অনলাইন ডেস্ক : বৃষ্টি ও সুমন ছিলেন সম্পর্কে শালি-দুলাভাই। ঘটনার দিন আবাসিক হোটেল বৈকালীতে সুমন তাকে নিয়ে ওঠেন। এ সময় হোটেলের লোকজন তাদের সম্পর্ক জানতে চাইলে সুমন স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দেয়। পরে তারা হোটেলের কক্ষে প্রবেশ করে এবং সুমন বৃষ্টির সঙ্গে জোর করে দৈহিক সম্পর্ক করার চেষ্টা চালায়। এতে বৃষ্টি সাড়া না দেওয়ায় সুমন তার গলায় থাকা ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে হত্যা করে।
বুধবার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান।
গত ১৬ জুলাই রাজধানীর মগবাজারের বৈকালী আবাসিক হোটেলে কক্ষ থেকে বৃষ্টির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় দুলাভাই রিয়াজ ওরফে সুমনকে (২৯) রাজধানীর মিরপুর পাইকপাড়া থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।
র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক জানান, সুমন বৃষ্টির সঙ্গে জোরপূর্বক দৈহিক সম্পর্ক করতে চাইলে বৃষ্টি রাজি হয়নি। এতে তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। বৃষ্টি বিষয়টি আত্মীয় স্বজনদের কাছে প্রকাশ করে দিতে পারেন। এই আশঙ্কায় এক পর্যায় সুমন বৃষ্টির ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে করে হত্যা করে। হত্যার পর ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে বৃষ্টির গলায় পেঁচিয়ে হোটেল রুমের ফ্যানের সঙ্গে ঝুঁলিয়ে রাখে। পরে সে বুদ্ধি করে হোটেলের বাইরে যায় এবং প্রায় এক ঘণ্টা পর ফিরে আসে। ফিরে আসার পর বৃষ্টি আত্মহত্যা করেছে বলে চিৎকার করতে থাকে। পরে হোটেলের লোকজন এলে সুমন নিজেই ঝুলন্ত অবস্থায় বৃষ্টিকে ওপর থেকে নামিয়ে মাথায় পানি দিতে থাকে।

তিনি আরও জানান, এমন ঘটনার এক একপর্যায়ে সুমন কৌশলে হোটেল থেকে পালিয়ে যান। বৃষ্টি মারা গেছে বিষয়টি জানার পর হোটেল কর্তৃপক্ষ থানায় খবর দিলে মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় স্বজনেরা খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান এবং মর্গে তার লাশ শনাক্ত করেন। পরে বৃষ্টির বাবা মো. আনোয়ার হোসেন রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা করলে মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। সুমন একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের গাড়িচালক। অন্যদিকে বৃষ্টি তেজগাঁও এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সুমনের সঙ্গে বৃষ্টির বোনের ২০১০ সালে বিয়ে হয়।

বৃষ্টির বাবার বরাত দিয়ে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান জানান, দুই তিন বছর ধরে সুমন তার শ্যালিকাকে বিভিন্ন ভাবে বিরক্ত করতেন। পরে দুইজনই অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি পরিবারে জানাজানি হলে বৃষ্টির অনত্র বিয়ে ঠিক হয়েছিল কিন্তু বিষয়টি সহ্য করতে না পেরেই বৃষ্টিকে হোটেলে ডেকে হত্যা করে সুমন।