দগ্ধদের এমনই একজন মোহাম্মদ বাবুল। তার শরীরের ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা বাবুলের পাশে বসে কাঁদছেন মা।
ঐদিন ডিপোতে কাজ শেষে বাসায় ফিরে যান বাঁশখালী উপজেলার জলদি এলাকার বাসিন্দা অর্পণ কর। ডিপোতে আগুন লাগার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান তিনি। সেখানেই বিস্ফোরণে আহত হন। পরে বোন রুম্পা করকে ফোন দিয়ে বলেন- আমি বাঁচবো না। আমাকে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাও।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর চমেক হাসপাতালে অর্পণের সন্ধান পায় পরিবার। অর্পণের মতোই আগুনের খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে আহত হন ডিপোর সুপারভাইজার রতন। তিনিও এখন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
ডিপোটিতে আইটি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তিন বছর ধরে কর্মরত আছেন একই উপজেলার দক্ষিণ সলিমপুর গ্রামের দিদারুল আলমের ছেলে মোহাম্মদ তোফাজ্জল। সন্ধ্যায় তার অফিস শেষ হলেও আগুন লাগার খবর পেয়ে কারখানায় ছুটে যান তিনি। সেখানে বিস্ফোরণে তিনিও দগ্ধ হন। পরে মাকে ফোন করে বলেন- আমি মারা যাচ্ছি। আমাকে বাঁচাও।
ফেনীর বাসিন্দা নূর আহম্মদ। ডিপোতে কনটেইনার চেক করার দায়িত্ব ছিল তার। শনিবার রাত থেকেই ছিল তার ডিউটি। ফলে দুর্ভাগ্যক্রমে বিস্ফারণে দগ্ধ হয়ে তিনিও এখন হাসপাতালে। ঘটনার পর থেকে অজ্ঞান ছিলেন নূর আহম্মদ। পরে হাসপাতালে জ্ঞান ফিরলে দেখতে পান- তার পাশে বসে বাতাস করছিলেন আর চোখের জল মুছে দিচ্ছিলেন মা।
রোগীদের অবস্থা সম্পর্কে চমেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেন, আগুনে দগ্ধদের বেশিরভাগের চোখ ও শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালের ৩৬ নম্বর বার্ন ইউনিট ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন অর্ধশতাধিক। বার্ন ইউনিটে আসন সংকটের কারণে ৩১ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলছে। আহতদের মধ্যে থেকে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।
রোববার বার্ন ইউনিট ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, আহতদের মধ্যে শ্বাসনালী ও চোখ পুড়ে যাওয়াদের সংখ্যা বেশি।
বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ বলেন, আহতদের শরীরের তিন থেকে ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। বেশিরভাগ শ্বাসনালী ও চোখ পোড়া রোগী। শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়া রোগীদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।