গনেশ চন্দ্র হাওলাদার, বার্তা সম্পাদক, দৈনিক দর্পণ প্রতিদিন:
শুভ বিজয়া দশমী। বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ও প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তিপর্ব ”দেবী দুর্গার বিসর্জন”। এই বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার পৃথিবীতে অবস্থান এবছরের মতো শেষ হবে। মর্ত্য থেকে দেবী ফিরে যাবেন কৈলাশে । নীলকণ্ঠ পাখি উড়ে গিয়ে জানিয়ে দেবে তাঁর প্রত্যাবর্তনের খবর।
করোনাভাইরাস মহামারীর কারনে এবছর দুর্গা পূজা অনাড়ম্বরভাবে উদযাপিত হলেও আবহমান কাল ধরে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া অজপাড়াগাঁ থেকে তিলোত্তমা রাজধানীতে স্থাপিত আলোকোজ্জল অসংখ্য মন্ডপে চিরায়ত ঢাকের তালে তালে আলোড়িত হয়েছে মানুষের হৃদয়। পূজার বর্নিল আনুষ্ঠিকতা কয়েকটা দিন সকলকে আনন্দের সাগরে অবগাহিত করে রাখত। কবিগুরুর ভাষায় বলতে হয়, “যেতে নাহি দিব’। হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়।” দেবী দুর্গা আজ চলে যাবেন, তাকে বিদায় দিতেই হবে। বিদায়ের বেদনাকে হাসির আড়ালে চাপা দিয়ে এবছর সিঁদুর খেলা মিষ্টি মুখ কিংবা আনন্দ শোভাযাত্রায় বাদ্য বাদনায় বাঙালি হৃদয় উদ্বেলিত না হলেও বিদায়ের কষ্ট অনুভব হবে আরও বেশি করে। বরাবরের ন্যায় এ উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটির দিন।
দেবী দুর্গা মহাশক্তির প্রতিমুর্তি। তিনি জগতের কল্যাণার্থে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নরূপে দেবতা ও মানুষদের বিপদে রক্ষা করেছেন। ‘দ’ অর্থ দৈত্যনাশক, উ-কার বিঘœ নাশক, ‘রেফ’ রোগনাশক, ‘গ’ অর পাপনাশক ও অ-কার ভয়-শত্রুনাশক। অর্থাৎ, দৈত্য, বিঘœ, রোগ, পাপ ও ভয়-শত্রুর হাত থেকে যিনি রক্ষা করেন, তিনিই দুর্গা। তিনি সকল দেবতার সম্মিলিত শক্তির প্রতিমূর্তি। শারদীয় দুর্গা পূজায় দেবীকে মহাশক্তির একটি উগ্ররূপ মনে করা হয়। জগতের দেবী দুর্গার দশ হাত। তাঁর বাহন সিংহ। মহিষাসুরমর্দিনী-মূর্তিতে তাঁকে মহিষাসুর নামে এক অসুরকে বধরত অবস্থায় দেখা যায়। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে তিনি শিবের স্ত্রী পার্বতী, কার্তিক ও গণেশের জননী এবং কালীর অন্যরূপ।
সনাতন হিন্দু ধর্মের শাস্ত্রগ্রন্থের বর্ননা ও বিশ্বাসমতে সৃষ্টির প্রথম যুগে পরমাত্মা কৃষ্ণ বৈকুণ্ঠের আদি-বৃন্দাবনের মহারাসমন্ডলে প্রথম দুর্গাপূজা করেন। এরপর মধু ও কৈটভ নামে দুই অসুরের ভয়ে ব্রহ্মা দ্বিতীয় দুর্গাপূজা করেছিলেন। ত্রিপুর নামে এক অসুরের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে শিব বিপদে পড়লে তৃতীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। দুর্বাসা মুনির অভিশাপে লক্ষ্মীকে হারিয়ে ইন্দ্র যে পূজার আয়োজন করেছিলেন, সেটি ছিল চতুর্থ দুর্গাপূজা। তবে এসকল পূজা বসন্তকালে হয়েছিল। কালিকা পুরাণ ও বৃহদ্ধর্ম পুরাণ অনুসারে, মহাপরাক্রমশালী লঙ্কারাজ রাবনের হাতে বন্দী, স্ত্রী সীতাকে উদ্ধারে চলমান যুদ্ধে জয় লাভ করার জন্য ত্রেতাযুগের অবতার রাম প্রথম শরৎকালে দুর্গা পূজা করেছিলেন। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, শরৎকালে দেবতারা ঘুমিয়ে থাকেন। তাই এই সময়টি তাঁদের পূজার যথাযথ সময় নয়। অকালের পূজা বলে তাই এই পূজার নাম হয় “অকালবোধন”। কৃত্তিবাস ওঝা তাঁর রামায়ণে লিখেছেন, রাম স্বয়ং দুর্গার বোধন ও পূজা করেছিলেন। এরপর থেকেই পৃথিবীতে মুনিঋষি, সিদ্ধপুরুষ, দেবতা ও মানুষেরা নানা দেশে নানা সময়ে দুর্গাপূজা করে আসছে।
আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষে এবং চৈত্রমাসের শুক্ল পক্ষে দুর্গোৎসব পালন করা হয়ে থাকে। বসন্তকালের দুর্গাপূজা বাসন্তী দুর্গাপূজা ও শরৎকালের দুর্গাপূজা শারদীয়া দুর্গাপূজা নামে পরিচিত। বাংলাদেশ সহ পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, নেপাল ও পাশ্চাত্য, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যেসব দেশগুলিতে বাঙালিরা কর্মসূত্রে অবস্থান করেন, সেখানেও মহাসমারোহে দুর্গোৎসব পালিত হয়ে থাকে। দুর্গার আরাধনা বাংলা, অসম এবং বিহারের কোনো কোনো অঞ্চলে প্রচলিত। ভারতের অন্যত্র দুর্গাপূজা নবরাত্র উৎসব রূপে উদযাপিত হয়। এই কারণে সারা বিশ্বের কাছেই বর্তমানে বাংলার অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে শারদীয় দুর্গোৎসব।
খ্রিষ্টীয় দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শতাব্দীতে বাংলায় দুর্গোৎসব প্রবর্তিত হয়। সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম দিন পর্যন্ত শারদীয়া দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে “দুর্গাষষ্ঠী”, “মহাসপ্তমী”, “মহাষ্টমী”, “মহানবমী” ও “বিজয়াদশমী” নামে পরিচিত। আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষটিকে বলা হয় “দেবীপক্ষ”। দেবীপক্ষের সূচনার অমাবস্যাটির নাম মহালয়া। দেবীপক্ষের শেষ দিনটি হল কোজাগরী পূর্ণিমা। এই দিন হিন্দু দেবী লক্ষ্মীর পূজা করা হয়।
দুর্গাদেবীর আবাহন তথা মহালয়ার মধ্য দিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে দেবীর আরাধনা। সাধারণত মহালয়ার ছয় দিন পরই হয় দেবী দুর্গার বোধন। অর্থাৎ মহালয়ার পর থেকে দেবীর আগমনের ঘণ্টা বাজে। মহালয়া হয়ে থাকে শরৎ কালে। কিন্তু এবছর এক মাসে দুটি অমাবস্যা পড়ায় শাস্ত্রমতে এবছরের মহালয়ার মাস আশ্বিন মাস ‘মল’ মাস। মল মাসে পূজা করার রীতি নেই তাই এবার দেবী শরতে না এসে এলেন হেমন্তে। শরতে মহালয়া শুরু হওয়ার ৩৫ দিন পর হেমন্তের কার্তিক মাসে ষষ্ঠী তিথিতে দেবীর আগমনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে দুর্গাপূজা।
এবছর বাংলাদেশে বুধবার (২১ অক্টোবর) বোধনের মাধ্যমে এবারের দুর্গোৎসবের আচার পর্ব শুরু হয়েছে । ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার “দুর্গাষষ্ঠী” মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠিকতা শুরু, ষষ্ঠীর দিন সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে শুরু হওয়া বন্দনা পূজার সমাপন হয় বিহিত পূজায়। আবাহনের মাধ্যমে মূল মন্ডপে দেবী আসীন হওয়ার পর সন্ধ্যায় দেবীর অধিবাস সম্পন্ন হয়। ২৩ অক্টোবর শুক্রবার মহাসপ্তমী, ২৪ অক্টোবর শনিবার মহাঅষ্টমী, ২৫ অক্টোবর রবিবার মহানবমী এবং ২৬ অক্টোবর সোমবার বার “বিজয়াদশমী”র মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গাপূজার শুধুমাত্র আনুষ্ঠিকতা পালিত হয়েছে। এমনকি অষ্টমী তিথির কুমারী পূজাও এবার ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোতে বাদ দেওয়া হয়েছে।
