অনলাইন ডেস্ক : নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের চলা আন্দোলনে ফেসবুকে উস্কানিমূলক স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগে এক অন্তঃসত্ত্বা স্কুল শিক্ষিকাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মামলা করে কলাপাড়া থানা পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

গ্রেফতার হওয়া শিক্ষিকা নুসরাত জাহান সোনিয়া (২৬) পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নেছারাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দক্ষিণ টিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।

শনিবার রাত ১টা ৫ মিনিটে পৌর শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কের ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে কলাপাড়া থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

কলাপাড়া জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে পুলিশ ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে। কিন্তু গ্রেফতার শিক্ষিকা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনা করে দুদিন তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন আদালত। রবিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) আলী আহম্মেদের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানী শেষে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারক মো: মনিরুজ্জামানের আদালত এ আদেশ দেন।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


গত ৩ আগস্ট শিক্ষিকা নুসরাত জাহান সোনিয়ার ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

পুলিশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নুসরাত জাহান সনিয়া তার আইডি দিয়ে দেশের আইন শৃংখলার অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার লক্ষ্যে এবং শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে উসকে দিতে একটি পোষ্ট দেন। এরপর প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তার অবস্থান সনাক্ত করে শনিবার গভীর রাতে পৌরশহরের নজরুল ইসলাম সড়কের ভাড়াটে বাসা থেকে তাকে আটক করে। এসময় তার কাছ থেকে একটি ট্যাব ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করে পুলিশ। এরপর কলাপাড়া থানার এসআই বিল্পব মিন্ত্রী বাদী হয়ে নুসরাত জাহান সনিয়া’র বিরুদ্ধে রবিবার সকালে কলাপাড়া থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ (২) ধারায় একটি মামলা দায়ের করে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই কুর্মিটোলায় জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এছাড়া আহত হন বেশ কয়েকজন। নিহত শিক্ষার্থীরা হল শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মীম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব।

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তার অবস্থান নেওয়ার পর থেকে ঢাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোয় বাস চলাচল একেবারেই কমে যায়। এমনকি আন্তজেলা বাস চলাচলও বন্ধ করে দিয়েছেন মালিক ও শ্রমিকরা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে এরই মধ্যে ২০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন। নৌমন্ত্রী শাজাহান খানও নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন।

এরই মধ্যে গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতারা বলেছেন, নিরাপদ বোধ না করা পর্যন্ত তাঁরা রাস্তায় বাস নামাবেন না। ফলে অঘোষিত ধর্মঘট চলছে।