মোস্তফা কামাল, যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশের প্রথম স্মার্ট নগরী হিসেবে সিলেট সিটি করপোরেশনকে (সিসিক) গড়ে তুলতে চান মেয়রপ্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর আস্থা এবং কামরানবিহীন নগরীর নৌকার কান্ডারি। প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের মনের আশা পূরণের লক্ষ্যে তিনি নৌকার হাল ধরছেন এবার। রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের যে প্রধানমন্ত্রী ভালোবাসেন, এটা তারই স্বীকৃতি বলা চলে।
কমিশনার থেকে পৌর চেয়ারম্যান এবং পরে সিলেট সিটি করপোরেশনে (সিসিক) উন্নীত হওয়ার পর প্রথম মেয়র ছিলেন প্রয়াত বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। এরপর দুই মেয়াদে নির্বাচিত মেয়র ছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে হয়ে ওঠেন ‘জনতার কামরান’। গত দুই মেয়াদে আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে হারার পরও মানুষের ভরসাস্থল ছিলেন কামরান। অতিমারিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে জীবনপ্রদীপ নিভে যায় সাবেক এই মেয়রের। সিসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কামরানবিহীন নগরে নৌকার কান্ডারি নিয়ে সংকটে ভুগছিল ক্ষমতাসীন দলটি। যদিও নৌকার মাঝি হতে দলীয় মনোনয়ন কিনেছিলেন ১১ জন। তবে শেষ পর্যন্ত ১০ জনকে পেছনে ফেলে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পেয়ে চমক সৃষ্টি করেন ক্লিন ইমেজধারী প্রবাসী নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সব সময় দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে দিনরাত যুক্তরাজ্যেও কাজ করেছেন। ভবিষ্যতেও দলের স্বার্থে কর্মীদের তিনি পরিবারের সদস্যদের মতো আগলে রাখতে চান। সিলেট সিটি করপোরেশনে মেয়র নির্বাচিত হলে জাতির পিতার কন্যার দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন এবং নগরবাসীর সেবা করে যাবেন বলে প্রতিশ্র“তি ব্যক্ত করেছেন।
কেন্দ্রের সবুজ সিগন্যাল পেয়ে তিনি নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লেখেন, ‘আলহামদুলিলাহ! আমাকে আগামী সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমাদের প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মেয়রপ্রার্থী মনোনীত করেছে। আমি মহান আলাহপাক রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী, ১৮ কোটি মানুষের অভিভাবক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ জানাইÑতিনি আমাকে এই বিশাল দায়িত্বের জন্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমার রাজনৈতিক সহকর্মী, সহযোদ্ধাসহ সিলেটের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা ও অভিবাদন জানাই। সিলেট সিটি করপোরেশনের সম্মানিত নাগরিকদের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনারা আপনাদের সন্তান হিসেবে আমাকে যে ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়েছেন, তাতে আমি আপনাদের কাছে চিরঋণী। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের এই অকুণ্ঠ সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং আগামী ২১ জুনের সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আপনারা নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করে জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশের প্রথম স্মার্ট নগরী হিসেবে সিলেট সিটি করপোরেশনকে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।’
যুক্তরাজ্য প্রবাসী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও গণতন্ত্রের মানস কন্যা ত্যাগী নেতাকেই বেছে নিয়েছেন। তিনি নির্বাচিত হলে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবেই পালন করবেন বলে বিশ্বাস করেন তারা।
এদিকে দলের মনোনয়ন পাওয়া পর থেকেই আনোয়ারুজ্জামান ১৪ দলের শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করে চলেছেন এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
৮ মে সিলেট নির্বাচন কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এ সময় তার সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতীলীগ, ছাত্রলীগ ছাড়াও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছিলেন। তিনিসহ মেয়র পদে পাঁচজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