সারাদেশে ২৬ অক্টোবর বিজয়া দশমীও হচ্ছে অনাড়ম্বরভাবে, বিসর্জনের জন্য অন্যান্যবছর একটি ট্রাকে একসঙ্গে অনেক মানুষ গেলেও এবার একটি ট্রাকে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য শুধুমাত্র ১০ জন যেতে পারবেন এবং পূজামন্ডপ থেকে আলাদা আলাদাভাবে সরাসরি বিসর্জনের ঘাটে যেয়ে প্রতিমা ধর্মীয় রীতি মেনে বিসর্জন দিতে হবে, একত্রে শোভাযাত্রা আকারে কিংবা ঢাক-ঢোল বাজিয়ে এবছর বিজয়ার আনুষ্ঠিনিকতা করা থেকে বিরত থাকবেন। দিনে দর্শনার্থী সীমিত থাকলেও সন্ধ্যারতির পর মন্ডপ দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল শুধুমাত্র পূজার সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ পূজার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তিথি অনুযায়ী যাগ-যজ্ঞ করেছেন। হয়নি কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা প্রতিযোগীতা। দর্শনার্থী প্রবেশেও ছিল স্বাস্থ্য বিধি মানার বাধ্যবাধকতা। আর প্রসাদে খিচুড়ি বিতরণ থেকেও বিরত ছিল। তাছাড়া মাস্ক ছাড়া কেউ মন্ডপ এলাকায় কেহ প্রবেশ করতে পারেন নাই। মন্দিরের গেটে সবার জন্য সাবান দিয়ে হাত ধোয়াা ও স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা ছিল। তবে ‘সপ্তমী,অষ্টমী ও নবমী পূজার দিন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে মায়ের পুষ্পাঞ্জলি সরাসরি সম্প্রচার করেছে কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল। একই সময়ে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি, শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির নামের ফেসবুক পেজ থেকে মায়ের পুষ্পাঞ্জলি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে। আতশবাজি ও পটকার ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে, ধর্মীয় ভক্তিমূলক সংগীত ব্যতীত অন্য সংগীত বাজানো থেকে বিরত ছিল সবাই। তাছাড়া মহাসপ্তমীর দিন দুপুর ১২টা ১ মিনিটে করোনা মুক্তি এবং দেশ, জাতি ও বিশ্ব শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছিল।
সনাতন বিশ্বাস ও পঞ্জিকা মতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার দোলায় চড়ে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) এসেছেন। আর বিদায় নেবেন গজে (হাতী) চড়ে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, করোনা মহামারির মধ্যেও সারা দেশে এবার ৩০ হাজার ২১৩টি মন্ডপে পূজা হবে। পূজার জন্য রাজধানীতে প্রস্তুত করা হয়েছে ২৩২টি মন্ডপ। বিগত বছর সারাদেশে মন্ডপের সংখ্যা ছিল ৩১ হাজার ৩৯৮টি, যা তার আগের বছরের চাইতে ৪৮৩টি বেশি। আর এবার মন্ডপ কমেছে গত বছরের তুলনায় এক হাজার ১৮৫টি।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি বলেন, ‘দুর্গাপূজা পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান, সবার অংশগ্রহণে করোনাভাইরাসের বিস্তারের সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারত। সন্ধ্যারতির পর সর্বসাধারণের জন্য মন্দির/মন্ডপ বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছিলাম আমরা। এছাড়া মা সর্বত্র বিরাজমান। বাড়িতে বসে ভক্তদের প্রণাম মা নিশ্চয়ই গ্রহণ করেছেন। বঞ্চিত করবেন না তার আশীর্বাদ হতে।’
