বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে দেকার্ত পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার পদ্ধতি ব্যবহার করতেন। কিন্তু তাঁর বিজ্ঞানের পদ্ধতি ছিল যুক্তিবাদী এবং অপ্রয়োগবাদী। বিশ্বাস করতেন যে, ‘বিজ্ঞানের ভিত্তি হবে দর্শন।’ তাই দেখি দেকার্তের দর্শনের চরম বিকাশ, যখন তিনি সমস্ত প্রাকৃতিক ঘটনা বা ক্রিয়াকে রূপান্তরিত করেন বস্তু ও গতির ধর্মে। এই যান্ত্রিক দর্শনের উপস্থাপনাই হচ্ছে দেকার্তের বিজ্ঞান দর্শনের সবচেয়ে বড় কীর্তি। দেকার্ত মধ্যযুগের অ্যারিস্টটলপন্থিদের পরম কারণবাদীয় চিন্তার বিরোধী ছিলেন, তাঁর দর্শনকে বলা হয় গণিতায়িত দর্শন।
রেনে দেকার্তকে নতুন করে আবিস্কার করা গেল কানাডার কুইবেকে। একদা ফরাসি উপনিবেশ। ভাষাও এখনো ফরাসি। ইংরেজির চল আছে। দুটোই কানাডার রাষ্ট্রভাষা। রেনে দেকার্তের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২০০১ সালের ৩১ মার্চ কুইবেক ম্যাথেমেটাইজড ফিলসফিক্যাল সোসাইটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত। ঘটনাচক্রে সে সময় অটোয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালনরত থাকায় আমন্ত্রিত হবার সুযোগ মিলেছে। দেকার্তের ৪শততম জন্মবার্ষিকী ১৯৯৬ সালে বেশ বড়সড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। প্রতি বছরই জন্মবার্ষিকী পালন করে। সেমিনারে ইউরোপ, আমেরিকা, ফ্রান্সের দার্শনিক, গণিতবিদ; বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষকরা যোগ দেন। দেকার্ত ফরাসি বলেই বোধ হয় গুরুত্বটা বেশি। দেকার্তকে দার্শনিক হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করতে হয়েছে বুঝে না বুঝে। তবে নতুন করে উপলব্ধি করা গেল সেমিনারে যে, মূলত দেকার্তই মধ্যযুগীয় ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্র তৈরি করেছেন। যে কারণে চারশ বছর পরও স্মরণযোগ্য।
দেকার্তের পূর্বে দর্শনশাস্ত্র কেবলমাত্র প্রাচীন গ্রীক ভাবধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। নতুন নতুন চিন্তাধারা প্রয়োগের ফলে দর্শনের অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হয়েছিল। তবে এতে সংকুচিত হয়ে পড়েছিল গ্রীক মনীষীদের চিন্তাধারা, পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ। দর্শনশাস্ত্রে দেকার্তের সবচেয়ে বড় অবদান, দর্শনকে বিজ্ঞানের যুক্তিনির্ভর করে তুলতে তিনিই সবার আগে প্রয়াসী হয়েছিলেন। তারই পদ্ধতি পরবর্তী দীর্ঘকাল বহুলাংশে অনুসৃত হয়েছে। দর্শনকে তিনি রচনা করেছেন গণিতের ছাঁচে, যা তাঁকে আজও স্মরণযোগ্য করে রেখেছে।
