পাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের জালালি কবুতর। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রকৃতি থেকে ধীরে ধীরে পাখির সংখ্যা কমতে শুরু করলেও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে এখনও অনেক বিলুপ্ত, প্রায় বিলুপ্ত পাখির দেখা মেলে। প্রতিদিন বিকেলে এই ক্যাম্পাসে জালালি কুবতরের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। শেষে বিকেলে ঝাঁকে ঝাঁকে দেখা মেলে জালালি কবুতরের।

বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এবং শেখ হাসিনা হলের ছাদ, কার্নিশ এবং বিল্ডিংয়ের ছোট ছোট খোপগুলো দখলে থাকে জালালি কবুতরের। এ সময় কবুতরগুলোর এক বিল্ডিং থেকে অপর বিল্ডিংয়ে উড়ে যাওয়া, কিছু সময় পর পর দল বেঁধে পুরো আকাশে ঘুরে বেড়ানো, বাকবাকুম শব্দ, ডানা ঝাপটানোর আওয়াজ এক মধুর পরিবেশ তৈরি করে। 

পাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের জালালি কবুতর। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে যখন ক্যালিকো কটন মিল ছিল এই জালালি কবুতরগুলো সেখানেই থাকত। কিন্তু ক্যালিকো কটন মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এর ভবনগুলো যখন ভেঙে ফেলা হয় তখন এরা এক প্রকার আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে যখন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলো নির্মাণ করা হয়, তখন থেকে এই কবুতরগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে শুরু করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্বে থাকা ফজলে আলী তুষার জানান, করোনার সময় প্রতিদিন বিকেলে প্রশাসনিক ভবনের পুরা ছাদে এই পাখিগুলো দেখা যেত। ক্যাম্পাস খোলার পর চারদিকে কোলাহল বাড়তে থাকে, তখন এদের দেখা যেত কিন্তু এরা সবার আড়ালে থাকত। কিন্তু কুরবানির ঈদে ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার পর প্রচুর সংখ্যক পাখির দেখা মিলেছে। 

পাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের জালালি কবুতর। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কর্মচারী মঙ্গল শেখ বাবু জানান, এই ক্যাম্পাস হওয়ার পর থেকেই আমি এই কবুতরগুলোকে দেখে আসছি। কখনো কম কখনো বেশি। কিন্তু এই ক্যাম্পাস কখনোই কবুতরশূন্য হয়নি। 

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে থাকা ফসলি জমি এবং জলাভূমি থাকাতে এখানে পাখির জন্য প্রচুর খাবার রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখি থাকার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকার কারণে অনেক পাখিই এই ক্যাম্পাসকে থাকার জন্য নিরাপদ মনে করেন। 

পাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের জালালি কবুতর। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. নাজমুল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের জমিগুলোতে বছরে তিনবার ফসল হওয়াতে এই কবুতরগুলো এখানে পর্যাপ্ত খাবার পেয়ে থাকেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পাখিদের থাকার জন্য অন্যান্য জায়গা থেকে নিরাপদ। যার কারণে কবুতরগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এই ক্যাম্পাসে বসবাস করছে।

এই পরিবেশ বিশেষজ্ঞ আরো জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশের জায়গাটা পাখিদের জন্য ইকো ফ্রেন্ডলি যার কারণে এই ক্যাম্পাসে এবং এর আশেপাশে জালালি কবুতর ছাড়াও অনেক বিলুপ্ত এবং প্রায় বিলুপ্ত পাখির দেখা মেলে। যথাযথ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে এই ক্যাম্পাস এবং এর আশেপাশের জায়গাতে অনেক বিলুপ্ত এবং প্রায় বিলুপ্ত পাখিকে রক্ষা করা সম্ভব।  

পাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের জালালি কবুতর। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

তবে এত কিছু মধ্যেও মাঝে মাঝে অনেককেই কবুতরগুলোকে ধরা এবং এদের বাসস্থানে সমস্যা করতে দেখা যায়। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশ থেকে ধীরে ধীরে জালালি কুবতরের সংখ্যা কমতে থাকলেও পাবিপ্রবি ক্যাম্পাস জালালি কবুতর টিকিয়ে রাখার জন্য জন্য বড় একটা সম্ভাবনার জায়গা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই কবুতরগুলোর জন্য পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ এবং থাকার জন্য নিরাপদ স্থানের ব্যবস্থা করে দিলে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হতে পারে জালালি কবুতরের অভয়ারণ্য।