অনলাইন ডেস্ক : আলোচিত পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের চাকরিতে থাকা না থাকা নিয়ে চোর-পুলিশ খেলা চলছে। বাবুল আক্তারের পদত্যাগ নিয়ে রীতিমতো নাটক জমে উঠেছে। সেই নাটকে রসদ জুগিয়েছেন বাবুল আক্তার নিজেই। চাকরি থেকে অব্যাহতিপত্র প্রত্যাহার এবং চাকরি ফেরত চেয়ে তিনি ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং পুলিশ সদর দফতরে দুটি আবেদন করেছেন। এই আবেদনের মধ্য দিয়ে বাবুল আক্তারের চাকরি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে বিতর্ক চলছে তাতে নতুন মাত্রা যোগ হলো। কারণ বাবুল আক্তার তার একটি আবেদনপত্রে উল্লেখ করেছেন, তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে বাধ্য হয়ে চাকরির অব্যাহতিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। সেটি তিনি স্বেচ্ছায় দাখিল করেননি বলেও দাবি করেছেন আবেদনে। এ অবস্থায় বাবুল আক্তার নাটকের শেষ কোথায়, তা নিয়েই সবার আগ্রহ তুঙ্গে উঠেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. এ কে এম মোজাম্মেল হকের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করে ও এসএমএস পাঠিয়ে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। অবশ্য পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (প্রশাসন) বিনয় কৃষ্ণ বালার কাছে চাকরি পুনর্বহালের আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বাংলাদেশ সার্ভিস রুল অনুযায়ী চাকরি থেকে একবার পদত্যাগ করলে সেটি প্রত্যাহারের আর কোনো সুযোগ নেই। বাবুল চাকরি পুনর্বহালের যে আবেদন করেছেন সেটি করার কোনো সুযোগ নেই জেনেই তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবরে পূর্বের করা পদত্যাগপত্রটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, এসপি বাবুল আক্তার চাকরি থেকে অব্যাহতির যে আবেদন করেছিলেন সেটি আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সেখান থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৯ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর করা আবেদনে তিনি চাকরি থেকে অব্যাহতির যে পত্র দিয়েছিলেন সেটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রত্যাহারের আবেদন করে বাবুল আক্তার তার আবেদনপত্রে লিখেছেন, ‘বিগত ০৫/০৬/২০১৬ ইং তারিখে আমার স্ত্রী নির্মমভাবে খুন হন। ওই ঘটনার পর দুটি অবুঝ শিশু সন্তান নিয়ে আমি সীমাহীন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাই। আমি এতটাই শোকাহত ছিলাম যে, শুধু সন্তানদের কথা ভেবে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। শোকগ্রস্ত ও অসহায় অবস্থায় আমি যখন জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় অতিবাহিত করছিলাম, সেই সময় বিগত ২৪/০৬/২০১৬ ইং তারিখে পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাধ্য হয়ে আমাকে চাকরির অব্যাহতিপত্রে স্বাক্ষর করতে হয়। স্ত্রীর মৃত্যুশোক, সদ্য মা-হারা দুটি শিশুর ব্যাকুলতার প্রতিকূল ও বিপর্যস্ত মানসিক অবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে আমি চাকরি হতে অব্যাহতির আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করি। একজন সৎ পুলিশ অফিসার হিসেবে এবং আমার সন্তানদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন এই চাকরি। এমতাবস্থায়, উক্ত অব্যাহতিপত্রটি প্রত্যাহারের আবেদন জানাচ্ছি, যা আমি স্বেচ্ছায় দাখিল করিনি। অতএব, বিনীত নিবেদন এই যে, গত ২৪/০৬/২০১৬ ইং পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে দাখিলকৃত চাকরি হতে অব্যাহতির আবেদনপত্রটি প্রত্যাহারপূর্বক আমাকে চাকরির সুযোগদানের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জনাবের সদয় মর্জি হয়।’ সিনিয়র সচিব বরাবরে করা বাবুল আক্তারের এই আবেদনটি ৯ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘রিসিভ’ করে। সূত্র জানায়, এই আবেদনের আগে ৪ আগস্ট পুলিশ সদর দফতরে আরেকটি আবেদন করেন বাবুল আক্তার। পুলিশ সদর দফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এটি ‘রিসিভ’ করেছেন। যাতে তিনি কাজে যোগদানের অনুমতি চেয়েছেন। যাতে তিনি উল্লেখ করেন, Duties resume (দায়িত্বে পুনর্বহাল) করতে চাই। পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (প্রশাসন) বরাবরে করা এই আবেদনপত্রে এসপি বাবুল আক্তার লিখেছেন, ‘গত ৫ জুন আমার স্ত্রী আততায়ীর হাতে নিহত হন। ওই ঘটনার সময় এবং পরবর্তীতে সরকার এবং আমার সহকর্মীদের কাছ থেকে যে সহযোগিতা ও সহমর্মিতা পেয়েছি, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। ঘটনার আকস্মিকতায় বিপর্যস্ত আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে আমার শ্বশুরের বাড়িতে অবস্থান করি। সর্বোপরি, আমার দুটি ছোট ছোট বাচ্চা তাদের মাকে হারিয়ে এতটাই অস্বাভাবিক হয়ে যায় যে, তাদের সঙ্গ দেওয়া ছাড়াও একাধিকবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়। এই কঠিন সময়ের প্রতিটি পর্যায়ে আমি আমার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। তারা উদারতার সঙ্গে আমাকে মৌখিকভাবে মা-হারা দুটি বাচ্চার সঙ্গে সময় কাটানোর এবং আমাকে মানসিক বিপর্যস্ততা থেকে উত্তরণের জন্য অকুণ্ঠ সহযোগিতা দিয়েছেন। একজন সৎ অফিসার হিসেবে আমার এবং আমার সন্তানদের জন্য বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন আমার চাকরি। এমতাবস্থায়, আমি অদ্য ০৪/০৮/২০১৬ ইং তারিখ পূর্বাহ্ন হতে আমার Duties resume (দায়িত্বে পুনর্বহাল) করতে চাই। এবং এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে জনাবের মর্জি হয়।’