দর্পণ ডেস্ক : সারাবিশ্ব যখন মহামারি কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে, এমন সময় অভিনব এক আবিষ্কারের খবর সামনে আসলো। মোবাইলের ক্যামেরা ব্যবহার করে জানা যাবে করোনার উপস্থিতি! বিজ্ঞানীরা এমনই বিস্ময়কর পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন বলে খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
ক্রিসপার নামে জিন এডিটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ পদ্ধতি আবিষ্কার করা হয়েছে। ফলে স্মার্টফোন ক্যামেরার মাধ্যমে সহজেই পরীক্ষা করা যাবে ভাইরাস করোনা।
ক্রিসপার নামে জিন এডিটিং প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে রসায়নে অবদান রাখায় ইতোপূর্বে নোবেল বিজয়ী হন বিজ্ঞানী ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা ড. জেনিফার ডৌডনা।
তার নেতৃত্বে মোবাইলের ক্যামেরায় করোনা সনাক্ত পদ্ধতি আবিস্কারের টিমে যুক্ত ছিলেন ভায়রোলজিস্ট মেলানি ওট ও ড্যানিয়েল ফ্লেচার। গবেষকরা জানিয়েছেন, অসংখ্য মোবাইল গ্রাহকের ওপর পরীক্ষা চালানোর পর তারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
সম্প্রতি সেল নামে একটি জার্নালে এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী জেনিফার ডৌডনা মোবাইল ক্যামেরায় জিন এডিটিং প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কিত বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।
জেনিফার জানিয়েছেন, ক্রিস্পার নির্ভর প্রযুক্তির সাহায্যে লালারসের নমুনাকে মেশানো হয় ‘ক্যাস ১৩’ একটি এনজাইমের সঙ্গে। যা চিহ্নিত করতে পারে করোনার জিনগত উপাদানকে। মেশানো নমুনাকে একটি যন্ত্রে রেখে স্মার্টফোনকে যুক্ত করা হয়। তখন ওই মিশ্রণে যদি করোনার জিনের উপস্থিতি থাকে তাহলে রঙের পার্থক্যের কারণে এনজাইম তাকে খুঁজে বিচ্ছিন্ন করে।
নোবেল বিজয়ী এ বিজ্ঞানী জানান, করোনা পরীক্ষার সবচেয়ে আধুনিক পদ্ধতি হলো আরটি পিসিআর টেস্ট। যেখানে আক্রান্তের নমুনায় আরএনএ কে ডিএনএতে বদলাতে হয়। তাছাড়া বহু রাসায়নিক প্রয়োগের কারণে এ প্রক্রিয়া বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ।
অপরদিকে, ক্রিস্পার পদ্ধতি সরাসরি আরএনএ ভাইরাসকে চিহ্নিত করে কোন ধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় বদল ঘটানো ছাড়া। এতে সময়ও বাঁচবে।
এছাড়া, নতুন টেস্ট কিটে ব্যবহার করা হবে ক্যাস ১৩ প্রোটিন যা আরএনএ ভাইরাসের সঙ্গে মিশে যাবে। এরপর সেখান থেকে এক ধরনের উজ্জ্বল আলো বের হবে যা সংকেত দিবে। সেই আলো ধারণ করবে ডিভাইসে যুক্ত থাকা মোবাইল ক্যামেরা। ওই সংকেত বুঝেই জানা যাবে ভাইরাস রয়েছে কিনা। আর টেস্টের রেজাল্ট নেগেটিভ না পজিটিভ তাও জানাবে ক্যামেরায় ধরা পড়া সংকেত।