এতে বিপাকে পড়েছেন পাঠাগারে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা। তাদের মনে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। তবে রুমগুলোতে সংস্কার কাজ চলছে দাবি করে কাজ সমাপ্ত হলেই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য আবারো খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্রে জানা যায়, করোনাকালীন স্থবিরতা কাটার পর ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের উন্মুক্ত পাঠাগারে পড়াশোনার সুযোগ করে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল। পাশাপাশি সহায়তায় পাঠাগারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের পাঠাগার সংশ্লিষ্ট রুমগুলোতে প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে লাইট-ফ্যান, ফিল্টার স্থাপন সহ বেশ কিছু উদ্যোগ নেন তিনি।
গতবছরব্যাপীও উন্মুক্ত পাঠাগারে পড়াশোনা করতে আসা শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে করোনার প্রকোপ বাড়ায় উন্মুক্ত পাঠাগারটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারো পাঠাগারের কার্যক্রম শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ৩টি রুম, অর্থনীতি বিভাগের ২টি রুম, সমাজকর্ম বিভাগের ১টি রুম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২টি রুম এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের ২টি রুমসহ মোট ৯টি রুম এবং কলাভবনের বারান্দায় পাঠাগারে আসা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য উন্মুক্ত ছিল। পাঠাগারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের আধিক্য থাকলেও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়।
সূত্রে জানা যায়, সবকয়টি রুম ও বারান্দায় প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতো। তবে গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে সবগুলো রুম৷ যার জন্য কেবল কলা ভবনের বারান্দাতেই পড়াশোনা করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের বারান্দায় আঁটাআঁটি করে পড়াশোনা করছে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। অনেকে আবার জায়গা না পেয়ে ব্যাগ হাতে ফিরে যাচ্ছেন। তালাবদ্ধ রয়েছে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের রুমগুলো। তবে ক্লাস চলতে দেখা যায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একটি রুমে। অপরদিকে একই চিত্র অর্থনীতি, সমাজকর্ম ও লোকপ্রশাসন বিভাগের রুমগুলোতেও।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, আগে আমাদের পড়ার জন্য মোট ৯টি রুম ছিল। কিন্তু সেখান থেকে অনেকগুলো রুম কমে এসেছে। শেষ পর্যন্ত যে কয়টি রুম ছিল সেগুলোও সংস্কার কাজের অজুহাতে বন্ধ রয়েছে৷ শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সুযোগ পেলে ভালো করবে৷ যেমনটি বিগত কয়েকবছরে আমরা দেখেছি। তাই আমরা চাই অতিদ্রুত আবারও আগের মতো রুমগুলো উন্মুক্ত করে দেয়া হোক অথবা উন্মুক্ত পাঠাগারের জন্য স্থায়ী জায়গা বরাদ্দ হোক।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মোছাদ্দির হোসেন বলেন, উন্মুক্ত পাঠাগারে পড়ার সুযোগ থাকলেও বর্তমানে তা সীমিত। জায়গার অভাবে বারান্দায় বসে পড়তে হচ্ছে সেখানেও জায়গা মিলছে না। জায়গার অভাবে ফিরে আসতে হচ্ছে। তাই একটি স্থায়ী পাঠাগার বা রুমগুলো স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়া আমাদের জন্য জরুরি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, যেসব রুমে উন্মুক্ত পাঠাগারের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতো সেই রুমগুলোতে সংস্কার কাজ চলছে। সাধারণত জুন মাসের মধ্যেই এই কাজগুলো শেষ করতে হয়। তাই আপাতত সেই রুমগুলো বন্ধ আছে৷
তিনি বলেন, উন্মুক্ত পাঠাগারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ সাবেক শিক্ষার্থী পড়তে আসে। আমরা শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থেই রুমগুলোতে পড়াশোনা করার সুযোগ দিয়েছি। সংস্কার কাজ শেষে রুমগুলো আবার খুলে দেয়া হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, রুমগুলো সংস্কার করার পর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য আবার খুলে দেওয়া হবে। বন্ধ করার অন্য কোনো কারণ নেই।