অনলাইন ডেস্ক : পুলিশ কর্মকর্তা মামুন ইমরান খান হত্যাকা-ে নাটের গুরু ছিলেন শেখ হৃদয় ওরফে আপন ওরফে রবিউল। পুলিশ কর্মকর্তা মামুন ইমরান খানের বন্ধু রহমতকে বনানীর ফ্ল্যাটে ডাকা, পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা থেকে শুরু করে লাশ গুম সব কিছু করে শেখ হৃদয়। রহমত নিজের প্রাণ বাঁচাতে শেখ হৃদয়ের কথামতো পুলিশ কর্মকর্তার লাশ গুমে অংশ নেয়।
পুলিশের তদন্তকারী সূত্রগুলো বলেছে, শেখ হৃদয়ের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে তৎপর ছিল একটি প্রতারক গ্রুপ। তারা অভিজাত এলাকার ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে কথিত মডেল, অভিনেত্রীদের দিয়ে ওই ফ্ল্যাটে অসামাজিক কার্যকলাপ চালাত। এর সঙ্গে অসামাজিক কার্যকলাপ করতে যাওয়া

ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় করত। ঘটনার রাতে শেখ হৃদয় ওরফে আপনের টার্গেট ছিল পুলিশ কর্মকর্তার বন্ধু রহমতকে ফাঁদে আটকে অর্থ আদায়। কিন্তু রহমত যে পুলিশ কর্মকর্তা মামুন ইমরান খানকে সঙ্গে আনবেন, তা কোনোভাবেই তাদের ভাবনায় ছিল না। ওইদিন কথিত মডেল ও অভিনেত্রী মেহেরুন নেছা ওরফে আফরিনকে দিয়েই রহমতকে ডেকে আনে। যথারীতি ঘটনার রাতে পুলিশ কর্মকর্তা মামুন ইমরান খানকে নিয়ে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল শেখ হৃদয়ের দ্বিতীয় স্ত্রী কেয়া, ফারিয়া বিনতে মিম ওরফে মাইশা ও আফরিন।
ঘাতকচক্রের অন্য সদস্যরা পুলিশ কর্মকর্তা মামুন ও তার বন্ধু রহমত আসার পরে প্রবেশ করে। শেখ হৃদয় ওরফে আপন অশ্লীল ছবি তুলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতে প্রথমে রহমতকে অসামাজিক কাজে জড়ানোর চেষ্টা করে। রহমত এতে বাধা দিলে প্রতারকচক্রের সদস্যরা রহমতকে কিলঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে রহমত তার বন্ধু মামুন যে পুলিশ কর্মকর্তা, বিষয়টি প্রকাশ করে। তখন প্রতারকচক্রের সদস্যরা মামুন ইমরান খানকে মারতে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তা মারা যান। তখন প্রতারকচক্রের দলনেতা শেখ হৃদয় ওরফে আপনের নির্দেশেই লাশ গুমের আয়োজন চলতে থাকে। আর মুখ খুললে রহমতকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তখন রহমত বাধ্য হয়ে তার গাড়িতে লাশ তুলে শেখ হৃদয়ের কথামতো গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। শেখ হৃদয় মোটরসাইকেলে ওই গাড়ির পেছন পেছন গাজীপুরে যায়।
পরে গাজীপুরের কালীগঞ্জের একটি জঙ্গলে মামুন ইমরান খানের বস্তাবন্দি লাশ ফেলে তাতে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে আবার ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। ঢাকায় আসার পথে রহমত রাস্তায় কৌশলে গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে ফেলে। এ সময় গাড়িতে থাকা প্রতারকচক্রের সদস্যরা দ্রুত নেমে পালিয়ে যায়। এ সময় রহমতও তাদের থেকে আলাদা হয়ে যায়।
রহমত পুলিশকে বলেছে, তার ধারণা ছিল মামুন ইমরান খান হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী না রাখতে তারা রহমতকে মেরে ফেলবে। এই ভয় থেকেই সে প্রতারকচক্র থেকে দুর্ঘটনার কৌশল করে পালিয়ে যায়।
তদন্তকারী সূত্রগুলো বলেছে, গত মে মাসে নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ৪৫ হাজার টাকায় বনানীর ২/৩ সড়কের ৫ নম্বর ভবনের এ-২ ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয়। আর তার কাছ থেকে ভাড়া নেয় শেখ হৃদয় ওরফে আপন ওরফে রবিউল। সেখানে বায়িং হাউস ও ‘মায়ের আঁচল’ নামে একটি বৃদ্ধাশ্রম ও শোবিজ মিডিয়ার কার্যালয়ের আড়ালে শেখ হৃদয় অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়া গড়ে তোলে। সেখানে কথিত অভিনেত্রী ও মডেল আফরিন, ফারিয়া বিনতে মিম ওরফে মাইশা ও সুরাইয়া আক্তার কেয়া আগত ব্যক্তিদের সঙ্গ দিত।
শেখ হৃদয়সহ চক্রের অন্য সদস্যরা ওই ৩ নারীর সঙ্গে ফ্ল্যাটে আগত ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ ছবি তুলে প্রতারণা করত। ৩ নারীর মধ্যে কেয়া প্রতারকচক্রের হোতা শেখ হৃদয় ওরফে আপনের দ্বিতীয় স্ত্রী। অপর ২ জন আপন ২ বোন। ঘটনার রাতে (৮ জুলাই) পুলিশ কর্মকর্তা মামুন ইমরান খান প্রথম ওই ফ্ল্যাটে যান। তাকে আফরিনের জন্মদিনের কথা বলে সেখানে নেওয়া হয়েছিল।
মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (পূর্ব) খোন্দকার নুরুন্নবী জানিয়েছেন, মামলা তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে। শিগগিরই এ ব্যাপারে বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।