অনলাইন ডেস্ক :
গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনগাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ আশঙ্কায় ভোটের সময়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৬ এপ্রিল) গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই সভায় খুলনার তুলনায় গাজীপুরের পরিস্থিতি নিয়ে বেশি শঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, জামিনে থাকা কয়েকজন জঙ্গির (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) বাড়ি গাজীপুরে। তারা সেখানে অবস্থান করছে। এসব জঙ্গিদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
জানা গেছে, বৈঠকে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়ে ফেসবুকের গুজব থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের আগে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ওই দুই সিটিতে প্রচুর সংখ্যক ভাসমান ভোটার রয়েছেন, যারা শিল্প কারখানায় চাকরি করেন। ভোটের মতো স্পর্শকতার সময়ে এমন পরিস্থিতি হলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। তাই ভোটের সময়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের প্রস্তাব দেন তারা।
তবে এমন আশঙ্কার জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা তাদের বলেছেন, ‘গুজব বন্ধে কার্যকর মাধ্যম হচ্ছে কাউন্সিলিং। প্রতিটি সংস্থা ও রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষ থেকে প্রার্থীদের কাউন্সিলিং করা হলে গুজব রটিয়েও পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে পারবে না।’
বৈঠক শেষে আলোচনার বিষয়ে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া দিয়ে অনেক ধরনের প্রোপাগান্ডা চালানো হয়। গুজব ছড়ানো হয়। এটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সে বিষয়ে প্রস্তাব এসেছে। নির্বাচন কমিশন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়েছেন। বিটিআরসি, মোবাইল অপারেটরসহ সোশ্যাল মিডিয়া যারা নিয়ন্ত্রণ করে কমিশন তাদের সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ভোটের সময়ে মোবাইল ফোন বা ফেসবুক বন্ধ রাখা হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় ফেসবুক ব্যবহার করে কীভাবে গুজব রটিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে সেটাকে উদাহরণ হিসেবে টেনে নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আগামী ১৫মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গাজীপুরে সাতজন মেয়র ও ৩৪০ জন নারী ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর খুলনা সিটিতে পাঁচ জন মেয়র ও ১৮৬ জন নারী ও সাধারণ কাউন্সিলর রয়েছেন। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভার কার্যপত্রে প্রতিটি ওয়ার্ডে পুলিশের একটি ও র্যাবের একটি মোবাইল টিম রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ হিসাবে গাজীপুরে ৫৭টি করে এবং খুলনায় ৩১টি টিম থাকার কথা। কিন্তু বৈঠকে পর্যালোচনার পর ওই সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।
বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান (ঢাকার পাশে থাকা), যাতায়াত ব্যবস্থা, ভোটার ও জনসংখ্যাসহ কয়েকটি দিক বিবেচনায় খুলনার তুলনায় গাজীপুর বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এ সিটি করপোরেশন এলাকায় ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন, যার মধ্যে একটি অংশ ভাসমান। অপরদিকে খুলনার ভোটার ৪ লাখ ৯৩ হাজার। এছাড়া গাজীপুরের অনেক ভোটকেন্দ্রে যাতায়াতের পথও খারাপ। ওই সব কেন্দ্রে সহিংসতা হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সেখানে যাওয়া সময়সাপেক্ষ। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে নিরাপত্তা ছক সাজানোর পরামর্শ দেন তিনি।
বৈঠকে বেশিরভাগ সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা বলেন, গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় অনেক শিল্প কারখানায় প্রচুর সংখ্যক শ্রমিক রয়েছে। মহান মে দিবসে এ দুই সিটিতে শ্রমিকদের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। অধিকার আদায়ের নামে ওই সমাবেশ থেকে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সেদিকে সবার নজর রাখা প্রয়োজন।
বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, সংসদ নির্বাচনের আগে এ দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন ইসির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে কোনও অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিইসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুলিশের আইজি ড. জাবেদ পাটোয়ারি, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) মীর শহীদুল ইসলাম, বিজিবির ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনিছুর রহমান, গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই’র মেজবাহ উদ্দিন, ডিজিএফআই’র কর্নেল মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, র্যাবের কর্নেল মো. আনোয়ার লতিফ খান, গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।