ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের ফুলের বাগান- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এছাড়া হাসপাতাল সিসি ক্যামেরার আওতায় আনায় দালালদের অপতৎপরতা কমেছে। জরুরি বিভাগে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসকদের রোগী দেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রয়েছে প্রতিটি ওয়ার্ড ও বাথরুম। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন হওয়ায় সেবাপ্রত্যাশীদের প্রশংসায় ভাসছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স বা দালালের উৎপাত আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। মূল ফটকে নেই হকার ও দোকানপাট। টিকিট নেয়া, টাকা জমা দেওয়া, ঔষধ বিতরণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, জরুরি বিভাগ বা বহির্বিভাগে রোগী দেখানোসহ সব জায়গাতেই শৃঙ্খলা দৃশ্যমান। মূল ফটক দিয়ে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে সুদৃশ্য ফ্রন্ট-ডেস্ক। সেখান থেকেই রোগীর স্বজনরা জেনে নিতে পারেন সেবা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য। প্রথম ও দ্বিতীয় তলার প্রতিটি ওয়ার্ড, বারান্দা, বাথরুম পরিষ্কার রাখার জন্য কাজ করেন ৭/৮ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। রোগীদের সেবায় সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকেন চিকিৎসক, নার্স, আয়া, ওয়ার্ডবয়। বহির্বিভাগে ল্যাব ও চিকিৎসক কক্ষের সামনে দেওয়া হয়েছে একাধিক বেঞ্চ এবং সিলিং ফ্যান। এমন সুস্থ পরিবেশে হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের স্বস্তি মিলেছে।

হাসপাতালের দুটি ভবনের মাঝের অংশের একটি ফাঁকা জায়গায় বছরখানেক আগেও থাকতো আবর্জনার স্তূপ, যা পরিষ্কার করে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফল ও ফুলের গাছ। এখন হাসপাতালের বারান্দা দিয়ে হাঁটলে নাকে আসে হাসনাহেনা ফুলের সুবাস। আশির দশকে নির্মিত আধুনিক হাসপাতালই এখন ১০০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল। পাশেই নির্মিত হচ্ছে ২৫০ শয্যার নতুন ভবন। সেটি চালু হলে সেবার মান আরো বাড়বে বলে মনে করেন সাধারণ রোগীরা।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এইচএম জহিরুল ইসলাম বলেন, বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীর কমতি নেই। কিন্তু দরিদ্র মানুষের আক্ষেপ, তারা ঐ সব জায়গায় যেতে পারেন না। সেই আক্ষেপ দূর করার একটা চেষ্টা এই হাসপাতালে সুন্দর পরিবেশ তৈরির পেছনে কাজ করেছে। এর ফলে যেকোনো মানুষ এখানে এসে বলবেন, বেসরকারি ক্লিনিকে না গিয়ে ভুল করিনি।

তিনি আরো বলেন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা খুবই আন্তরিক। এছাড়া সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে সব ব্যাপারে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয়, আয়াসহ হাসপাতালের সকল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ডা. এইচএম জহিরুল ইসলাম বলেন, জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছি। এখন তা বহাল রাখাই আমার প্রধান লক্ষ্য। সেই মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছি। চিকিৎসক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে সময়মতো হাসপাতালে আসেন এবং সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন তা নিশ্চিত করা হয়েছে। হাসপাতালে কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে বা অনিয়মের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা আরো উন্নত করার জন্য আমি চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই। এ সময় সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।