ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্তোৎসবে বুকে-পিঠে অশ্লীল লেখার ঘটনায় পদত্যাগ করলেন উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরী। শুক্রবার রাতে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় ও শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে পাঠান। যদিও শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি এখনও উপাচার্যের পদত্যাগপত্র পাননি।

রবীন্দ্রভারতীর বসন্তোৎসব যথেষ্ট বিখ্যাত। প্রায় মাসখানেক আগে থেকেই শুরু হয়ে প্রবেশপত্র বিলির কাজ। ওই একটিমাত্র দিনই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকতে দেওয়া হয় প্রায় সবাইকে। ফলে বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা বসন্তোৎসবে শামিল হন। বৃহস্পতিবারও ওই নিয়মের ব্যত্যয় হয়নি। তবে ঐতিহ্যমণ্ডিত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই উঠেছে বিতর্কের ঝড়। বসন্তোৎসবের বেশ কয়েকটি ছবি এবং ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে সমালোচনায় সরব বিভিন্ন মহল। ভাইরাল হওয়া ওই ছবিতে দেখা গিয়েছে বেশ কয়েকজন তরুণ-তরুণীর পিঠে, বুকে লেখা রয়েছে গালিগালাজ। এমনকি, ভিডিওয় দেখা গিয়েছে অশ্লীল সংগীতের তালে তালে নাচছে অনেকেই।

ওই ছবি নিয়ে নেটদুনিয়ায় শোরগোল পড়ার পরই নড়েচড়ে বসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ছাত্র সংসদের সদস্যরা। সিঁথি থানায় এ নিয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ভাইরাল হওয়া ওই ছবিতে যাদের দেখা গিয়েছে তারা বহিরাগত। হুগলি, চন্দননগর, চুঁচুড়ার বিভিন্ন কলেজ থেকে বসন্তোৎসবে যোগ দিতে এসেছিল তারা। তবে এ দাবি মানতে নারাজ অনেকে। তাদের প্রশ্ন, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা জড়িত না থাকলে কি শুধুমাত্র বহিরাগতদের পক্ষে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করা সম্ভব?

এইসব প্রশ্নের মাঝেই শুক্রবার রাতে ইস্তফা দিলেন উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরী। নিয়ম মাফিক তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় ও শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি এখনও রবীন্দ্রভারতীর উপাচার্যের কোনও পদত্যাগপত্র পাননি। খবর: সংবাদ প্রতিদিন