অনলাইন ডেস্ক : আগামী মাসের ৫ মে বাংলাদেশ সময় বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে ফ্লোরিডার ক্যাপ ক্যানাভেরালে অবস্থিত স্পেস এক্সের লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হবে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎক্ষেপণের পর আগামী তিন বছরে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে প্রয়োজনে লাগতে পারে আরও স্যাটেলাইটের। আর এই চাহিদা মেটাতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ নিয়ে ভাবছে সরকার।
খাত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২০টি দেশে ব্যবহারের জন্য রেখে বাকিগুলো অন্যান্য দেশের কাছে বিক্রি করা হবে। পরবর্তী দুই বা তিন বছর পর ওই ২০টি ট্রান্সপন্ডারও হয়তো দেশের জন্য প্রয়োজন হবে। ফলে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন পড়তে পারে অপর একটি স্যাটেলাইটের।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২৬টি কেইউ-ব্যান্ড ও ১৪টি সি-ব্যান্ডের। ওই ট্রান্সপন্ডারগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২০টি ব্যবহার করবে বাংলাদেশ। এই কক্ষপথ থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও সার্কভুক্ত সব দেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও কাজাখস্তানের কিছু অংশ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আওতায় আসবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এই স্যাটেলাইট দিয়ে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না।
এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের স্যাটেলাইটের স্বাভাবিক আয়ু হচ্ছে ১৫ বছর। আমরা বর্তমানে মনে করছি আমাদের কাছে থাকা ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে অর্ধেকটি ব্যবহার করতে পারব। বাকিগুলো আমরা বিদেশিদের কাছে দিতে পারব। আমার নিজের ধারণা, এইটা হয়তো দুই থেকে তিন বছরের ঘটনা। এরপর হয়তো দেখা যাবে আমাদের নিজেদের ক্যাপাসিটিই কুলাচ্ছে না। যে কারণে হয়তো আমাদের মাথার মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ ঘুরতেছে।’
এদিকে দেশের প্রথম স্যাটেলাইটের পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা থাকবে বলেও মন্ত্রী জানান। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যেসব সেবা দেওয়া হবে তা এক মুহূর্তের জন্যেও বিঘিœত হবে না।
উৎক্ষেপণের দৃশ্য দেশের গণমাধ্যমগুলোতে সরাসরি দেখানো হবে। এ ছাড়া জাতীয়ভাবে উৎক্ষেপণের এই আনন্দ উৎসব আকারে উদযাপন করা হবে ৮ মে। ওই দিন সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে জাতীয়ভাবে এই উৎসব উদযাপন করা হবে।
উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে গেলে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হবে বাংলাদেশ। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের অবস্থান হবে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।
২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণের লক্ষ্যে ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালেস এলেনিয়া স্পেসের সঙ্গে চুক্তি করে বিটিআরসি। চুক্তি অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কাঠামো, উৎক্ষেপণ, ভূমি ও মহাকাশের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, ভূস্তরে দুটি স্টেশন পরিচালনা ও নির্মাণে ঋণের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব পালন করছে ফরাসি প্রতিষ্ঠানটি।