ফাইল ছবি

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া হজ ফিরতি ফ্লাইট চলবে ৪ আগস্ট পর্যন্ত।

স্থানীয় সময় শনিবার সৌদিতে আনুষ্ঠানিকভাবে হজ কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর শুরু হয় হাজিদের নিজ নিজ দেশে ফেরার পালা।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ফিরতি ফ্লাইটটি ৪১৬ জন হাজি নিয়ে জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ বিমানবন্দর থেকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে যাত্রা করে। সেটি ঢাকার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমান কর্মকর্তারা জানান, হাজিদের জন্য পবিত্র জমজম কূপের পানি আগেই ঢাকার বিমানবন্দরে বহন করা হয়েছে। বিমান, সৌদি ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে এই পানি বহন করা হয়। বিমানবন্দরে বিমানের পক্ষ থেকে ওই পানি হাজিদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়।

এ সময় বিমানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও, বিমানের পরিচালক (গ্রাহক সেবা), ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর চেয়ারম্যান, শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালকসহ বিমানের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে হাজিদের স্বাগত জানান।

হজ শুরুর আগে গত ৪ জুলাই শেষ ফ্লাইটে প্রায় ৩০ জন যাত্রী নিয়ে সৌদি আরব যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট।

চলতি বছরের হজ-পূর্ব ফ্লাইট সফল হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিমান এ বছর কোটা অনুযায়ী ২৯ হাজার ৯৯২ হজযাত্রীকে নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছে দেয়।

বিমানের সবশেষ হজ-পূর্ব ফ্লাইট বিজি-৩১৪১ রোববার সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে যাত্রা করে ঝামেলাহীনভাবে জেদ্দায় পৌঁছায়।

হজ-পূর্ব কর্মসূচিতে ৬৭টি ডেডিকেটেড ফ্লাইট ও ২০টি শিডিউল ফ্লাইটসহ বিমান ৮৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। আর এজন্য প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহার করেছে বহরে থাকা নিজস্ব চারটি বোয়িং ট্রিপল সেভেন উড়োজাহাজ।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দুই বছর বিধিনিষেধ থাকার পর এবার স্বাভাবিক পরিবেশে পলিত হয় পবিত্র হজ। শুক্রবার হজের মূল আনুষ্ঠানিকতায় সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন মুসল্লিরা।

সারা বিশ্বের ১০ লাখ মুসল্লির ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক…’ ধ্বনিতে মুখরিত হয় আরাফাতের ময়দান।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থানের পর মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। রাতে সেখানে খোলা মাঠে অবস্থান করে শয়তানের উদ্দেশে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় পাথর সংগ্রহ করেন তারা।

শনিবার মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করে মিনায় ফেরেন হাজিরা। পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করেন। মিনায় শয়তানের উদ্দেশে পাথর নিক্ষেপ ও মক্কায় বিদায়ি তাওয়াফ করার মধ্য দিয়ে শেষ হয় হজের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর শুরু হয় হাজিদের দেশে ফেরার পালা।