অনলাইন ডেস্ক : ভারতের সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মারকান্দি কাটজু বলেছেন, রাজনীতিবিদরা দেশকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দিয়েছে। তারা লুটপাটে ব্যস্ত। ক্ষমতাসীন বিজেপি জনগণকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে। অন্যান্য দলগুলোও ধর্ম এবং গোষ্ঠীর মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে। দলগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এরকম একটি মহান দেশ (ভারত) গুন্ডাদের হাতে পড়েছে। তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া উচিত।

ভারতের একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, একবার চিন্তা করুন ডালের কেজি দুইশ রুপি, বেকারত্ব বাড়ছে। আমরা একটি সংকটের দিকে যাচ্ছি। এর অবসানে দরকার বিপ্লবের। এই পরিস্থিতিতে আপনি কোনো আশা দেখছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কাটজু বলেন, আমি অবশ্যই স্বপ্ন দেখি। সেটি অর্জন করতে হবে বিপ্লবের মাধ্যমে। আপনি ধরুন, একটি ভবন যদি জীর্ণদশায় যায়, সেটিকে আপনি ঠিক করতে পারেন। কিন্তু যেটি একদম সংস্কারের উপযোগী নয় তাকে ভেঙে নতুন ভবন তৈরি করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে যে ধারা চলছে সেটি সেকেলে। এই ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে দিতে হবে। আমাদের সকল প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে। পার্লামেন্ট সম্পর্কে তার বক্তব্য হচ্ছে, আমাদের আদৌ কি কোনো পার্লামেন্ট আছে? সেখানে সবসময় হৈ-হল্লা, খিস্তি খৈউর চলতেই থাকে। পার্লামেন্ট শেষ হয়ে গেছে। যখন যারা বিরোধী দলে থাকে তারা পার্লামেন্টকে কার্যকর করতে দেয় না। বিজেপি ক্ষমতায় থাকলে কংগ্রেস এই কাজটি করে। আর কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকলে বিজেপি একই কাজ করে।

তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থাও আমাদের শেষ হয়ে গেছে। একটি বিচার কাজ সম্পন্ন করতে ২৫ থেকে ৩০ বছর লাগে। এটা কৌতুকের মতো শোনায়। বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে আমি যুক্ত থাকলেও অর্ধেকের বেশি লোক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। আমলাতন্ত্রেরও একই অবস্থা। একেবারে অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে এই সব ব্যবস্থার খলনলচে বদলে দিতে হবে। কারণ এসব ব্যবস্থা টিকে থাকলে দেশ আরো পিছিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, কোথায় উন্নয়ন হচ্ছে, এসব ভাওতাবাজি। দুর্নীতি এবং মৌলবাদ এদুটোর মধ্যে কোনটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর এমন প্রশ্নের জবাবে কাটজু বলেন, দুটোই ক্ষতিকর, একটি অপরটির পরিপূরক। ভারতের বহুমাত্রিকতা রয়েছে। এখানে অনেক ধর্ম, বর্ণ এবং গোষ্ঠীর লোক বাস করে। সুতরাং ধর্ম নিরপেক্ষতা এবং সমঅধিকার এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। মনে রাখতে হবে মৌলবাদ ভারতের শত্রু, সেইসঙ্গে দুর্নীতিও। সুতরাং আমাদের কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু আমাদের রাজনীতিবিদরা কোনোদিন ঠিক হবে না। দেশের প্রতি তাদের কোনো ভালোবাসা নেই। তাদেরকে হয় গুলি করে অথবা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারতে হবে।