অনলাইন ডেস্ক : ‘আমি টিউশনি পড়িয়ে যে টাকা পাই তা দিয়েই পুরো মাস চলি। সাভার থেকে ফেরার পথে ক্যাম্পাসের সামনের রাস্তায় অস্ত্র ঠেকিয়ে আমার সব ওরা নিয়ে গেল। সামনে ঈদ, এই মাসটা আমি কিভাবে চলব? এই ঘটনা শুধু এবারই প্রথম আমার সঙ্গে হয়নি, এর আগেও অনেকজনের সঙ্গে ঘটেছে। এভাবে আর কত দিন?’ বিষণ্ন মনে কথাগুলো বলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মাহমুদুল হাফিজ।

গত শুক্রবার রাতে টিউশনি থেকে ফেরার পথে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সিঅ্যান্ডবি থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের মধ্যবর্তী রাস্তায় ছিনতাইয়ের শিকার হন তিনি। চলতি বছর মাহমুদুলের মতো আরো অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ও পথচারী একই জায়গায় ছিনতাইয়ের শিকার হলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে চক্রটি। ফলে প্রতিনিয়ত সেখানে ছিনতাইয়ের কবলে পড়ছে পথচারীরা। সম্প্রতি ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও এর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাভারের সিঅ্যান্ডবি থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের এই অংশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে। এ কারণে ছিনতাই ঘটলে পুলিশকে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ভৌগোলিকভাবে ছিনতাইয়ের জায়গা পার্শ্ববর্তী দুই থানা আশুলিয়া ও সাভারের ঠিক মধ্যবর্তী। ঠিক কোন থানার আওতায় ছিনতাই, তা নিয়ে প্রায়ই দ্বিধাদ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। ঘটনা ঘটলে অন্য থানার অন্তর্ভুক্ত এলাকা বলে এড়িয়ে যায় উভয় থানার পুলিশ। আর দুই থানার মধ্যবর্তী এই জায়গাটিকেই ছিনতাইয়ের জন্য উপযুক্ত বিবেচনা করে এই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে ছিনতাইকারীরা।

পূর্বে শুধু ছিনতাই ঘটলেও ক্রমে তা ভয়ানক হয়ে উঠছে। সম্প্রতি ছিনতাইয়ের সময়ে পথচারী ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নেশাগ্রস্ত বিশৃঙ্খল কয়েকজন শিক্ষার্থীর মদদে এ ঘটনা ঘটিয়ে আসছে পাশের কলমা, ডেইরি ফার্ম ও সাভারের কয়েকজন বখাটে যুবক।

এদিকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও বিষয়টি নিয়ে কার্যকর কোনো ব্যাবস্থা নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে হতাশা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মো. তৌফিক হাসান বলেন, ‘ঠিক ওই জায়গাটিতে দু-এক দিন পর পর ছিনতাই ঘটছে। এত দিন ধরে ছিনতাই ঘটলেও এখনো বন্ধ করা যাচ্ছে না। ওরা পুলিশের চেয়েও ক্ষমতাধর, নাকি পুলিশের আগ্রহের অভাব?’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, ‘প্রায়ই এ রকম ছিনতাই ঘটছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আহত হচ্ছে, যা খুবই দুঃখজনক। গতকালও এ রকম একটি ঘটনা ঘটেছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এটি বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা পুলিশ আমাদের কোনো সহযোগিতা চাইলে আমরা যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, ‘মহাসড়কে প্রায়ই এই ঘটার ফলে এটি ছিনতাইপ্রবণ জায়গায় পরিণত হয়েছে। বিষয়টি আমরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আমাদের পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই এই সমস্যা থেকে উত্তরণ পাব।’ বিশৃঙ্খল শিক্ষার্থীর মদদে এমনটি ঘটছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া কোনো শিক্ষার্থী এমন কাজের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তার পরও যদি আমরা এ রকম কোনো প্রমাণ পাই তবে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’