অনলাইন ডেস্ক : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে ভোট হচ্ছে।

আজ সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ৫৭টি ওয়ার্ডের ৪২৫ কেন্দ্রে দুই হাজার ৭৬১টি কক্ষে ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ভিড় দেখা গেছে। ভোট কেন্দ্র করে নারী-পুরুষ সবার মধ্যেই বিরাজ করছে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ।

এর আগে সোমবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী মালামাল পৌঁছে গেছে। এদিন নগরীর রাস্তায় রাস্তায় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যদের গাড়িবহর নিয়ে সাইরেন বাজিয়ে টহল দিতে দেখা গেছে।

প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তায় মাঠে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১২ হাজার সদস্য। ভোটকেন্দ্রে কেউ কারচুপির চেষ্টা করলে প্রয়োজনে পুলিশকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সাত প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম (নৌকা) ও বিএনপি মনোনীত মো. হাসান উদ্দিন সরকার (ধানের শীষ)। এর বাইরেও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী ঐক্যজোটের ফজলুর রহমান (মিনার), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নাসির উদ্দিন (হাতপাখা), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. জালাল উদ্দিন (মোমবাতি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাজী মো. রুহুল আমিন (কাঁস্তে) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ আহমদ (টেবিল ঘড়ি)। নির্বাচনী প্রচারে ভোটারদের টানতে মেয়রপ্রার্থীরা সব চেষ্টাই করেছেন। দিয়েছেন নানা ধরনের প্রতিশ্রুতিও।

এ সিটি কর্পোরেশনে ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩৫ ও নারী ভোটার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮০১ জন। এ নগরীতে নতুন ভোটার ১ লাখ ১১ হাজার। এ ছাড়া শ্রমিক ভোটার দুই লাখের বেশি। নির্বাচনে নারী, নতুন ও শ্রমিক ভোটাররাই প্রধান ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় নেতারা।

সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে গাজীপুরবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মণ্ডল। তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো অনিয়ম ও সহিংসতা হতে দেয়া হবে না। নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে গাজীপুর। উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করছে। ভোটাররা নির্ভয়ে তাদের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন।

ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারই প্রথম প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ইনচার্জদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ব্যালট পেপারে কেউ অবৈধ হস্তক্ষেপ করলে সরাসরি গুলি করতে ভোটকেন্দ্র ইনচার্জদের নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া ছয়টি পয়েন্টে নির্বাচনী মালামাল বিতরণ করা হয়েছে। সব কেন্দ্রে নিরাপদে মালামাল পৌঁছেছে।

সর্বশেষ গাজীপুর সিটিতে ২০১৩ সালের ৬ জুলাই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানকে হারিয়ে বিএনপির অধ্যাপক এমএ মান্নান এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে মেয়র নির্বাচিত হন। এবার এ দুজনের কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপির হাসান সরকার। গাজীপুর সিটিতে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে মেয়র নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

৩১ মার্চ তফসিল ঘোষণার ৮৬ দিন পর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ভোটার ও প্রার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হচ্ছে। ১৫ মে গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও ৩৬ দিন নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার পর আইনি জটিলতায় মাঝপথে আটকে যায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।

পরে আপিল বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিটি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত বড় কোনো সহিংস ঘটনা না ঘটনায় স্বস্তিতে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ছয় কেন্দ্রে ইভিএম : গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ছয়টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ভোটগ্রহণ চলছে। কেন্দ্রগুলো হল- চাপুলিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ভোটার ২৪৮০), চাপুলিয়া মফিজউদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয় (ভোটার ২৫৫২), পশ্চিম জয়দেবপুরের মারিয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র-১ (ভোটার ২৫৬২), মারিয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র-২ (ভোটার ২৮২৭), রানী বিলাসমনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র-১ (ভোটার-১৯২৭) ও রানী বিলাসমনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র-২ (ভোটার-২০৭৭)।