শিক্ষার্থীদের পাশে বন্ধুর মতো থাকেন দুইজন। লকডাউনে বাড়ি পৌঁছাতে পরিবহন সেবা, করোনাকালীন হল, পরিবহন ফি মওকুফ, ক্যাম্পাসের শ্রমজীবী মানুষের জন্য সহায়তা, কৃষকের ধান কেটে দেয়াসহ নানামুখী কাজে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তারা। ব্যতিক্রম হয়নি চলমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো ক্ষেত্রেও।
চট্টগ্রাম থেকে চলমান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করতে তারা ছুটে যান সিলেট ও সুনামগঞ্জে। ৫০০ পরিবারের কাছে চবি শাখা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে পৌঁছে দেন উপহার সামগ্রী। ২৫ জুন খাদ্যসামগ্রী নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে রওয়ানা দেন তারা।
রোববার (২৬ জুন) নৌকাযোগে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপুর নেতৃত্বে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই উপহার সামগ্রী দেয়া হয়।
জানা যায়, শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিজস্ব অর্থায়নে এ উপহার সামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়। খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যাতায়াতের সুবিধার্তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বাস দেয়া হয়।
সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, দেশের যে কোনো দুর্যোগে ছাত্রলীগ সবসময় জনগণের পাশে থাকে। সরকার বা বিরোধী দল যেই থাকুক না কেন, আমাদের দলের নেতাকর্মীরা সর্বদা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এবারের বন্যাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, মানবতার কল্যাণে ছুটে যাওয়াই ছাত্রলীগের ধর্ম। বন্যার ফলে সুনামগঞ্জের মানুষের দুরাবস্থা দেখে আমরা বসে থাকতে পারিনি। আমরা নিজ জায়গা থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।
এর আগে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহতদের রক্তদান, লাশ বহন রবং খাবার নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে ছিলেন চবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপুও হাসপাতালে সার্বক্ষণিক সহায়তা করতে অবস্থান করেন।
গতবছর সরকার ঘোষিত লকডাউনে জুলাই মাসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত করা হয় পরীক্ষা। কঠোর লকডাউন হওয়াতে শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফেরা ছিলেন দুশ্চিন্তায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বাস শুধু ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছে দেবে এমন ঘোষণায় বিপাকে পড়েন অনেকেই। এসময় শিক্ষার্থীদের পাশে বন্ধুর মতো এসে দাঁড়ায় চবি ছাত্রলীগ। তাদের ভূমিকায় শুধু ঢাকা নয়, বিভাগীয় শহরেও বাস চালুর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের দাবিতে শুরু থেকে ছাত্রলীগের ইতিবাচক ভূমিকা প্রশংসা পেয়েছে সবার।