ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক অরবিন্দ সাহার এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় সমন্বয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ওই ইউনিটে তার ছেলে যে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন কমিটির কাছে তিনি এ তথ্য গোপন করেছেন। পরে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিও হয়েছেন তার ছেলে।

এখন কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির কাছে তথ্য গোপন করে ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর অভিযোগ উঠেছে অরবিন্দ সাহার বিরুদ্ধে।

ভর্তি পরীক্ষা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা পরিষদের নিয়ম হলো- ভর্তি পরীক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং ব্যক্তির কোনো আত্মীয় সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা থাকলে তিনি ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রমের সঙ্গে (পরীক্ষা কমিটির সভাপতি, সদস্য, প্রশ্নকর্তা, পরীক্ষক এবং টেবুলেটরের কাজে) যুক্ত থাকতে পারবেন না। সেই সঙ্গে বিষয়টি অবশ্যই পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বা সংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তিদের অবহিত করতে হবে। কিন্তু ছেলের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার তথ্য গোপন রেখেছিলেন অধ্যাপক অরবিন্দ সাহা। এই ইউনিটের সমন্বয়কারীকে বিষয়টি অবহিত করেননি তিনি। 

এ বিষয়ে ‘সি’ ইউনিটের সমন্বয়কারী অধ্যাপক জাকারিয়া রহমান বলেন, ‘বিষয়টি উনি ভর্তি পরীক্ষার আগে লিখিত বা মৌখিক কোনোভাবেই জানাননি। ভর্তি কার্যক্রমের শেষ পর্যায়ে এসে আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। পরে ফ্যাকাল্টি মেম্বারদের নিয়ে একটি সাধারণ সভা করে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে।’

অধ্যাপক অরবিন্দ সাহার ছেলে অনিন্দ্য সাহা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (সম্মান) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ‘সি’ ইউনিটের অধীনে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে ৭৫.৫৭ নম্বর পেয়ে পোষ্য কোটায় ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি ওই বিষয়ে অধ্যয়ণরত।

অধ্যাপক অরবিন্দ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের এর আগে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির ‘সি’ ইউনিটের সমন্বয়ক ছিলেন। ওই ভর্তি পরীক্ষায় অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠায় তাকে সরিয়ে এবার মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক জাকারিয়া রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অধ্যাপক অরবিন্দ এই ইউনিটের কোর কমিটিতে না থাকলেও ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের ডিন হওয়ায় ‘সি’ ইউনিটের সমন্বয় কমিটিতে ছিলেন। এই অনুষদভুক্ত ছয়টি বিভাগের চেয়ারম্যানরাও ওই কমিটির সদস্য।

তথ্য গোপনের বিষয়টি নিয়ে সিনিয়র এক শিক্ষক সমকালকে বলেন, ‘তিনি কোর কমিটিতে না থাকলেও ভর্তি পরীক্ষা সমন্বয় কমিটির সদস্য ছিলেন। এ অবস্থায় ছেলে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে- এই তথ্য গোপন করে তিনি অন্যায় করেছেন।’ এ বিষয়ে অধ্যাপক অরবিন্দ সাহা বলেন, ‘আমি ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য ছিলাম কিন্তু কোনো কাজ করিনি। ডিন হিসেবে স্বাক্ষর করেছি মাত্র।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘এই বিষয়ে কেউ আমাকে লিখিত বা মৌখিকভাবে জানায়নি। ওই শিক্ষকও কিছু বলেননি। নিয়মানুযায়ী উনি আইনের লঙ্ঘন করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’