দর্পণ ডেস্ক : বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ মানুষকে সংক্রমিত করেছে করোনাভাইরাস। ভাইরাসটি ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ে ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। কোভিড-১৯-এর বেশ কিছু সাধারণ লক্ষণগুলো হলো- কাশি, জ্বর, কাঁপুনি, মাথাব্যথা। আবার এপ্রিলের দিকে এই মারণ ভাইরাসের আরো একটি মারাত্মক লক্ষণ দেখা দেয়। সেটি হলো রক্ত জমাট বাঁধা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসটি মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র, কিডনি, ত্বকসহ যেকোনো অঙ্গে আঘাত হানতে সক্ষম।

বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল দ্য ল্যানসেটে এপ্রিল মাসে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে মেহরা এবং বিজ্ঞানীদের একটি দল আবিষ্কার করেছেন যে সার্স-কভ-২ ভাইরাস রক্তনালীর অভ্যন্তরে অবস্থিত এন্ডোথেলিয়াল কোষগুলোকে সংক্রমিত করতে পারে। এন্ডোথেলিয়াল সেলগুলো হৃদপিণ্ড ও রক্তসংবহনতন্ত্রকে নিরাপদে রাখে। আর রক্তে জমাট বাঁধা থেকে শুরু করে প্রতিরোধ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে এমন কয়েক ধরনের প্রোটিন তৈরি করে এন্ডোথেলিয়াল কোষ। গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা কভিড-১৯ রোগীদের ফুসফুস, হার্ট, কিডনি, লিভার এবং অন্ত্রের এন্ডোথেলিয়াল কোষগুলোর ক্ষতির বিষয়েও বলেছেন।

মানদ্বিপ মেহরা বলেন, এই বিষয়টি জানার পর যে ধারণাটি মাথায় আসছে তা হলো এটি কেবল প্রশ্বাস-প্রশ্বাসজনিত অসুস্থতা নয়, এটি এক ধরনের রোগ যা শ্বাসকষ্ট দিয়ে শুরু হয়। এটি আসলে রক্তনালী সংক্রান্ত রোগ যা মানুষকে মেরে ফেলে।

মেহরা গোটা বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, করোনা ফুসফুসে প্রবেশ করে। পরে এটি ফুসফুসের কোষগুলোকে ধ্বংস করে। তাই মানুষ কাশতে শুরু করে। ফুসফুসের কোষগুলো ধ্বংসের ফলে কিছু রক্তবাহী নালী খুলে যায়। এরপরে এটি এন্ডোথেলিয়াল কোষকে সংক্রমিত করতে শুরু করে।

একটি শ্বসনতন্ত্রের ভাইরাস রক্তের কোষগুলোকে সংক্রমিত করে এবং সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এমনটা আর কখনো শোনা যায়নি। এই রোগের চিকিৎসা নিয়ে মেহরা বলেন, আমরা যেটিকে সম্ভবত সেরা অ্যান্টিভাইরাল থেরাপি বলছি আসলে সেটি কোনো অ্যান্টিভাইরাল থেরাপি নয়। সেরা থেরাপি আসলে এমন একটি ড্রাগ (ওষুধ) হতে পারে যা রক্তনালীর এন্ডোথেলিয়ালকে (শিরা, ধমনী, জালক, হৃদপিণ্ডের ভেতরের পাতলা আবরনের স্তর) স্থিতিশীল করে। আমরা একেবারে আলাদা ধারণা তৈরি করছি।

রক্তের জমাট বাঁধা, যা ক্লট বা থ্রোম্বোসিস নামে পরিচিত, এটি করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর হার বাড়িয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় মোট ৪০ শতাংশই ঘটে ক্লটের কারণে। রক্ত জমাট বাঁধার কারণে স্ট্রোক ও হার্টঅ্যাটাকের মতোও ঘটানা ঘটে। এতে রোগী মারা যান।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাঞ্জিওজেনসিস ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লি বলেছেন, কোভিডসম্পর্কিত সব ধরনের জটিলতা এক রকম রহস্য। আমরা রক্ত জমাট বাঁধা দেখি, কিডনির সমস্যা দেখি, আমরা হৃদপিণ্ডের প্রদাহ দেখি, স্ট্রোক দেখি, এনসেফালাইটিসও (মস্তিষ্কের ফোলাভাব) দেখি। করোনায় আপাতদৃষ্টিতে অসংখ্য ভিন্ন ধরনের ঘটনাচক্র দেখা যাচ্ছে। যা সাধারণত সার্স বা এইচওয়ানএনওয়ান বা বেশিরভাগ সংক্রামক রোগগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায় না।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিঘহাম অ্যান্ড উইমেনস হসপিটালের হার্ট অ্যান্ড ভাসকুলার সেন্টারের মেডিক্যাল ডিরেক্টর মানদ্বিপ মেহরা বলেছেন, যদি আপনি করোনাবিষয়ক সব ধরনের তথ্য (যা পাওয়া যাচ্ছে) এক সঙ্গে রাখেন তাহালে মনে হবে এই ভাইরাসটি সম্ভবত এক ধরনের ভাস্কুলোট্রপিক ভাইরাস। এর মানে এই ভারাসটি রক্তনালীতে আক্রমণ করে।