ছবি: সংগৃহীত

শনিবার রাতে রাজধানীর শাহ আলী থানা এলাকা থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ‘ডাকাতের মাস্টার’ আসলামসহ আন্তঃজেলা ডাকাতদলের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

ডাকাতের মাস্টার ছাড়াও গ্রেফতারকৃতরা হলেন-মকবুল হোসেন প্রকাশ ওরফে মঙ্গল হোসেন বাবু, মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. হাসান হাওলাদার।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস, একটি বিদেশি পিস্তল, লোহার তৈরি একটি ছুরি, লোহার তৈরি দুটি চাকু, দুটি লাঠি, দুটি গামছা এবং ডাকাতি করা তিনটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়।

রোববার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ও ডিবি-উত্তর) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহ আলীর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ চার ডাকাতকে গ্রেফতার করেন গোয়েন্দা তেজগাঁও জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার মো. শাহাদত হোসেন সুমা।

গ্রেফতারকৃতদের ডাকাতির কৌশল সম্পর্কে গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ডাকাতরা মূলত লেজার লাইট দিয়ে মালবাহী ট্রাকের সামনে সিগন্যাল দেন। চালক পুলিশি সিগন্যাল ভেবে ট্রাক থামালে অস্ত্রের মুখে চালক ও হেলপারকে জিম্মি করে ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যান। পথিমধ্যে কোনো এক নির্জন স্থানে তাদের ফেলে দিয়ে ট্রাকে থাকা ধান, চাল, গরু, মাছের খাবার ইত্যাদি ডাকাতি করে থাকেন। এরপর ডাকাতি করা ঐ ট্রাকটি নিয়ে আবার অন্য কোথাও ডাকাতি করেন। গ্রেফতারের দিনও  বেড়িবাঁধ এলাকায় চালবাহী ট্রাকে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছিলেন বলে স্বীকার করেছেন তারা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, এদের দলনেতা বর্তমান সময়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ডাকাত আসলামুল হক ওরফে আসলাম। তাকে দলের অন্য ডাকাতরা ‘মাস্টার’ নামে ডাকে। আসলামের নেতৃত্বে তারা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল, জামালপুর, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, শরিয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও যশোর এলাকায় ডাকাতি করেছেন।

তিনি আরো বলেন, করোনাকালে এবং পরবর্তী সময়ে প্রথমে ৪০ এরপর ১৬ আর আজ চারজনকে নিয়ে ৬০ জনের সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাতদলের সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগ। তারা গ্রেফতার হচ্ছেন, জেলে যাচ্ছেন, আবার বের হয়ে একই কাজে লিপ্ত হচ্ছেন।

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, যেখানে যে ঘটনাই ঘটুক, না কেন, সে ঘটনাগুলো থানা পুলিশ বা ডিবিকে জানানোর অনুরোধ করেন পুলিশের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ডিএমপির শাহ আলী থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি জানান, গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল ইসলামের নির্দেশে, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে, তেজগাঁও জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাহাদত হোসেন সুমার নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।