বিজয়া তথা দুর্গোৎসবের শৈশব স্মৃতি আমাদের সকলের মননে এক রূপকথার গল্পের মত। কৈশোরে প্রতিমা তৈরির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিদিন স্কুল থেকে ফেরার সময় বন্ধুদের নিয়ে প্রতিদিন মন্ডপের সামনে দাড়িয়ে কত গবেষনা, কত আবেগ নিয়ে নিস্পলক পর্যবেক্ষন। দেবী দুর্গা ও তার সাথে সর্ম্পকিত অন্যান্য দেব-দেবী শুধু নিছক মুর্তির মধ্যে কৈশোর মনকে আবদ্ধ রাখতে পারত না, জীবন্ত সত্বা নিয়ে আমাদেরকে গভীর ভক্তিতে মোহাবিষ্ট করে রাখত। কল্পনার জগৎ পুরোটাই পুজার নানা দিক ঘিরে আবর্তিত হত। শরতের কাশবন আর নীল আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘের মাঝেও মা দুর্গাকে খুঁজে পাওয়ার আনন্দ। ঘুমের মধ্যে স্বপ্নগুলো জোৎস্নালোকের স্নিগ্ধতায় দেবী দুর্গার অলৌকিকতায় পরিপূর্ণ থাকত। মহালয়ার ভোররাতে দেবী দুর্গার অলৌকিক যুদ্ধের রনভৈরীময় বর্ননা কিশোর মনে দেবীপক্ষের দিনগুলোকে কল্পলোকের বাস্তবতার দ্বার উন্মেচন করে দিত। নতুন জামা কাপড় প্রাপ্তির অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পরম আনন্দে উদ্বেলিত হত আমাদের মন। পূজার দিনগুলো বন্ধুদের সাথে নিয়ে বর্ণিল সজ্জায় সজ্জিত মন্ডপে ঢাকের তালে উত্তাল নৃত্য আর দুরন্তপনা। রাতভর আত্মীয় পরিজন পরিবেষ্টিত হয়ে গল্পে গল্পে নির্ঘুম কাটিয়ে দেয়ার সুযোগতো শারোদোৎসবেই ছিল। বিজয়ার রাতে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠিকতার আনন্দ ছাড়াও প্রনামী প্রাপ্তি, মিষ্টি মঠাই আর পিঠা পায়েশের সমারোহে পরিবারের সকলের উপস্থিতিতে বয়োজৈষ্ঠ্যদের কাছ থেকে ধান-দূর্বার মাধ্যমে আর্শিবাদ প্রাপ্তি আর শ্রদ্ধা নিবেদন। বিজয়ার আনন্দ বিসর্জনের পরেও মন্ডপ ছাপিয়ে প্রতিটি ঘরে ঘরে নতুন করে সাজসজ্জা আর নাড়ু-সন্দেশ তৈরির মহাসমারোহ, কেননা চারদিন পরেই দেবী পক্ষের শেষদিন পূর্নিমা তীথিতে কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা। ছোটরা বড়দের পয়সায় তারাবাতি, আতশবাতি আর নিজের গোপনে জমানো পয়সায় বারুদ কিনে লৌহপ্রযুক্তিতে তীব্র শব্দযুক্ত বোম ফোটানোর প্রতিযোগীতা, কি যে আনন্দ।
বাংলাদেশে শারদীয় দুর্গা পূজা সার্বজনীন উৎসবে পরিনত হয়। কেননা ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে শারদীয় দুর্গাৎসবে অংশগ্রহন করে অনাবিল আনন্দে মেতে ওঠে বাংলার সকল নারী পুরুষ। মানুষের ভক্তি বা গুণ অনুযায়ি কর্মফল ভিন্ন হয়ে থাকে। তথাপী যে যেভাবে দেবীকে আরাধনা করে সে সেভাবেই দেবীর আশীর্বাদ পেয়ে থাকে। ধরাতলে দেবীর নানারূপের প্রকাশ পেয়েছে। প্রকৃতিগতভাবে দেবী ধরাতলের সমগ্র জীবসমূহের মধ্যে চলাচল করছেন। তিনি ব্রহ্মার লয়কারিণী কালরাত্রি, জগতের লয়কারিণী মহারাত্রি এবং মানুষের লয়কারিণী ভয়ঙ্করী মোহরাত্রী। দেবী বিশ্বেশ্বরী, তাই সমগ্র বিশ্বকে রক্ষা করছেন। তিনি জগৎরূপা, তাই সমগ্র জগৎকে ধারণ করছেন। দেবী ব্রহ্মা, ইন্দ্র প্রভৃতি দেবগণের আরাধ্য। তাঁতে যে যেভাবে, যে গুণেই ভক্তিভাব প্রদর্শন করে তারা সেভাবেই তাঁর আশ্রয় হয়ে থাকেন।
বিজয় দশমীতে প্রানপ্রিয় দেবী মা দুর্গাকে বিদায় কিংবা বিসর্জনের ধর্মীয় রীতির মধ্যে দিয়ে আমরা আত্মত্যাগের মহান শিক্ষাকে আমাদের হৃদয়ে পরিস্ফুটিত করে রাখি। আমাদের মনের সকল কলুষতা, আসুরিকতা, অন্যায় আচরনকে বিসর্জন দিয়ে ত্যাগের মানসিকতায় ভালবাসার বন্ধনে জগতের প্রতিটি মানুষ যাতে তার নিজ নিজ স্বকীয়তা ও ধর্মীয় বিশ্বাসে সুদৃঢ় থেকে পারস্পরিক বোঝাপড়ায় শান্তিময় জীবন কাটাতে পারে, এ পৃথিবীতে যাতে সকল জীব সুন্দর ও শ্বাশত রূপে নিজেকে বিকশিত করতে পারে, বিজয়ার এ শুভক্ষণে সৃষ্টিকর্তার কাছে সে আর্শিবাদ প্রার্থনা করছি। সবার জীবন শান্তিময় ও সুন্দর হোক।