অনলাইন ডেস্ক : ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের ফুটবলারটির সৌজন্যে তাঁর পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে। তবে লুকাকু এখনও পুরনো সেই দিনের কথা ভুলতে পারেননি।
জল মেশানো দুধ আর স্থানীয় বেকারি থেকে ধার করে নিয়ে আসা পাউরুটি খেয়েই ফুটবলার জীবন শুরু করেছিলেন রোমেলু লুকাকু। সেই ছোট থেকেই কঠিন বাস্তবের সঙ্গে লড়াই শুরু হয়ছিল তাঁর। তবে হাল না ছেড়ে জীবনের চাকা ঘোরানোর প্রতিজ্ঞাটা ছেলেবেলাতেই করে ফেলেছিলেন বেলজিয়ামের এই তারকা ফুটবলার!
ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইটা সহজ ছিল না। কিন্তু যেভাবে লুকাকু সব বাধা টপকে বিশ্ব ফুটবলে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন, ঠিক সেই রকম লড়াই করেই রাশিয়া থেকে বিশ্বকাপ নিয়ে বেলজিয়াম ফিরতে চান তিনি। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের ফুটবলারটির সৌজন্যে তাঁর পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে। তবে লুকাকু এখনও পুরনো সেই দিনের কথা ভুলতে পারেননি। বলছিলেন, ‘‘আমি জানতাম, কষ্ট করে আমাদের সংসার চলে। কিন্তু যখন প্রথম জানতে পারলাম, মা দুধে জল মিশিয়ে আমাদের দিচ্ছে তখন বুঝতে পারলাম দারিদ্র ঠিক কতটা আমাদের গ্রাস করেছে। আমি সেদিন একটা কথাও বলিনি। মা-কে কিছু জি়জ্ঞেসও করে ওর কষ্ট বাড়ায়নি। কিন্তু সেদিনই আমি প্রতিজ্ঞা করি, জীবনে এমন কিছু করে দেখাব যাতে এই কষ্ট আর কখনও আমাকে আর আমার পরিবারকে পেতে না হয়।’’ লুকাকুর বাবাও ফুটবলার ছিলেন। তিনি ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পরই দারিদ্র যেন চরমে পৌঁছেছিল। এমন অবস্থা হয়েছিল যে, টাকার অভাবে বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ পর্যন্ত কেটে দেওয়া হয়। তিন সপ্তাহ অন্ধকারে কাটাতে হয়েছিল তাঁদের। ‘‘মা আর ভাইয়ের সঙ্গে অন্ধকারে বসে প্রার্থনা করতাম। আর ভাবতাম একদিন এই অবস্থার পরিবর্তন হবেই।’’ সঙ্গে লুকাকু যোগ করেছেন, ‘‘একদিন স্কুল থেকে ফিরে দেখি মা কাঁদছে। সেদিন আর থাকতে পারিনি। মাকে জড়িয়ে ধরে বলি, আমি ফুটবল খেলেই সব পাল্টে দেব। তোমাকে আর কষ্ট পেতে দেব না।’’ ছেলেবেলার দারিদ্রের সঙ্গে লড়াইয়ের ফলেই হয়তো মানসিক ভাবেও অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন লুকাকু। যে কোনও পরিস্থিতিতে লড়াই করতে তিনি পিছপা হন না। যেমন মঙ্গলবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিজের সেরাটা দিয়ে বেলজিয়ামকে ফাইনালে তুলতে বদ্ধপরিকর তিনি। তবে টিমের মধ্যে যাতে আত্মতুষ্টি না আসে তার জন্য সতীর্থদের সাবধান করে লুকাকু বলেছেন, ‘‘ব্রাজিলকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছি ঠিকই, তবে আমরা এখনও বিশ্বকাপ জিতিনি। লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে আরও দু’ম্যাচ বাকি।’’