নাটোরে প্রতিনিধি:
বাল্যবিয়ের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করলো সময়ের সাহসী কন্যা তারিনা খাতুন (১৪)। সে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনির ছাত্রী। থানা পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের বাকিবেগপুর গ্রামের মজনু শেখের মেয়ে তারিনা। পাশর্^বর্তী সিংড়া উপজেলার কলম গ্রামের রাজমিস্ত্রি আব্দুল খালেকের সাথে মঙ্গলবার তার বিয়ের দিন ধার্য হয়। তারিনা জানায়, তার মতামত না নিয়েই তাকে বাল্যবিয়ে দেয়া হচ্ছিল। বিয়ের একদিন আগে সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় মহিলা মেম্বর রাইমন বেগমের সহযোগিতায় গুরুদাসপুর থানায় এসে পুলিশের সহযোগিতায় তার বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেয়। তারিনার মা মাজেদা বেগম বলেন, তিনি পরের বাড়িতে গৃহকর্মির কাজ করেন এবং তার স্বামী একজন দিনমজুর। তিন মেয়ে নিয়ে পাঁচ সদস্যের অভাবের সংসার তাদের। বড় মেয়ে নুপুর এইচএসসি পাশ করে ঢাকার এক গার্মেন্টে চাকরি করে। আর মেজ মেয়ে তারিনা ও ছোট মেয়ে তাহমিনা একসাথে চাপিলা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেনিতে পড়ে। এমতাবস্থায় ভাল একটি বিয়ের সম্বন্ধ এসেছিল। তবে আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছি। এদিকে তারিনার পড়ালেখার দায়িত্ব নিয়ে চাপিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম জানান, এখন থেকে তিনিই তারিনার অভিভাবক। গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সেলিম রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তারিনাকে ‘সময়ের সাহসী কন্যা’ উপাধি দিয়ে আমরা তাকে সার্বিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।