রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ছে বিএনপি। বর্তমানে তারা বটবৃক্ষ থেকে বনসাইয়ের মতো ছোট দলে পরিণত হয়েছে। নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা পূরণে আশাতীত ফলাফল লাভে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি আগামীতে ভেঙে ছোট ছোট উপদলে পরিণত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

বিএনপির বিপর্যয় ও দুর্বল রাজনীতি চর্চার জন্য সাংগঠনিক সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির মধ্যম সারির এক নেতা বলেন, দেশের রাজনীতিতে বিএনপির এমন দুরাবস্থা আশা করা যায় না। বর্তমানে বিএনপির এমন বেহাল দশার জন্য দলের সিনিয়র নেতাদের দায় নিতে হবে। তাদের ভুলের কারণে বিএনপির মতো বটবৃক্ষ পরিণত হয়েছে বনসাইতে।  অথচ তারা বিপদ থেকে উদ্ধারের চিন্তা না করে  বড় বড় কথা বলছেন।

এ বিষয়ে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ড. আসিফ নজরুল সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে দূরদৃষ্টির অভাব চরমভাবে লক্ষণীয়। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা না করেই বিএনপি রাজনীতি করায় আজকে পদে পদে হোঁচট খাচ্ছে। বিষয়টি দলের জন্য শুভকর নয়।

কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে আসিফ নজরুল আরো বলেন, বিএনপির সামনে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি না। সমন্বয়হীন ও সঠিক নেতৃত্বের অভাবে কর্মী-সমর্থকদের হতাশ মনে হয়েছে। অন্ধকারে ভয় পেলে মানুষ সাহস সঞ্চার করার জন্য যেমন নিজের সঙ্গে জোরে জোরে কথা বলে, ঠিক তেমনটাই করছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। এভাবে নিজেরা রক্ষা পেলেও দলকে কিন্তু রক্ষা করা মুশকিল হয়ে পড়বে। নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা ঢাকতে ক্ষমতাসীনদের ঘাড়ে দোষ চাপানো থেকে বের হতে পারেনি বিএনপি।

খালেদা জিয়া শর্ত সাপেক্ষে মুক্ত আছেন অথচ নেতারা প্রায় নির্বিকার। বিএনপিকে মাঠে নামতে হবে, সভা-সেমিনার করতে হবে। জেলে যাওয়ার ভয় করলে তো আর আন্দোলন হবে না। খালেদা জিয়ার পুরোপুরি মুক্তিও মিলবে না