গোফরান পলাশ, পটুয়াখালী সংবাদদাতা: গত ক’দিনের অতি বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কয়েক হাজার মানুষ। তলিয়ে রয়েছে পুকুর ও মাছের ঘের। ক্ষতির মুখে পড়েছে মৌসুমী সবজি চাষীরা। অনেকের বাড়িতে রান্নার চুলা জ্বলেনি। গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। লঘু চাপে সৃষ্ট অস্বাভাবিক জোয়ারের ঢেউয়ে ফের ভাঙনের কবলে পড়েছে লালুয়া, ধানখালী, চম্পাপুর, মহিপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ। এছাড়া স্লুইজ, কালভার্ট আটকে প্রভাবশালীদের মাছ চাষের ফলে পানি নামতে না পারায় গ্রামীন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। একই চিত্র জেলার উপকূলীয় রাঙ্গাবালী, মির্জাগঞ্জ,বাউফল, দশমিনা, গলাচিপা উপজেলার গ্রামীন জনপদের।

উজেলা মৎস্য ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ক’দিনের ভারি বৃষ্টিতে
তলিয়ে গেছে অন্তত: ১৫’শত পুকুর ও মাছের ঘের। এতে প্রায় তিন কোটি ৬০ লক্ষ
টাকা ক্ষতির আশংকা করেছে মৎস্য বিভাগ। পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ২৫’শত
হেক্টর আমনের বীজতলা। এছাড়া ৩৪ হেক্টর আউশ  ও ৭’শত ৪০ হেক্টর জমিতে
চাষকৃত শাক সবজির অর্ধেকটা নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ।

স্থানীরা জানান, অব্যাহত ভারি বৃষ্টিতে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের অন্তত: দশ
হাজার একর জমি দেড় থেকে তিন ফুট পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এ কারনে আমন ফষল
নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে কৃষক। এভাবে আমন ক্ষেত তলিয়ে থাকলে আমনের রোপন
করা বীজ নষ্ট হওয়ার শঙ্কা করছেন কৃষক।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ’এ উপজেলায় টানা সাত দিনের
ভারি বর্ষনে ১৫’শত পুকুর ও ঘের তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরী
করে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কছে পাঠানো হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এআরএম সাইফুল্লাহ বলেন, ’কৃষি খাতে ক্ষতির তালিকা
করে মন্ত্রলালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

ইউএনও আবু হাসনাত মোহম্মদ শহিদুল হক বলেন, ’করোনা সংক্রমন রোধে চলমান
বিধি নিষেধে কর্মহীন হয়ে পড়া ও পানিতে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তার জন্য
উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ইতোমধ্যে ছয় লাখ টাকা স্থানীয় চেয়ারম্যানদের কাছে
পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এছাড়া মহিপুর, লালুয়া, চম্পাপুর, ধানখালী ইউনিয়নের
পানিবন্দি মানুষের জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা করা হবে বলে জানান তিনি।’