ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

জানা গেছে, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে না। বাজার থেকে এন্টিবায়োটিক কিনে শিশুদের পুশ করতে হচ্ছে। 

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ দিনে উপজেলার ৭৫ জন শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। উপজেলার সদর ইউপি, চাওড়া, হলদিয়া ও কুকুয়া ইউপিতে নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেশি দেখা দিয়েছে।

এদিকে সরকারিভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৫ জন হলেও বেসরকারিভাবে আক্রান্তের সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে বলে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

রোববার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেছে, ১৫ জন শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেডে চিকিৎসা নিচ্ছে। 

নাচনাপাড়া গ্রামের রাবেয়া তার তিন মাসের শিশু হামিমকে নিমোনিয়ায় আক্রান্তের পর হাসপাতালে ভর্তি করেছে। চাওড়া লোদা গ্রামের নাহার বেগম তার চার মাসের শিশু কন্যা তাইয়্যেরাকে গত চারদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। চাকামুইয়া গ্রামের সাইদুর রহমানের এক মাস বয়সী তামিমকে গত পাঁচদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। 

তামিমের বাবা সাইদুর রহমান বলেন, পাঁচদিন ধরে ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। তবে হাসপাতাল থেকে কোন এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে নিউমোনিয়ার এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে।

হামিমের মা রাবেয়া বেগমের অভিযোগও প্রায় একই ধরনের। তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে শুধু সুই ছাড়া আর কিছুই পাচ্ছি না। সকল ধরনের ওষুধ বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের এন্টিবায়োটিক ইনজেকশনের সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, বৈরি আবহাওয়ার কারণে নিউমোনিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এন্টিবায়োটিকের ইনজেকশন নেই, তবে সিরাপ রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন আনা হবে।