অনলাইন ডেস্ক : বুধবার সকালে এফডিসির সামনে তার দেওয়া বক্তব্য ধরে ‘রাজীবও ভুল করতে পারে’ বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষাপটে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে বিভ্রান্তির অবসান ঘটান তিনি।

তিনি বলেন, “ওই যে হেলপার ছেলেটি, হৃদয়ের নাম আমার তাৎক্ষণিকভাবে মনে আসেনি। হৃদয়ের ঘটনাকে বলেছি, তারও ভুল হতে পারে।

“রাজীবের ব্যাপারটা আমি পরিষ্কারভাবে বলেছি, গাড়ির রেষারেষি, ওভারটেকিং এবং কার আগে কে যাবে, প্রতিযোগিতায় এই ছেলেটির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।”

রাজীবের মৃত্যুর পরদিন সকালে নাম উল্লেখ না করে মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের বেশিরভাগ তা এই কলেজছাত্রের বলে ধরে নিয়েছিলেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকেও এই সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল, তবে পরে মন্ত্রীর বক্তব্যের সম্পূর্ণ অডিও শুনে সংবাদটি সংশোধন করা হয়।

সম্প্রতি ঢাকার কারওয়ানবাজারে দুই বাসের রেষারেষিতে পড়ে এক হাত হারান তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব, মাথায়ও আঘাত পান তিনি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে তার মৃত্যু ঘটে।

এই ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মঙ্গলবার গোপালগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় হৃদয় নামে ওই পরিবহন শ্রমিকের হাত।

এরপর বুধবার সকালে বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা পরিদর্শনের সময় এসব দুর্ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার কোনো ত্রুটি ছিল না বলে দাবি করেন।

তাহলে এসব দুর্ঘটনার জন্য কাকে দায়ী করবেন- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “গাড়িটা যারা চালাচ্ছে এবং গাড়িতে যারা আরোহী, তারা দায়ী। হতে পারে ওই ছেলেটাও ভুল করতে পারে। তার দাঁড়ানোটা সঠিক নাও হতে পারে। এ ব্যাপারে চালকদের সচেতনতা খুবই জরুরি।”

তার এই বক্তব্য নিয়েই দেখা দিয়েছিল বিভ্রান্তি, যার অবসান ঘটাতে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, “আমি গঠনমূলক সমালোচনা করি। কিন্তু যা বলিনি, সেটা যদি আমার নামে চালানো হয়, এই বিষয়টা মেনে নেওয়া খুব কঠিন।

“আমি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। আমার ভুল হলে স্বীকার করব। কিন্তু এইখানে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলছি, আমি রাজীবকে তার ভুলের জন্য দায়ী করে কোনো কথা বলিনি। আমি আশা করি, এ নিয়ে বিভ্রান্তির অবসান হবে।”

ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করার পর দীর্ঘ সময় সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা জানিয়ে কাদের বলেন, “আমি মিডিয়ায় ছিলাম। মিডিয়ায় অনেক নিউজ হয়। কিন্তু আমি এই ১২ বছরে কোনো প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করি নাই।

“আমি রাজনীতি করি। আর কেউ বলতে পারবে না, কারও কথাবার্তায় ভুল হয় না। ভুল আমারও হয়, হবে। তবে এই ধরনের ভুল আমি করিনি। ভুল করলে ভুল সংশোধনের মানসিকতা আমার আছে।”