সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উৎসব শুরু ১৬ জুলাই

দর্পণ প্রতিবেদক: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব শুরু হচ্ছে আগামী ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার। ইসকন বাংলাদেশ এ উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় রাজধানীতে বর্ণাঢ্য রথযাত্রা শোভাযাত্রা সহ ৯ (নয়) দিনব্যাপী  বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। উৎসবের প্রথম দিন সকাল ৮ টায় ঢাকাস্থ ইসকন স্বামীবাগ মন্দিরে বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ ও দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ সহযোগে বিশেষ অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মাধ্যমে এই রথযাত্রার শুভ সূচনা করা হবে।

প্রধান অতিথি হিসেবে রথযাত্রার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী  এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) – হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক) বিজন কান্তি সরকার।

সমাপনী  অনুষ্ঠান উল্টো রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৪ জুলাই শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শুরু হয়ে পুনরায় স্বামীবাগ মন্দিরে এসে শেষ হবে।উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর স্বামীবাগ আশ্রমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ইসকন বাংলাদেশের সভাপতি শ্রী সত্যরঞ্জন বাড়ৈ ও সাধারণ সম্পাদক শ্রীমৎ ভক্তিময় নিতাই স্বামী।

সংবাদ সম্মেলনে রথযাত্রা মহোৎসবের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে লিখিত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক জানান, ওড়িশার পুরী রথযাত্রার পরেই ইসকন ঢাকার এই আয়োজনটি বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ রথযাত্রা হিসেবে স্বীকৃত। এ বছর অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সারা বাংলাদেশে ইসকনের তত্ত্বাবধানে ১২৮টি স্থানে বর্ণাঢ্য রথযাত্রা উৎসব উদ্যাপিত হতে যাচ্ছে।

পরমেশ্বর ভগবান শ্রীচৈতন্যদেবের সার্বজনীন প্রেমধর্মে দীক্ষিত ইস্কনের প্রতিষ্ঠাতা-আচার্য শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ এই রথযাত্রার বিশ্বায়ন ঘটিয়েছেন। তাঁরই মহতী প্রচেষ্টায় ১৯৬৭ সালে আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকো শহরে সর্বপ্রথম এই উৎসবের বিশ্বযাত্রা শুরু হয়। আজ বিশ্বব্যাপী এই উৎসবের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে সমগ্র ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশের বড় বড় প্রধান শহরগুলোতে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে রথযাত্রা উদ্যাপিত হচ্ছে, যা প্রকারান্তরে আমাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসবের মূল বার্তাটি হলো সামাজিক মেলবন্ধন ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠন। ‘জগন্নাথ’ শব্দের অন্তর্নিহিত অর্থ হলো ‘জগতের নাথ বা প্রভু’। তাঁর দৃষ্টিতে উঁচু-নিচু, ধনী-দরিদ্র, জাতি-বর্ণের এই উৎসবে শামিল হন। এর মাধ্যমে আমাদের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, মৈত্রী, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় হয় এবং একটি হিংসা-বিদ্বেষহীন সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে এই উৎসব অনন্য ভূমিকা পালন করে।

ইসকন বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের এই গৌরবময় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক অক্ষুণ্ণ বন্ধন এবং জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করবে।

রথযাত্রা শোভাযাত্রার রুট ও সময়সূচি: ১৬ জুলাই (প্রথম দিন)- রথযাত্রা শুরুর রুট: দুপুরের পর শোভাযাত্রাটি রাজধানীর স্বামীবাগ আশ্রম থেকে শুরু হয়ে জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলার মোড়, পল্টন মোড়, প্রেস ক্লাব, কার্জন হল, দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনার ও পলাশীর মোড় হয়ে ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে পৌছাবে।

২৪ জুলাই (শেষ দিন)- উল্টো রথযাত্রার রুট: ৯ (নয়) দিনব্যাপী উৎসবের সমাপনী দিনে আগামী ২৪ জুলাই শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রাটি ঠিক একই রুটে শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শুরু হয়ে পুনরায় স্বামীবাগ মন্দিরে এসে শেষ হবে।

লিখিত বক্তেব্যের পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা ও শোভাযাত্রার রুট নিয়ে দর্পণ প্রতিদিন প্রতিবেদকের প্রশ্নের উত্তরে ইসকন বাংলাদেশের সভাপতি শ্রী সত্যরঞ্জন বাড়ৈ জানান শোভাযাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে কোন শঙ্কা নেই, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস পাওয়া গেছে। তিনি আরো জানান, সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের প্রস্তুতি অত্যন্ত জোরালো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি উৎসব প্রাঙ্গণ ও শোভাযাত্রায় পাঁচ শতাধিক প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবেন। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে উৎসব সম্পন্ন করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রক্ষা করা হচ্ছে।

শোভাযাত্রার রুট বিষয়ক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, নিরাপত্তার ঘাটতির কারনে নয় বরং মেট্রোরেলের কাজ চলমান থাকায় ইতিপূর্বে কয়েকবছর পল্টন মোড় হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব এর সামনে দিয়ে শোভাযাত্রা নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় নাই তবে এবছর উক্ত প্রধান রুট ব্যবহার করেই শোভাযাত্রাটি ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যাবে।

সাংবাদিকবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন-শ্রী জ্যোতিশ্বর গৌরহরি দাস ব্রহ্মচারী, কোষাধ্যক্ষ, ইসকন বাংলাদেশ, শ্রী বিমলা প্রসাদ দাস, সদস্য, কার্যনির্বাহী কমিটি, ইসকন বাংলাদেশ, শ্রী হৃষিকেশ গৌরাঙ্গ দাস, সদস্য, কার্যনির্বাহী কমিটি, ইসকন বাংলাদেশ, শ্রী শুভ নিতাই দাস, সদস্য, কার্যনির্বাহী কমিটি, ইসকন বাংলাদেশ।

আয়োজন সফলভাবে বাস্তবায়নের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, র‍্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা, বিদ্যুৎ বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, প্রতিরক্ষা বাহিনী, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমের সকল বন্ধুদের আন্তরিক সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।