শিশু ওয়ার্ড তালাবদ্ধ। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পর্যাপ্ত জনবল নেই। টয়লেটগুলো অধিকাংশ ব্যবহারের অনুপযোগী। দুর্গন্ধময় পরিবেশে ।
এমন সংকট আর অব্যবস্থাপনায় কোনো রকম জোড়া তালি দিয়ে চলছে বাগেরহাটের শরণখোলার ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। নানা শূন্যতার মাঝেও কিছুটা সেবা মিললেও বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি এবং স্থানীয় কতিপয় দালালদের দাপটে অনেকটা অসহায় হয়ে উঠেছেন রোগীরা।
উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে এসে প্রতিনিয়ত চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন নানা বয়সী শত শত মানুষ। বহু অপেক্ষা করেও কা সেবা পাচ্ছেন না তারা।
বছরের পর বছর হাসপাতালটি হাজারো সমস্যা-সংকটে জর্জরিত থাকলেও তা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাথা ব্যথা নেই। তাই সেবা বঞ্চিত হয়ে ক্লিনিক ও এলাকার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালটিতে কনসালটেন্ট গাইনি ও শিশু বিশেষজ্ঞসহ ১৩ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও মাত্র পাঁচ জন চিকিৎসক রয়েছেন। বাকি আট জন চিকিৎসকের পদ শূন্য ।
এছাড়া ওয়ার্ড বয় তিন জনের মধ্যে আছেন দুই জন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী পাঁচ জনের স্থলে আছেন মাত্র এক জন। আয়া ও প্যাথলজিস্ট নেই। এক্স-রে ১২ বছর এবং ইসিজি মেশিন ছয় বছর ধরে নষ্ট। এই দুই পদে টেকনিশিয়ানও নেই।
অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) যন্ত্রপাতি থাকলেও সেখানে কোনো অপারেশন হয় না। থিয়েটারটি ব্যবহার না হওয়ায় মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হতে বসেছে।
রোগী দেখতে ডাক্তাররা হাসপাতালের কক্ষে ঢুকতেই ডাক্তার ভিজিট প্রতিযোগিতা শুরু হয় ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিদের।
সকাল থেকে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা অনেক অসুস্থ ও বৃদ্ধা রোগীদের এক প্রকার ধাক্কা দিয়ে ডাক্তারের রুমে ঢুকে পড়ে কোম্পানির লোক। এরপর থেকে ডাক্তারদের মুখের দিকে নির্বাক তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় অসুস্থ নানা বয়সী অসহায় মানুষদের।
২/১ জন রোগী ডাক্তারের কাছে পৌঁছতে পারলেও বিক্রয় প্রতিনিধিদের চাপে রোগী এবং ডাক্তার উভয়ই বে-সামাল হয়ে পড়েন।
বহিরাগত রোগীদের কয়েকজন বলেন, ডাক্তার আসার পর কোম্পানির লোকগুলো যেভাবে হুমড়ি খেয়ে পড়েন তাতে অনেকেই আতঙ্কিত। এতো চাপে মাঝে ডাক্তারের কাছে কি বলব তা ভুলে গেছি।
সেবা নেয়ার সময় বাইরের লোক পাশে থাকলে লজ্জায় গোপন রোগের কথা বলা যায় না। সে ক্ষেত্রে কষ্ট করে সেবা নিতে এসে কোনো লাভ হয় না।
তবে ,পরিচয় গোপন রাখার শর্তে, কয়েকজন স্টাফ বলেন, ওষুধ কোম্পানির অনেক প্রতিনিধি স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় তারা প্রভাব খাটিয়ে হর হামেশা ডাক্তারদের রুমে প্রবেশ করেন কিন্তু চক্ষু লজ্জার কারণে এদের কিছু বলা হয় না । তবে, নিদিষ্ট সময়ের আগে হাসপাতালে ঢুকে অযথা রোগীদের হয়রানি করা তাদের পেসক্রিপশনের ছবি তুলে রাখাটা নিয়ম বর্হিভূত।
তবে, কর্তৃপক্ষ কঠোর হলে এমন চর্চা বন্ধ করা কোনো ব্যাপার না।
অন্যদিকে, পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একজন বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, আমরা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ ডাক্তারদের অনুমতি নিয়েই তাদের ভিজিট করি। কোনো রোগীর সেবা পেতে ক্ষতি করি না । দুপুর ছাড়াও সকাল ১১টা পর্যন্ত ভিজিট করলে তাতে রোগীদের কোনো ক্ষতি হয় না ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ডাক্তারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দুপুরের পর আসতে বলা হয়েছে। তারপরেও যদি কেউ রোগী দেখার সময়ের মধ্যে সাক্ষাৎ করতে আসেন। সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে, দালালের বিষয়টি আমার জানা নেই। পাশাপাশি রোগীদের সব অভিযোগ সঠিক নয়।
এছাড়া মাত্র ৩/৪ জন চিকিৎসক দিয়ে হাজার হাজার মানুষের কাঙ্ক্ষিত সেবা দেয়া সম্ভব নয়। তবে, ডাক্তারসহ জনবল সংকট থাকায় চিকিৎসা সেবা কিছুটা ব্যহত হচ্ছে।