মোঃ সাজেদুর রহমান চৌধুরী
ধর্ম কখনও রাজনীতির হাতিয়ার হতে পারে না। পৃথিবীতে প্রতিটি ধর্মের মূল বাণীই হলো মানুষের মধ্যে শান্তি, মানবতা, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা করা। ধর্ম কোনদিন মানুষ হত্যা করা শেখায় না। ধর্মের বাণী কোনদিন এক ধর্মের জাতিকে অন্য ধর্মের জাতির ওপর আক্রমণ কিংবা বা হত্যার নির্দেশনা দেয় না। পৃথিবীর প্রতিটি জাতি কোন না কোন ধর্মের অনুসারী। ধর্ম মানুষকে সুশৃঙ্খলভাবে জীবন পরিচালনার শিক্ষা দেয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আমাদের বাংলাদেশের কিছু বিপথগামী মুসলিম মৌলবাদীরা ইসলাম ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তাদের অসৎ উদ্দেশ্যে ও রাজনৈতিক ফায়দা লুটছে। এ সকল ধর্মীয় ব্যবসায়ীরা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে।
একটি দেশে বিভিন্ন ধর্মের লোক বসবাস করবে এটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশ প্রায় ৯০% মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য মুসলিম ধর্ম ব্যবসায়ী মৌলবাদীরা তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নামের আগে ও পরে ‘ইসলাম’ শব্দটি ব্যবহার করে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষদের মাঝে অন্যান্য ধর্মের মানুষদের শত্রু হিসেবে তুলে ধরছে। ধর্ম ব্যবসায়ীদের এই অসৎ উদ্দেশ্যে কার্যকর করছেন তাদের নিজস্ব এজেন্ট ও সন্ত্রাসীরা। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা বিভিন্ন ধরনের ফতোয়া দিয়ে অন্যান্য ধর্মের মানুষদের কোনঠাসা করে রেখেছেন। এমনকি অন্য ধর্মের মানুষদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধা, তাদের প্রার্থনা স্থানে ভাংচুর ও বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়ে মানুষ হত্যায় মেতে উঠেছেন এ সকল ধর্ম ব্যবসায়ী তথাকথিত রাজনীতিবিদরা। বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংগঠন হলো- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, খেলাফতে ইসলাম, হিযবুত তাহরী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, তরিকত ফেডারেশন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট ইত্যাদি। ধর্মের দোহাই দিয়ে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক সংগঠনগুলো এখনই নিষিদ্ধ না করলে বাংলাদেশে অন্যান্য ধর্মের কোন মানুষই স্থায়ীভাবে শান্তিতে ধর্ম ও ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবে না। ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’-এই মূলমন্ত নিয়ে এগিয়ে গেলে সমাজে ধর্মীয় সন্ত্রাস নিশ্চিহ্ন করা যাবে। রাজনৈতিক সংগঠনের নামের আগে ও পরে ইসলাম শব্দ ব্যবহার করা যাবে না, এমন আইন করতে হবে। বাংলাদেশকে অসাম্প্রাদায়িক জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকারকে কঠোরহস্তে ধর্ম ব্যবসায়ীদের প্রতিহত করতে হবে। সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সাধারাণ জনগণকেও সচেতন হতে হবে এই ধর্ম ব্যবসায়ীদের অসৎ কার্যক্রম সমন্ধে। প্রতিটি ধর্ম পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মানুষের শান্তির জন্য। মানুষকে হত্যা কিংবা অন্য ধর্মকে ঘৃণা করা কোন ধর্মেই নেই। আসুন আমরা সরকারের ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সকল ধর্মের জনগণ সোচ্চার হই ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন নিষিদ্ধের ব্যাপারে। আন্দোলন গড়ে তুলে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর অসৎ কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরি তবেই হয়তোবা ধর্ম ব্যবসায়ীরা ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মে-ধর্মে, জাতিতে-জাতিতে, হানাহানি ও ভেদাভেদ সৃষ্টি করতে পারবে না।
লেখক: মোঃ সাজেদুর রহমান চৌধুরী
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক দর্পণ প্রতিদিন