ইউরোপে যখন রেনেসাঁ পূর্ণতাপ্রাপ্ত, ইউরোপীয়রা নতুন চোখে দেখছে পৃথিবীকে তখন; ১৫৯৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ মার্চ ফ্রান্সের লা-এ (LA HAYE) শহরে জন্মগ্রহণ করেন দেকার্ত। অবশ্য পরবর্তীতে শহরটি নামকরণ হয় তাঁর নামে ‘লাএ দেকার্ত’ (LA HAYE DESCARTES)। তাঁর জন্মের আগেই পনেরো শতকে ইউরোপে বৈজ্ঞানিক বিপল্গবের ধারা চালু হয়ে গেছে। রেনেসাঁ মানুষকে নিয়ে এসেছে পৃথিবীর কেন্দ্রে। ইউরোপীয় চিন্তার জগতে এক নতুন মেজাজ ও বোধ নিয়ে এসেছিল রেনেসাঁ। শুরু হয়েছিল সত্যকে জানার এক নির্মোহ অনুসন্ধান। চার্চের ঈশ্বর সংক্রান্ত বিধানাবলির পরিবর্তে প্রকৃতির নিয়ম এবং ঈশ্বরের পরিবর্তে ঈশ্বরের তৈরি পৃথিবীর দিকে দৃষ্টি ফিরিয়েছিল ইউরোপ। পনের শতক থেকে উদ্ভিদ ও প্রাণী জগৎ এবং ভৌতবিজ্ঞানের নানা ক্ষেত্রে চর্চা শুরু হয়েছিল। রেনেসাঁস হচ্ছে সত্যসন্ধ, ন্যায়কামী, সৌন্দর্য পিপাসু মনের দুর্দমনীয় মহৎ সব প্রয়াস। অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে রেনেসাঁর প্রকাশ ঘটে এবং তা নতুন নতুন সৃষ্টি ও আবিস্কারের মধ্য দিয়ে। রেনেসাঁ এক ধনাত্মক বিকাশশীল চেতনা। যদিও প্রায় প্রতিটি জাতির মধ্যেই রেনেসাঁ আছে। তবু রেনেসাঁ বলতে মানুষ বোঝে ইউরোপীয় রেনেসাঁস ও তার প্রভাবে পৃথিবীর অন্যান্য ভূ-ভাগে বিভিন্ন জাতির মধ্যে সৃষ্ বৌদ্ধিক জাগরণকেই ধরা হয়। তাই রেনেসাঁসের আকৃতি-প্রকৃতি বুঝতে ইউরোপীয় রেনেসাঁসকেই ধরা হয়। মূলত এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী নতুন মাত্রা এনে দিয়েছিল নানা ক্ষেত্রে। এই রেনেসাঁস পরবর্তী আধুনিকতাবাদকে নিয়ে এসেছিলেন দেকার্ত। আর তাঁর কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েই মূলতঃ আধুনিক যুগের উদ্ভব।
মূল্যবান সব বিশ্নেষণে ভরপুর সেমিনারে ফ্রান্সের দ্যাগল বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক লুইনফো বার্তোলুচি তত্ত্ব ও তথ্য হাজির করলেন। তার ভাষ্য: প্রথাগত মতামতের বিরোধিতা করে দেকার্ত প্রকৃতিকে জয় করে তার উপর কর্তৃত্ব করার বৈপ্লবিক মতামত তুলে ধরেছিলেন। তারও আগে ত্রয়োদশ শতাব্দিতে রজারবেকন (১২১৪-১২৯৪), ‘লজ্ অব নেচার’ সম্পর্কে গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। রেনেসাঁস পূর্ববর্তী শতাব্দীগুলোতে উইলিয়াম ওকহাম (১২৮৬-১৩৪৯), নিকোলাস ওরোসমে (১৩২০-১৩৮২) এবং জন বুরিডান (১২৯৫-১৩৬০) প্রকৃতিকে পর্যবেক্ষণ করে প্রাকৃতিক নিয়মাবলি নিরূপণের চেষ্টা করেছিলেন। এদেরই ধারাবাহিকতায় ষোল-সতের শতকে ফ্রান্সিস বেকন (১৫৬১-১৬২৬) প্রকৃতিকে জয় করার নতুন নিয়মের প্রকাশ ঘটান। যাকে তিনি বলেছেন ‘বিজ্ঞানের ফসল’ আহরণ করার কথা। এর পরপরই দেকার্ত উপস্থাপন করলেন যে, ”সেই জ্ঞান আহরণ করা সম্ভব, যা জীবনে প্রয়োজনীয় বা দরকারি। বিদ্যালয়ে শেখানো হয় দূরকল্প দর্শন। তার বদলে খুঁজে পেতে পারি সেই ফলিত দর্শন, যার দ্বারা আমাদের ঘিরে আছে যে আগুন, জল, বায়ু, নক্ষত্রমণ্ডলি, আকাশ এবং তাদের ওপর যে বল ক্রিয়া করছে তা জানা যায়। ঠিক যেভাবে জানা যায়, বিভিন্ন কারিগরের কারুকাজ। ঠিক সেইভাবে তাদের ব্যবহার করে প্রকৃতির প্রভু হওয়া যেতে পারে।” তবে বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য দেকার্ত ‘ডিসকোর্স অন মেথড’ গ্রন্থে বলেছেন, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনা ”Would enable us to enjoy the fruits of agriculture and all wealth of the earth without labour” চিকিৎসার ক্ষেত্রে যে বিজ্ঞানের প্রয়োজন অত্যধিক সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন দেকার্ত। যে কারণে লিখেছেন যে, বিজ্ঞানের প্রয়োগে মানুষ ‘শরীর ও মনের রোগ’ এবং ‘বার্ধক্যের অক্ষমতা’ থেকে মুক্ত হবে।
