করোনাভাইরাস মহামারীর বৈশ্বিক প্রভাবে উদ্ভূত জাতীয় সংকটে দেশের সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত শ্রেণীপেশার মানুষের পাশাপাশি শহরের নিম্ন মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মধ্যবিত্ত শ্রেণির স্বল্প আয়ের চাকরিজীবী ও অল্প পুঁজির ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ আজ বিপদগ্রস্ত।
দরিদ্র এবং নিম্নবিত্তদের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে অনেক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি সাহায্য করছে। কিন্তু বিপাকে আছেন নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং সাধারণ মধ্যবিত্ত শ্রেণি। এই দুই শ্রেণির মানুষরা সাধারণত খুব ছোট আকারের চাকরি, ব্যবসাসহ নানান সীমিত আয়ের পেশায় নিয়োজিত। শিক্ষিত সমাজের এই অংশটি আত্মসম্মানবোধ এবং চক্ষুলজ্জার খাতিরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কারো কাছে মুখ ফুটে কিছু চাইতে বা হাত পাততে পারেন না।
এই দুর্যোগে তাদের মতো মানুষদের খোঁজ-খবর কারা নিচ্ছেন? ঢাকা মহানগরীতে অবস্থানরত এমন অনেক বিপদগ্রস্ত মানুষকে তাদের বন্ধু কিংবা পরিচিতজন সাহায্য করতে চাইলেও পারছেন কি?
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কেউ হয়ত মাসের বেতনটি সঠিক সময়ে পাননি। কবে পাবেন সেটাও জানা নেই। অনেক দোকানিই জানেন না তার দৈনন্দিন ব্যবসার স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে কবে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ কর্পোরেট ফোরাম, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর ডিভিশনের সহায়তায় একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ‘খোঁজ নিয়েছেন? ‘ শীর্ষক এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য সমাজের নিম্ন মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষদের দোড়গোড়ায় প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছে দেওয়া।
আর এই লক্ষ্যে এই কার্যক্রমের আওতায় বন্ধু-স্বজন বা পরিচিতজনের মাধ্যমে তাদের কাছে পৌঁছানোর সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ কর্পোরেট ফোরাম।
বাংলাদেশ কর্পোরেট ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও আব্দুল মোমেন লিমিটেডের গ্রুপ সিইও কামরুল হাসান বলেন, সমাজের এই শ্রেণির মানুষের কাছে ত্রাণ সাহায্য পৌঁছানো একেবারেই সহজ না। কারণ ত্রাণ বিতরণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার কোনো জমায়েতে তারা সাধারণত আসতে চান না। আবার কাছের মানুষকে নিজের সমস্যাও খোলামেলাভাবে শেয়ার করতে পারেন না, তদের সামাজিক অবস্থান ও আত্মমর্যাদার কারণে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার সময় বিষয়টি আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় আসে। বিষয়টি নিয়ে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর বিভাগের দারুসসালাম জোনের অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মাহমুদা আফরোজ লাকীর সঙ্গে আলাপ করেন বলে জানান।
কামরুল হাসান বলেন, এক্ষেত্রে ডিএমপি, মিরপুর বিভাগ সহযোগিতার হাত বাড়ায় অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে।
সমাজের নিম্ন মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের পরিবারের কাছে কিভাবে সাহায্য সামগ্রী পৌঁছাবেন জানতে চাইলে অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মাহমুদা আফরোজ লাকী বলেন, আমরা তিনটি হটলাইন নম্বর চালু করেছি। কারো কাছে যদি তথ্য থাকে যেকোনো পরিবার এহেন সমস্যায় আছেন তারা আমাদের এই নম্বরগুলোতে ফোন করে তথ্য প্রদান করলেই আমরা আমাদের বিভিন্ন ইউনিটের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে বিপদগ্রস্ত পরিবারের ঘরে সাহায্য পৌঁছে দেব। বিপদগ্রস্ত পরিবার নিজেরাও এই ফোন কলটি করতে পারেন। মাহমুদা আফরোজ লাকী নিশ্চিত করেছেন যে সামাজিক মর্যাদা বিবেচনায় এক্ষেত্রে বিপদগ্রস্ত পরিবারের নাম ঠিকানা সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।
হটলাইনগুলোর নম্বর তিনটি হলো –
০১৫৩৭৫৫১১১০
০১৮৮৩৪২২৬৩১
০১৮৮৩৪২২৬৩২
তিনি সকলকে এধরনের বিপদে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানান।
গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘খোঁজ নিয়েছেন?’ শীর্ষক এই কর্মসূচির প্রচার ও সর্বসাধারণের আগ্রহ তৈরির জন্য পিআর ও কমিউনিকেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘ব্র্যান্ড কনসোর্টিয়াম’ নামক একটি স্থানীয় পিআর কনসালটেন্সি ফার্মকে।