জানা যায়, সিলেট জেলার ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গাবাজার ইউনিয়নের পশ্চিম তিলাপাড়ার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৭০ সালের ১ জুন জন্মগ্রহণ করেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তার বাবা নৌশা মিয়া চৌধুরী এবং মা গহিনুন্নেছা চৌধুরী। ছয় ভাইয়ের মধ্যে আনোয়ারুজ্জামান সবার ছোট। সবাই যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী তৃণমূল থেকে গড়ে ওঠা একজন রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৭৮ সালের দিকে পশ্চিম তিলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরে বুরুঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি মৌসুমী সমাজ কল্যাণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ৮ম শ্রেণিতে থাকতেই তার রাজনৈতিক চেতনাবোধ জাগ্রত হতে থাকে। সেসময় এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করে এবং ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রধর্মঘট, ক্লাস বর্জন ও হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। তখন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী তার বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে প্রতিটি কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। তখন বুরুঙ্গায় ছাত্রলীগের কোনো কার্যক্রম ছিল না। নিজ চেতনাবোধ থেকে তিনি এসব কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। ৯ম শ্রেণিতে পড়াকালে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সারা দেশে হরতাল ডাকা হয়। হরতালের দিন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মিছিলের নেতৃত্ব দেন। বুরুঙ্গা সড়কের মুখে কিছু বখাটে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিছিলে আগত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনার খবর পেয়ে তাজপুর থানা আওয়ামী লীগের নেতারা ছুটে আসেন এবং এর সমাধান করেন। এ ঘটনায় আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী নেতাদের নজরে চলে আসেন। তখন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন এমএ গনি, সাধারণ সম্পাদক ছালেহ আহমদ ও থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন ইকবাল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দাল মিয়া। পরবর্তী সময়ে বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে মো. আব্দাল মিয়াকে সভাপতি ও আব্দুল মতিনকে সাধারণ সম্পাদক করে উপজেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সমাজসেবা সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সিলেট সরকারি কলেজে লেখাপড়া করেন। সেসময় তিনি ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ থেকে ছাত্র মিলনায়তন সম্পাদক পদে নির্বাচন করেন। এছাড়া তিনি ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সিলেটের রাজপথে সক্রিয় ভ‚মিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালের শেষের দিকে তিনি সিলেট সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান। সেখানে গিয়েও তিনি থেমে থাকেননি। প্রথমে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এরপর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রবাসীদের সুখ-দুঃখের সাক্ষী হিসেবে তাদের পাশে থাকেন সব সময়। আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সিলেট-২ আসনে এমপি প্রার্থী হতে কয়েকবার তৎপরতা চালালেও দলীয় মনোনয়ন জোটেনি। তারপরও বসে থাকেননি তিনি। জাতীয় সংসদ থেকে স্থানীয় সরকারÑসব নির্বাচনকালে ছুটে এসেছেন দেশে। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে সরব থাকতে দেখা গেছে তাকে। বিশেষ করে সিলেট-১ ও সিলেট-৩ আসন, সিলেট জেলা পরিষদ ও ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিজয়ে বিশেষ ভ‚মিকা পালন করেছেন। নৌকার বিজয় নিশ্চিতে দিনরাত খেটেছেন। এ কারণে শুধু বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরেই নয়, সিলেট সদর ও সিলেট সিটি করপোরেশন এবং ফেঞ্চুগঞ্জে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে আলাদা গুরুত্ব রয়েছে তার। নেতাকর্মীরাও যেন তার মাঝে প্রয়াত মেয়র কামরানের স্বভাবসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি খুঁজে পান। এভাবেই আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন কর্মী হয়ে তিলে তিলে গড়ে ওঠা একজন মানবিক কর্মী এবং ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ। তার বড় ভাই হাবিবুর রহমান চৌধুরী সিলেট গণদাবী পরিষদের নেতা ছিলেন। দ্বিতীয় ভাই আওলাদ হোসেন চৌধুরী যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও তিনিও মাঝেমধ্যে দেশে আসেন এবং এলাকার মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। তৃতীয় ভাই আব্দাল হোসেন চৌধুরী ধর্মকর্ম নিয়ে ব্যস্ত। চতুর্থ ভাই আজাদ বক্ত চৌধুরী দেশে ও যুক্তরাজ্যে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা নিউহাম বেঙ্গলি কমিউনিটি ট্রাস্টের (এনবিসিটি) কো-অর্ডিনেটর ছিলেন।

News Editor : Ganash Chanro Howlader. Office: 38-42/2 Distillery Road, 1st floor, Gandaria, Dhaka-1204.