মূলত দেকার্ত একজন গাণিতিক দার্শনিক। যান্ত্রিক দর্শনেরও প্রথম প্রবক্তা। তাই দেখা যায়, নিউটন যখন ‘প্রিন্খিপিয়া’ লিখছেন, তখন ইউরোপে বিজ্ঞান জগতে দেকার্ত প্রবর্তিত যান্ত্রিক দর্শন দাপটে রাজত্ব করছে। দেকার্তের বিশ্বকে দেখার নতুন দর্শন মধ্যযুগে এরিস্টটলীয় শিষ্যদের বিশ্বধারণা থেকে একেবারে পৃথক। দেকার্ত মনে করতেন, ”মানুষই হলো সমস্ত কিছু বিচারের কেন্দ্রবিন্দু। মানুষের বৈশিষ্ট্য তার মস্তিস্কের অপার সম্ভাবনায়, সে চিন্তা করতে পারে।” দেকার্তের এই চিন্তার প্রতিফলন দীর্ঘ সময়ে অন্যদের প্রভাবিত করেছে।
আইনজীবী পিতার পুত্র দেকার্ত ১৬০৪ সালে ৮ বছর বয়সে লা ফ্লেচ্ শহরের স্কুলে শিক্ষা শুরু করেন। ১৬১৬ সালে ২০ বছর বয়সে Poitiers বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ডিগ্রি নেন। আইন পেশা শুরু করার সময়েই ১৬১৮ সালে ইউরোপে ‘ত্রিশ বছরের যুদ্ধে’ যোগ দিতে হয় বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেখানে তিনি শুরু করেন গণিতের ওপর গবেষণা। জ্ঞানের সাধারণ নকশা তৈরির কাজও চালিয়ে যান। তিনি ১৬১৯ সালে Bavarian army-তে যোগ দেন। পরে যুদ্ধের কাজকর্ম ছেড়ে দিয়ে চলে যান হল্যান্ডে। সেখানে ছিলেন টানা কুড়ি বছর। সতের শতকে এই দেশটি ছিল মুক্ত চিন্তার দেশ। অনেক দার্শনিক, বুদ্ধিজীবী স্বদেশত্যাগে বাধ্য হয়ে হল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছিলেন। গবেষণার ফলাফলে দেকার্ত যা পেয়েছেন, তাতে চার্চ তার ওপর ক্ষিপ্ত হতে পারে- এই আশঙ্কা ছিল। গ্যালিলিও কোপার্নিকাসসহ পূর্বসূরি অনেকের অবস্থাই তার জানা ছিল। চার্চ তাদের বিরুদ্ধে গুপ্ত দণ্ডাদেশও দিয়েছিল। সে কারণেও এক ধরণের শঙ্কা থেকে তিনি দেশত্যাগ করে থাকতে পারেন। এই সময় তিনি ‘লামন্ডে’ বা বিশ্ব বা দি ওয়ার্ল্ড গ্রন্থটি রচনা করলেও তা প্রকাশে আগ্রহী হননি। কারণ সে সময় চার্চের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর ধারণার বৈপরিত্য ছিল। ‘পৃথিবী ঘূর্ণায়মান এবং এই বিশ্ব অনন্ত’ ধারণার উল্লেখ ছিল গ্রন্থে। যে কারণে ১৬৬৪ সালে তাঁর মৃত্যুর পর এই গ্রন্থের কিছু অংশ প্রকাশিত হয়। বাকিটা থাকে অপ্রকাশিত। নরম প্রকৃতির, শান্তিপ্রিয় এবং ক্যাথলিক ধর্মে বিশ্বাসী দেকার্ত চেয়েছিলেন, চার্চগুলো যেন আধুনিক বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু তা হয়নি। বরং যে হল্যান্ড ছিল তার জন্য ঝঞ্ঝাটমুক্ত; সেখানেও প্রোটেস্টান্ট গোঁড়াপন্থিদের রোষানল সয়ে যেতে হয়েছে। এমনও হয়, যে UTRECHT এবং LEIDEN বিশ্ববিদ্যালয় দেকার্তের দর্শন পড়ানো হতো, প্রোটেস্টান্টদের চাপে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। তাদের অভিযোগ, দেকার্তের দর্শন নাস্তিকবাদী চেতনা লালিত এবং তা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। গ্যালিলিওর মতো ‘ইনকুইজিশন’ তাকে সহ্য করতে হয়নি