রোগীর মৃত্যুর আধা ঘণ্টা পরে টেস্ট করলো ইউনাইটেড হাসপাতাল

ইউনাইটেড হাসপাতালের বিরুদ্ধে ফের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট (সিএমএম) এ সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করেছেন মৃত বাহরাইন ক্যাপ্টেন মোহান্নাদ ইউসুফ হাসান আল হিন্দির বোন। ক্যাপ্টেন আল হিন্দি গালফ এয়ারে কর্মরত ছিলেন। বুধবার বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর গালফ এয়ারের ক্যাপ্টেন মোহান্নাদ ইউসুফ হাসান আল হিন্দীকে ঢাকা বিমানবন্দরে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আল হিন্দীকে ইউনাইটেড হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন অ্যান্ড ইমার্জেন্সি মেডিসিনের চিফ কনসালটেন্ট এবং এই মামলার প্রধান আসামি অধ্যাপক ডাঃ মোঃ ওমর ফারুকের অধীনে ভর্তি করা হয়।

দুপুর ১২টা ০৮ মিনিটে রোগীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত্যু সনদ এবং অন্যান্য প্রতিবেদন (রিপোর্ট) রোগীর মৃত্যুর সময় নিশ্চিত করে। ভুক্তভোগীর পরিবার সম্প্রতি একটি ইউরিন টেস্ট রিপোর্ট হাতে পেয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, রোগীর মৃত্যুর আধা ঘণ্টা পরে টেস্ট করলো ইউনাইটেড হাসপাতাল। ইউরিন নমুনা ১২টা ৪৫ মিনিটে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং রিপোর্টটি ১২টা ৫৭ মিনিটে তৈরি করা হয়।

এই রিপোর্ট নতুন করে বিতর্ক এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে কারণ ক্যাপ্টেন মোহান্নাদ আল হিন্দি এই নমুনা সংগ্রহের আগেই মৃত্যুবরণ করেন।

এ প্রসঙ্গে নিহত ক্যাপ্টেনের বোন তালা এলহেন্দি জোসেফানো আজ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে (সিএমএম) অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ ওমর ফারুক এবং এই ইচ্ছাকৃত অবহেলার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মামলা দায়ের করেছেন।

তালা এলহেন্দি জোসেফানো বলেন, যখন রোগী ইতোমধ্যেই মারা গেছেন, তখন কেউ কীভাবে ইউরিন টেস্ট (মূত্র পরীক্ষা) করতে পারে? ডাক্তার ওমর ফারুক কি রিপোর্ট নিয়ে ঘাপলা করেছে নাকি আমার ভাইয়ের মৃত্যু নিয়ে কিছু লুকানোর চেষ্টা করছে? এর সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতালের একটি সিস্টেম আছে, কিন্তু এই সিস্টেমটি শুধুমাত্র জেসিআই স্বীকৃতি, বীমা কোম্পানি এবং বড় বড় চুক্তি পাওয়ায় ক্ষেত্রে প্রতারণা করার জন্য ব্যবহার করা হয়। বাস্তবতা হচ্ছে কিছু অসাধু ডাক্তার এসব নিয়ম অনুসরণ করে না। এ কারণে আমরা আজ এই মামলা দায়ের করেছি যেন আসল সত্য প্রকাশ পায়। এটি এই হাসপাতালের সকল রোগীদের জীবন রক্ষা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।