অনলাইন ডেস্ক : পঞ্চম স্প্যান বসানোর ফলে পদ্মা সেতুর মূল কাঠামোর ৭৫০ মিটার দৃশ্যমান হল। ছবি-যুগান্তর
পদ্মা সেতুর পঞ্চম স্প্যান বসেছে। শুক্রবার বেলা পৌনে একটার দিকে নদীর দক্ষিণ প্রান্তে ৪১ ও ৪২ নম্বর খুঁটির ওপর স্প্যানটি বসানো হয়। ফলে সেতুর মূল কাঠামোর ৭৫০ মিটার দৃশ্যমান হল।

সেতুর পঞ্চম স্প্যানটি বসানো হয়েছে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকায়। এই স্প্যানটিই জাজিরা প্রান্তের তীরের দিকের শেষ স্প্যান।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবীর জানান, ১৫০ মিটার দীর্ঘ এই স্প্যান আজ বেলা পৌনে একটার সময় বসানো হয়েছে। স্প্যানটি ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের (খুঁটি) ওপর বসানো হওয়ায় পদ্মা সেতুর ৭৫০ মিটার দৃশ্যমান হল।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কুমারভোগের বিশেষায়িত ওয়ার্কশপ জেটি থেকে ভাসমান ক্রেনবাহী জাহাজ স্প্যানটি তুলে নিয়ে যায়। বিকালে স্প্যানটি নিয়ে যাওয়া হয় ৪১ ও ৪২ নম্বর পিয়ারের কাছে।

জাজিরা প্রান্তের ৩৭ নম্বর খুঁটি থেকে ৪১ নম্বর পিয়ারে সেতুর চারটি স্প্যান বসানো হয়েছে এর আগে। প্রতিটি ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের মোট ৪১টি স্প্যান ৪২টি পিয়ারের ওপর বসিয়ে তৈরি হবে পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে সেতুর ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে পুরো স্প্যান বসানোর কাজ শেষ করে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান করা হবে।

গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর সেতুর প্রথম, ২৮ জানুয়ারি দ্বিতীয়, ১০ মার্চ তৃতীয় ও ১৩ এপ্রিল চতুর্থ স্প্যানটি বসানো হয়েছিল।

এ সেতুর কাজ শেষ হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে গোটা দেশের যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে। দেশের অর্থনৈতিতে নতুনমাত্রা যোগ হবে।

পদ্মা সেতুর দুই পাড়ে গড়ে উঠবে সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের আদলে বিশ্বমানের শহর। কলকারখানায় ভরে যাবে এ এলাকা।

জাজিরা পূর্ব নাওডোবা এলাকার রাজ্জাক মাঝি বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে আমাদের বাপ-দাদার জমি দিয়েছি। মনে করেছিলাম সেতু করার নামে আমাদের জমি নিয়ে গেল। পর পর চারটি স্প্যান বসানোর পর আরও একটি বসানোর পর মনে হচ্ছে- এ সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়। এতে আমরা খুশি ও আনন্দিত।