বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের বর্ধিত সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে বলা হয়, দ্রব্যমূল্যসহ জীবনযাত্রার সীমাহীন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীরা জীবন নির্বাহ করা অসহনীয় হয়ে পড়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অবিলম্বে নবম জাতীয় জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা এবং বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয় স্বতন্ত্র পে স্কেল বেসরকারি শিক্ষকের দাবি নয়। স্বতন্ত্র পে স্কেলের নামে কালক্ষেপণ না করে সরকারি শিক্ষকদের একইসাথে সারাদেশের ৫ লক্ষাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নবম জাতীয় পে স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
আজ সকালে ঢাকাস্থ এনআইএসটি অডিটরিয়ামে বাকশিস সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় গৃহীত অপর প্রস্তাবে “শিক্ষায় বৈশ্বিক গুনগত মান অর্জনের লক্ষ্যে যোগ্যতা সম্পন্ন মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় নিয়োগদান এবং স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু স্বাভাবিক সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহকারী প্রধান ও শিক্ষক নিয়োগ জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ তথা এনটিআরসিএ এর মাধ্যমে অব্যাহত রাখাটায় যুক্তিযুক্ত এবং কল্যাণকর।” এব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ব্যতিক্রম কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে বিশেষ করে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির হাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান ও শিক্ষক নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ শিক্ষাব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং শিক্ষায় নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়ে প্রশাসনিক ও একাডেমিক পরিবেশ মারাত্মক ব্যাহত হবে বলে সভায় অভিমত ব্যাক্ত করা হয়।
সভায় গৃহীত উক্ত প্রস্তাবে বলা হয়” শিক্ষার সামগ্রিক উন্নয়নে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনায়ন, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং যোগ্যতা সম্পন্ন মেধাবী শিক্ষক নিয়োগের জন্য শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করার পূর্ব পর্যন্ত ” স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ কমিশন” গঠন এবং শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ সহ বাকশিস এর ১২ দফা দাবি বাস্তবায়নের তাগিদ দেয়া হয়।
সভায় গৃহীত অপর প্রস্তাবে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড কর্তৃক অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের প্রাপ্য অর্থ কিস্তিতে পরিশোধের সিদ্ধান্তকে অবাস্তব, অযৌক্তিক ও অমানবিক হিসেবে অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে। এধরণের অযৌক্তিক ও অবাস্তব সিদ্ধান্ত বাতিল করে পূর্বের ন্যায় শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রাপ্য টাকা একসাথে প্রদান করার জন্য দাবি জানানো হয়েছে।
সভার শুরুতে প্রয়াত বাকশিস সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ফয়েজ হোসেন, বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, বাকশিস এর জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে মৃত্যুবরণকারী শিক্ষক নেতৃবৃন্দ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের জন্য শোক প্রস্তাব গ্রহণ করে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
সভায় ২০২৪ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পরবর্তী সময়ে সারাদেশে শিক্ষক নির্যাতন, চাকুরীচ্যুতি এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে শিক্ষক হয়রানির তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। অবিলম্বে নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা, চাকুরীচ্যুতদের পুনর্বহাল, এবং শিক্ষকদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
সভায় আগামী ৫ অক্টোবর সারাদেশে বাকশিস এর উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় “বিশ্ব শিক্ষক দিবস” পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
সভায় সাংগঠনিক প্রস্তাবে আগামী ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে তারিখের মধ্যে প্রতিটি জেলা ও মহানগর শাখার সম্মেলন সম্পন্ন করে কমিটি পুনর্গঠন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
সভায় বক্তব্য রাখেন বাকশিস কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী, অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম হাবুল, অধ্যক্ষ হানিফ হোসেন তালুকদার, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান খোকন, অধ্যাপক আজহার আলী, অধ্যক্ষ মতিয়ার রহমান, অধ্যাপক আবদুর রহমান, অধ্যক্ষ ফরিদ আহমদ, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক আবদুর রহিম, প্রয়াত অধ্যক্ষ ফয়েজ হোসেন এর সহধর্মিণী দিলরুবা বেগম, অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম, অধ্যাপক আবদুল আউওয়াল, অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।






