অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বকাপ থেকে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় কিন্তু রাশিয়ায় শুরু হয়নি। জার্মানি, আর্জেন্টিনা, স্পেনেরও অনেক আগে বিদায় নিয়েছে ইতালি। চারবারের বিশ্বকাপজয়ীদের ছিটকে দেওয়া দলটির নাম সুইডেন। গত বছরের নভেম্বরে ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইপর্বে আজ্জুরিদের বিদায় করে দেয় স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশটি। সুইডেনের সামনে এবার আরেক সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। কিংবদন্তি পেলের আবির্ভাবের বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়া দলটি কি পারবে হ্যারি কেন বাহিনীকে বাড়ি পাঠিয়ে দিতে? নাকি ইংলিশদের জয়োৎসবের মঞ্চে আক্ষেপ নিয়ে নিজেরাই হবে বাড়িমুখো?

জানা যাবে আজ রাত ৮টায় শুরু ম্যাচের পর।

সুইডিশ অধিনায়ক আন্দ্রেস গ্রাঙ্কভিস্টের কিন্তু বাড়ি যাওয়ার তাড়া আছে। বৃহস্পতিবার রাতে বাবা হয়েছেন তিনি। কন্যাসন্তানের জন্মের খবর দিতে গিয়ে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেছেন, ‘একজন ব্যক্তির জীবনে সবচেয়ে বড় পাওয়া হচ্ছে মেয়ের বাবা হওয়া।’ ঠিক পরের কথাটিতেই প্রত্যয়ের সুর সুইস ডিফেন্ডারের, ‘… আর বিশ্বকাপ হচ্ছে একজন ফুটবলারের স্বপ্ন।’ সেই স্বপ্নের মঞ্চ ছেড়ে এখনই বাড়ি যেতে রাজি নন গ্রাঙ্কভিস্ট। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে খেলতে চান বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। আর সেই চাওয়া পূরণের অনুপ্রেরণা কিন্তু নবজাতক সন্তানই। তবে সন্তান-সৌভাগ্যের দাবিদার যে একমাত্র গ্রাঙ্কভিস্ট, তা কিন্তু নয়। ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার ফ্যাবিয়াহ দেলফও মেয়ের বাবা হয়েছেন তিন দিন আগে। গ্রাঙ্কভিস্ট এখনও দেশে যেতে পারেননি। তবে দলের কাছে ছুটি নিয়ে দেলফ ঘুরে এসেছেন ইংল্যান্ড থেকে। দেখা যাক, সন্তান-সৌভাগ্য শেষ পর্যন্ত কার কপালে জোটে? তবে দুই দলের ভাবনার মূলে সন্তান প্রসঙ্গ আপাতত গৌণ বিষয়। আসল হচ্ছে মাঠের খেলায় শক্তি-সামর্থ্যে এগিয়ে থাকা। ইংল্যান্ড একবার বিশ্বকাপ জিতেছে, সুইডেন কখনও জিততে পারেনি- ঠিক এ কারণে কিন্তু কেউ এগিয়ে বা পিছিয়ে নেই। মুখোমুখি লড়াইয়ের দিক থেকে ইংল্যান্ড এগিয়ে তো, বর্তমান ফর্মে সুইডেন। এ পর্যন্ত ২৪ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এর মধ্যে ইংল্যান্ডের জয় আটটি, সুইডেনের সাতটি। বিশ্বকাপের দুটিসহ বাকি নয়টি ম্যাচে সমতা। ২০০২ বিশ্বকাপে ছিল ১-১, ২০০৬ বিশ্বকাপে ২-২। জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপের ম্যাচটিতে ইংল্যান্ড দলে ছিলেন গ্যারেথ সাউথগেট। ৪৭ বছর বয়সী সাবেক এই ডিফেন্ডার এখন ইংল্যান্ড কোচ। ষোলো বছর আগের সেই ম্যাচের কথা স্মরণ করে সাউথগেট এখন সতর্ক, ‘ওদের বিপক্ষে আমাদের রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। আমার মনে হয় সুইডেনকে আমরা সব সময় একটু খাটো করে দেখে এসেছি। তবে এ দলটি এর চেয়ে বেশি সম্মানের দাবি রাখে। তাদের ভালো পরিকল্পনা থাকে। খেলার ধরনটা ভালো। এবারের লড়াইটা আমাদের জন্য কঠিনই হবে।’ ইংল্যান্ড শেষ আটে আসার পথে চার ম্যাচের মধ্যে সরাসরি জয় পেয়েছে দুটিতে। ‘জি’ গ্রুপে পানামা ও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে। পরিবর্তিত একাদশ দিয়ে খেলানো বেলজিয়াম ম্যাচে হার ১-০-তে। শেষ ষোলোর খেলায় ইংল্যান্ডকে কলম্বিয়ার বিপক্ষে জিততে হয়েছে পেনাল্টি শুটে গিয়ে। বিপরীতে সুইডেনের যাত্রা আরেকটু মসৃণ ছিল। গ্রুপ পর্বে জার্মানির কাছে শেষ মুহূর্তের গোলে হারলেও জিতেছিল মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। দ্বিতীয় রাউন্ডে সুইজারল্যান্ডে বিপক্ষে জয় ১-০-তে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা সুইডেন বিশ্বকাপের সেমিতে খেলেছে সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে। ইংল্যান্ডের অপেক্ষাটা আরও বেশি দিনের। ১৯৯০ বিশ্বকাপে শেষ চারে খেলার পর আটকে থাকছে কোয়ার্টার ফাইনাল, দ্বিতীয় রাউন্ড এমনকি প্রথম রাউন্ডেও। যে দলই জিতবে, তাদের জন্যই হাতছানি দেবে ১৫ জুলাইয়ের ফাইনাল। কারণ সেমির লড়াইয়ে পাওয়া যাবে ক্রোয়েশিয়া-রাশিয়ার যে কোনো একটিকে।