লোকপ্রশাসন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক শামীমা তাসনিম জানান, বুলবুলের অকাল মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। বুলবুলের মৃত্যুর পরেরদিন তাদের বর্ষের ভাইভার সময়সূচি নির্ধারিত ছিল। তার আর ভাইভা দেওয়া হয়নি। বুলবুলের মৃত্যুর পর থেকে তার বিভাগে কোনো ক্লাস, পরীক্ষা বা ভাইভা নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষার শিডিউল ছিল। সবাই এখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
শামীমা তাসনিম বলেন, তার এভাবে মৃত্যু ঘটবে আমরা কেউ ভাবতেও পারিনি। তার সহপাঠীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় প্রধানকে জানায় যে, তারা এই অবস্থায় ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত না। পরে ১০ দিনের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধের আবেদন করে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৪ আগস্ট পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে।
বুলবুলের একাধিক সহপাঠীরা জানায়, বুলবুলের মৃত্যুতে আমরা সবাই বন্ধু শূন্যতা অনুভব করছি। আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল। যেদিন বুলবুল মারা গেছে এর আগের দিন আমাদের পরীক্ষার ‘একটি সেমিনার’ ছিল। বুলবুল এতে অংশ নেয়। আর যেদিন মারা গেছে এর পরের দিন আমাদের ভাইভা ছিল। এরপর তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্লাস রুটিন পেয়ে যেতাম। কিন্তু বুলবুলের আর ভাইভা দেওয়া হলো না। ছিনতাইকারীরা তাকে বাঁচতে দেয়নি। আমরা সবাই শোকাহত। খুব মেধাবী ছাত্র ছিল সে। ও থাকলে আমরা আরো অনেক দূর আগাইতে পারতাম। অনেক ভালো পড়াশোনা করতাম।
বিশ্ববিদ্যালয়ে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল
শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বুলবুলের রূহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। আগামী রোববার বুলবুলের বিভাগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।