নিহত আব্দুল বারী- ফাইল ছবি

শনিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান ডিবি পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান। মানসিক অবসাদ ও শারীরিক সমস্যার কারণে আব্দুল বারী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করেন তিনি।

ডিসি মশিউর রহমান বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকেই গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করে ডিবি পুলিশ। আব্দুল বারীর আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না। তিনি খুব অল্প মানুষের সঙ্গে মিশতেন। তার কোনো বন্ধু বা শত্রু ছিল না। তিনি কোনো প্রেম বা পরকীয়া সম্পর্কেও লিপ্ত ছিলেন না। তার ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইস পর্যালোচনা করে তেমন কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি। তিনি কোনো নেশায়ও আসক্ত ছিলেন না। তবে মাঝে-মধ্যে চর্ম, যৌনরোগের হারবাল ওষুধ খেতেন।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার দিন পুরো সময় বাসায় ছিলেন আব্দুল বারী। রাত ৮টার দিকে বের হয়ে উদ্দেশ্যহীন বিভিন্ন অলিগলিতে হেঁটেছেন। একই রাস্তায় বারবার হেঁটেছেন তিনি। কয়েকটি দোকান ঘুরে ২০ টাকা দিয়ে একটি ছুরি কেনেন। পরে দোকানের রাস্তা অতিক্রম করে গাউসুল আজম মসজিদে বেশ কিছু সময় অবস্থান করেন। সেখান থেকে প্রায় ৪০-৫০ মিনিট হেঁটে গুলশান-বনানী পার হয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছুরি দিয়ে নিজেই গলা কাটেন।

ডিসি মশিউর বলেন, মানসিক অবসাদ থেকে নিজেই গলা কেটে আত্মহত্যা করতে পারেন আব্দুল বারী। তার লাশ উদ্ধারের সময় মোবাইল ও মানিব্যাগে থাকা ৯০০ টাকা পাওয়া যায়। কেউ ছিনতাই করতে গেলে মোবাইল ও টাকা-পয়সা ফেলে রেখে যাওয়ার কথা নয়। এ মামলা তদন্ত করতে গিয়ে একাধিক ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রাজধানীর যেসব ভাসমান অপরাধী অর্থের বিনিময়ে অপরাধ সংগঠিত করে, তাদেরও অনুসরণ করা হয়।

গত ৭ জুন রাতে মহাখালীর ভাড়া বাসা থেকে বের হন আব্দুল বারী। আর বাসায় ফেরেননি তিনি। ৮ জুন সকালে ছিন্নমূল কয়েকজন শিশু হাতিরঝিল লেক পাড়ে লাশ দেখে পুলিশকে জানায়। ঐ ঘটনায় গুলশান থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের ভাই মো. আব্দুল আলীম। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশের গুলশান বিভাগকে। লাশ উদ্ধারের এক মাস আটদিন পর ডিবিসি নিউজের প্রযোজক আব্দুল বারীর আত্মহত্যার কথা জানাল ডিবি পুলিশ।