ফাইল ছবি

আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

যে ৮ জনকে চাকরিতে বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- গণিত বিভাগের প্রভাষক সিরাজুল ইসলাম, বাংলা বিভাগের প্রভাষক হোমায়রা আখতার, ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা বিভাগের প্রভাষক মতিউর রহমান, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন বিভাগের প্রভাষক মতিয়ার রহমান, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সামছুন নাহার, চারু ও কারুকলা বিভাগের সহকারী শিক্ষক উৎপল কুমার বিশ্বাস, ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা সহকারী শিক্ষক মাহবুবুল্লাহ ও সহকারী গ্রন্থাগারিক নন্দিতা নন্দী।

রোববার এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আতিকুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী এম আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিয়োগপ্রাপ্ত ৮ শিক্ষক-কর্মচারীর চাকরি চলমান বা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে কেন তাদের চাকরি জাতীয়করণ বা আত্মীকরণ প্রক্রিয়ায় অন্তুর্ভুক্ত করা হবে না, সেই মর্মে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছেন।

তিনি বলেন, নিয়ম মেনে ৮ শিক্ষক-কর্মচারীকে ২০১৫-২০২২ সালের মধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রথমে তাদের অস্থায়ী ও খণ্ডকালীন ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তাদের চাকরি পূর্ণকালীন ও চুক্তভিত্তিক করা হয়। তখন ঐ প্রতিষ্ঠানের শুধুমাত্র আর্থিক সামর্থ না থাকায় তাদের চাকরি পূর্ণকালীন ও স্থায়ী করা হয়নি।

‘পরে ২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ বা সরকারিকরণ করা হয়। এ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্বে ঐ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্মীকরণের লক্ষ্যে স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক ৫৭ জনের নামের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসব প্যাটর্নভুক্ত শূন্যপদ এবং পদসমূহের বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত পূর্ণকালীন চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক-কর্মচারীদের নাম বাদ দিয়ে শুধু স্থায়ী ৩৪ জনের নাম জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।’

আইনজীবী আতিকুর রহমান বলেন, অথচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ হওয়ার আগে থেকে স্থায়ী শিক্ষক-কর্মচারীদের মতো পূর্ণকালীন চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকও কর্মরত রয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের ফলে পূর্ণকালীন ‍চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকরি জাতীয়করণ বা আত্মীকরণ প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েন।

তিনি আরো বলেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি তাদের চাকরি জাতীয়করণ প্রক্রিয়ায় আত্মীকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের চেয়ারম্যান এবং যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশের পরও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ২৯ জুন পূর্ণকালীন চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত ৮ শিক্ষক-কর্মচারী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত তাদের চাকরি চলমান রাখার নির্দেশ দিয়ে ‍রুল জারি করেছেন।