পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী অনুপ বাউলকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার চারজন আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
শুক্রবার ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেশকাত শুকরানার আদালত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
স্বীকারোক্তি দেওয়া চার আসামি হলেন- ভেকুর মালিক রিপন মন্ডল (২৬), নয়ন মন্ডল (২৬), পিযুষ করাতি (২৫) ও দিলীপ চন্দ্র রায়।
এদিন চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এরপর মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআই ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন।
গত ৪ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদী খাঁন এলাকা থেকে শ্বশুরবাড়ি মাদারীপুর যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিহত অনুপ বাউল। এ ঘটনায় পরদিন ৫ জানুয়ারি নিখোঁজের ছোট ভাই বিপ্লব বাউল একটি জিডি করেন।
বিষয়টি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় সিরাজদী খাঁন থানা পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, ডিবি ও পিবিআই মুন্সিগঞ্জ জেলা তদন্ত শুরু করে। পিবিআই মুন্সিগঞ্জ জেলা জিডির তদন্ত করতে গিয়ে ভিকটিমের ছোট ভাই বিপ্লব বাউলকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা করার পরামর্শ দেন। পরে বিপ্লব বাউল বাদী হয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি কেরানীগঞ্জ মডেল থানা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা করেন।
থানা-পুলিশ মামলাটি প্রায় তিন মাস তদন্ত হওয়ার পর রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় গত ২১ এপ্রিল পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই ঢাকা জেলা। তদন্তভার দেওয়া হয় পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সালে ইমরানের ওপর। তিনি প্রথমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত রিপন ও ড্রামে করে মরদেহ বহনকারী অটোরিকশাচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
তাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য, অন্যান্য তথ্য ও প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে রিপনকে চিহ্নিত করা হয়। তারপর অনেকটা নিশ্চিত হয়ে আসামি রিপন, পিযুষ, নয়ন ও দিলীপকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর নিখোঁজ স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিহত অনুপ বাউলের মরদেহ ১৬ ফুট বালির নিচ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মামলার সূত্রে জানা যায়, নিহত অনুপ বাউলের স্বর্ণ ব্যবসার পার্টনার নয়ন মন্ডল। তাদের দুজনের মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে নয়ন মন্ডল স্বর্ণ ব্যবসায়ী অনুপ বাউলকে খুনের পরিকল্পনা করে। নয়ন তার চাচাতো ভাই রিপন, পিযুষ ও দিলীপের সাহায্য নিয়ে অনুপ বাউলকে হত্যা করে।
গত ৪ জানুয়ারি সকালে পাওনা টাকা দেওয়া ও মাদারীপুরে স্বর্ণের অর্ডার পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অনুপ বাউলকে জয়েনপুরে ডেকে নিয়ে আসেন নয়ন মন্ডল। জয়েনপুরে রিপনের মন্ডলের গ্যারেজে আগে থেকে অপেক্ষমাণ রিপন মন্ডল, পিযুষ ও দিলীপের সঙ্গে নয়ন ও অনুপ বাউল একত্রিত হয়। ঐ সময় পাওনা টাকা নিয়ে ভিকটিম অনুপ বাউলের সঙ্গে তাদের ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে চারজন মিলে অনুপ বাউলকে গ্যারেজের খাটের মধ্যে ফেলে কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
হত্যার পর লাশ একটি ড্রামে ভরে রাখে। পরে বিকেল ৩টায় আসামিরা অটোরিকশা করে লাশ ভর্তি ড্রামটি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদী খান থানার বোয়ালখালীস্থ বিসিক এলাকায় বালুর মাঠের কাছে নিয়ে যায়। অটোরিকশাচালক চলে গেলে আসামিরা ড্রামটিকে বালুর মাঠের ভেতরে নিয়ে যায়। তারপর কাদাযুক্ত একটি স্থানে লাশ পুঁতে ফেলে আসামিরা চলে যায়।