হল্যান্ডের যুবরাজের তৎপরতার কারণে। চার্চের কারণেই দেখা যায়, ডিসকোর্স অন মেথড (১৬৩৭) গ্রন্থের ভূমিকায় দেকার্ত উল্লেখ করেন যে, এই গ্রন্থ প্রকাশের উদ্দেশ্য হলো ঈশ্বরের এবং মানুষের আত্মার অস্তিত্ব প্রমাণ করা। ১৬৪১ সালে প্রকাশিত ‘মেডিটেশন অব দ্য ফার্স্ট ফিলোজফি’ গ্রন্থের এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে তিনি নানা যুক্তি তক্কো গপ্পো জুড়ে দিয়ে প্রমাণ করলেন ঈশ্বরের অস্তিত্ব। গোঁড়াপন্থিদের সম্ভবত উপলব্ধি করাতে চাইলেন যে, তিনিও তাদের মতো একই বিশ্বাসকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর স্থাপন করতে চাইছেন। বহিরাঙ্গে এই কৌশলী রূপ ধারণ করলেও ভেতরে ভেতরে তিনি ধর্ম ও বিজ্ঞানকে পৃথকভাবেই মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
বছর দশেক পর, ১৬২৯ সালে দেকার্ত প্রকাশ করলেন তাঁর উদ্ভাবনার ফসল ‘সর্বজনীন নিয়ম’। যাকে তিনি পরে অভিহিত করেন, ‘স্বাভাবিক পদ্ধতি’ হিসেবে। কৈফিয়ত দেন যে, এই পদ্ধতি তিনি আবিস্কার করেছেন ‘ফ্রম দ্য ট্রেজারি অব দ্য ম্যাথমেটিক্যাল সায়েন্সেস’। তবে পদ্ধতির বিশদ ব্যাখ্যাও করেছেন। দেকার্ত তাঁর উদ্ভাবিত নতুন চিন্তার আলোকে কয়েক বছর ধরে গ্রন্থ রচনা করেন। অবশেষে ১৬৩৭ সালে একই সঙ্গে চারটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ‘জিয়োমেট্রি’, ‘ডায়োপট্রিকস’ ‘মেট্রোলজি’ এবং আলোচিত ‘ডিসকোর্স অন মেথড’।
দেকার্ত তাঁর পদ্ধতির অনুসন্ধান এবং পদ্ধতির প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করেছেন ‘ডিসকোর্স অন মেথড’ (১৬৩৭), এবং ‘দি মেডিটেশনস’ (১৬৪৪) গ্রন্থে। যাতে তিনি দেখিয়েছেন পাঁচটি পথ ও পদ্ধতি। প্রথমত, যুক্তির মহত্ত্ব। দ্বিতীয়ত, প্রাকৃতিক নিয়মের অপরিবর্তনীয়তা। তৃতীয়ত, দৈশিক বিস্তার এবং গতির তত্ত্বই হচ্ছে ভৌত বস্তুর মূল বৈশিষ্ট্য। চতুর্থত, শরীর ও মনের পার্থক্য। পঞ্চমত, বস্তুর কিছু গুণ সত্য এবং অন্তর্নিহিত। তার থেকে পৃথক হলো বস্তুর সেই সব গুণ, যা মনে হয় বস্তুতে আছে; অথচ তা শুধুই মনের ওপর ইন্দ্রিয়ানুভূতির প্রতিক্রিয়া। দেকার্তের এই দার্শনিক মতামত আধুনিক চিন্তার ভিত্তি স্বরূপ।
দেকার্ত গণিত থেকে চয়ন করা পদ্ধতি পুনরায় গণিতে প্রয়োগ করেন এমন তথ্য তুলে ধরে বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণে জানা গেল আরো যে, এই পদ্ধতির ফলে বক্ররেখার বিশ্নেষণ এবং তাকে প্রকাশের এক সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতি আবিস্কৃত হলো। যাকে আজ স্থানাঙ্ক বা বৈশ্নেষিক জ্যামিতি বলা হয়। জ্যামিতি ও বীজগণিত এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে জ্যামিতির সমস্যা সমাধান হয় algebric equations দ্বারা। স্থানাঙ্ক জ্যামিতির উদ্ভাবনে পিয়েরে ফের্মা (১৬০১-১৬৬৫) ছিলেন সহযোগী। এই নতুন জ্যামিতিক পদ্ধতি উদ্ভাবনের প্রয়োজনটা সতের শতকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছিল অবশ্য। কেননা এর পূর্বে পর্যন্ত গণিতের চিন্তা ইউক্লিডীয় জ্যামিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।