জ্যৈষ্ঠ মাস যেতে যেতেই কমে আসবে আম, জাম, কাঁঠাল। গাছ আসবে কদম, কেয়া, দোলনচাঁপা, নয়নতারা।

জ্যৈষ্ঠ মাসে সূর্যের তাপে প্রকৃতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সাধারণ মার্চের শেষ দিক থেকে গ্রীষ্মকাল আরম্ভ হয়ে মে মাস পর্যন্ত বহাল থাকে। এই সময় অধিকাংশ অগভীর জলাশয় শুকিয়ে যায়। তীব্র তাপে ফেটে যায় মাঠটিও। 

কিন্তু এমন তাপও যেন প্রকৃতিকে দিতে পারে তৃপ্তির ছোঁয়া। তার প্রমাণও আছে। ঋতুর প্রধান ফল- আম, জাম, কাঁঠাল আর লিচুর স্বাদ যেন গরমের আরাম হয়েই উপস্থিত হয় মানুষের মধ্যে। শুধু কি তাই? এই সময়ে আনারস, তরমুজ, ডেউয়া, লটকন, গোলাপ জাম, বেতফল, গাব, জামরুল, আতাফল, কাউ, শরীফা প্রভৃতি ফল পাওয়া যায়। এমন ফলের মৌ মৌ ঘ্রাণে জ্যৈষ্ঠ মাস বাঙালির কাছে বেশ পছন্দের মাস হিসেবে স্থান পেয়েছে সেই আদিকাল থেকেই। 

গ্রীষ্মকালের দুরন্তপনা।

আজ রাত পোহালেই আসছে আষাঢ় মাস। জ্যৈষ্ঠ মাস যেতে যেতেই কমে আসবে আম, জাম, কাঁঠাল। গাছ আসবে কদম, কেয়া, দোলনচাঁপা, নয়নতারা আর বেলি ফোটার দিন। 

জ্যৈষ্ঠ মাসের উত্তাপ কাটিয়ে জীবনকে প্রশান্তি দিতে আসে আষাঢ়। বর্ষণে বর্ষণে চারদিক ভিজিয়ে দেয়। ভাসিয়ে নিয়ে যায় প্রকৃতির জড়তা। সতেজ হয়ে ওঠে চারপাশ। গাছে গাছে আসে নতুন পাতার সমারোহ। আর তাই আষাঢ় জুড়ে নব উদ্যমে সাজে বাঙালির মন। 

যখন বর্ষার আগমন ঘটে, ঠিক তখনই কবি সুনির্মল বসু প্রকৃতির মায়াবী রূপের ছবি এঁকেছেন। সজল মেঘ মেদুর এর অপরূপ আষাঢ়ের সঙ্গে রয়েছে বাঙ্গালির আজন্মকালের বন্ধন। শস্য – শ্যামলা আনন্দঘন নবান্ন উৎসবের নেপথ্য যেন এই মাসটিই হাতছানি দেয়। গ্রীষ্মক্লান্ত এ দেশের প্রকৃতিকে বর্ষা তার আপন প্রেম পেয়ালার পবিত্র জলে সিক্ত করে। জলরঙে রাঙিয়ে দেয় ধরণী। 

বর্ষার পবিত্র জলে ধুয়ে যাবে ধরণী। ছবি: সংগৃহীত

আবার তারই অপ্রসন্ন অভিমানী দৃষ্টিতে ঘরে ঘরে অন্তহীন সংহার রূপে মানুষ আতঙ্কিত হয়। আষাঢ় একদিকে যেমন গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে আশীর্বাদ, অন্যদিকে দরিদ্র গ্রামবাসী বা অনাহারী ফুটপাতবাসীদের কাছে দুঃখেরও একটি কারণ হয়ে ওঠে। এ যেন এক চোখে অশ্রু, অন্য চোখে হাসি। তবুও বর্ষা আমাদের কাছে অতি আদরের ও অনন্ত বেদনার ঋতু রূপে পরিচিত। আর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ জীবন প্রবাহের এক অপরিহার্য কল্যাণী ঋতুও এই বর্ষা।

অনাদিকাল থেকেই বাংলার প্রকৃতি- পরিবেশ ও মানুষের মননে আষাঢ় প্রভাব রেখেছে ইতিবাচক। বাংলার কবি সাহিত্যিকরা আষাঢ় মাসকে নিয়ে লিখে গেছেন নানা গান, কবিতা। বেধেছেন জীবনের জয়গান। গায়েন গেয়েছেন বর্ষা মঙ্গলের গান। 

বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে দূর আকাশের পানে চেয়ে নস্টালজিয়ায় ভুগবেন কেউ কেউ। আবার নগরবাসীর কেউ কেউ চোখ মেলে খুঁজবেন বৃষ্টি ভেজা কাক বা শালিকদের। গৃহিণীরা রাঁধবেন খিচুড়ি আর ইলিশ ভাজি। জীবনটা স্বপ্নময় বা নস্টালজিয়ায় ভোগাতে বৃষ্টির যেন জুড়ি নেই। হয়তো আষাঢ় মাসকে ঘিরে মনের উদয় হবে বিচিত্র এক রূপ!