কাজের হিসাব করাও হতে পারে অবসর কাটানোর উপায়।

একইসঙ্গে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় যেকোন ধরনের ব্যায়াম করুন। দিনে পাঁচ থেকে দশ মিনিটের জন্য হলেও মেডিটেশন বা ধ্যান করুন। এতে মন শান্ত থাকবে। এভাবে আপনি স্ট্রেসমুক্ত হয়ে মানসিক স্থিরতা আসবে যা আপনাকে যেকোন নেতিবাচক পরিস্থিতি শান্তভাবে কাটাতে সাহায্য করবে।

২.ডিজিটাল ডিটক্স
মনের শান্তি চাইলে অন্তত একদিন নিজেকে সবধরনের ডিজিটাল যন্ত্রপাতি থেকে দূরে রাখুন। ডিজিটাল যুগে সব ধরনের বিষয়ে আপনি অবগত হতে বাধ্য হচ্ছেন যার সবকিছু হয়তো আপনার জন্য জরুরি না। নিজের কাজে আরও মনযোগী হতে ও ভালোভাবে করতে তাই মাঝেমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ যেকোন প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকুন। আবার দুঃখজনক ঘটনার কোনদিন একটি আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা অর্জন করুন বা এমন কিছু করুন যা আপনার মুখে হাসি ফোটাবে। পরবর্তী বছর সেগুলো দেখলে ভালো থাকবেন।

৩. পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং
বিশ্বপ্রকৃতি ও জলবায়ু বাঁচাতে একটি ছোট্ট পদক্ষেপও অনেক বড় উপকার করতে পারে। যেমন পৃথিবীজুড়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে আপনি সামান্য হলেও ভূমিকা রাখতে পারেন। প্লাস্টিকের মোড়কের পরিবর্তে পাট, কাগজ বা কাপড়ের মোড়ক ব্যবহারে জোর দিন। কাগজের মোড়কের সুবিধা না থাকলে বাসা থেকে আলাদা শপিং ব্যাগ নিন। দাম একটু বেশি দিয়ে হলেও প্রকৃতিবান্ধব প্রতিষ্ঠানের পণ্য কিনুন। এতে অন্যরাও প্লাস্টিকের মোড়ক বাদ দিয়ে প্রকৃতিবান্ধব মোড়ক উৎপাদনে উৎসাহী হবে।

৪. ক্রুয়েলটি-ফ্রি পণ্য ব্যবহার
আজকাল জীববৈচিত্র্য রক্ষার তাগিদে অনেক প্রতিষ্ঠানই ক্রুয়েলটি ফ্রি বা ভেগান প্রসাধণ বানাচ্ছে। আসুন আমরা সেসব ব্র্যান্ডের পণ্য কিনি আর প্রাণিজগতের প্রতি অত্যাচার দূর করতে ভূমিকা রাখি।

৫. সুষম খাবার
এ বছর থেকে বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া বাদ দিয়ে হিসেব করে সুষম খাবার খেতে শুরু করি। দীর্ঘ জীবন ও সার্বিক সুস্থতার জন্য এর বিকল্প নেই। বিষয়টি অনেক কঠিন মনে হলেও অসম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন মানসিক জোর চেষ্টা করুন বাইরের খাবার না খেয়ে বাড়িতে তৈরি অল্প তেলমশলাযুক্ত খাবার খেতে। এতে শরীরের পাশাপাশি মনও ভালো থাকবে। একইসঙ্গে মাছ বা মাংস খাওয়া কমিয়ে উদ্ভিদজাত খাবারে মনযোগ দিন।

আসুন নতুন বছরে শুধু নিজেকেই নয়, পৃথিবীকেও ভালো রাখতে একটি হলেও পদক্ষেপ গ্রহণ করি আমরা। এভাবেই নিজেরাও ভালো থাকবো আর আমাদের চারপাশের প্রকৃতি ও প্রতিবেশও ভালো রাখতে ভূমিকা রাখবো। নতুন বছরে এই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।