দপর্ণ ডেস্ক : বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়েছে স্কটল্যান্ড। ম্যাচের দুই দিন আগেই স্কটল্যান্ড কোচ শেন বার্জার বাংলাদেশকে পাত্তাই দিতে চাননি। তার শিষ্যরা গতকাল মাঠেও সেটার প্রমাণ দিয়ে দিয়েছেন। ৬ রানের হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে বাংলাদেশের। পরাজয়ের লজ্জার পাশাপাশি আরও একটি লজ্জা জুটেছে মাহমুদউল্লাহদের ভাগ্যে। এই অপ্রত্যাশিত পরাজয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে ২০ ম্যাচে হারের স্বাদ পেয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে কাল পর্যন্ত মোট ২৬টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এই ২৬ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে পাঁচটিতে, পরিত্যক্ত হয়েছে একটি। আর বাদবাকি ২০ ম্যাচেই পরাজয় বরণ করতে হয়েছে।
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশর পারফর্মেন্স খুব খারাপ। বিশ্বকাপে তো আরও করুণ। ২০০৭ সালে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে পরের চার ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ। ২০০৯ থেকে ২০১২- এই তিন বিশ্বকাপে দুটি করে ম্যাচ খেলে সব কটিতেই হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। বাংলাদেশের থেকে বাজে অবস্থায় আছে শুধু পাপুয়া নিউগিনি, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও হংকং।
ম্যাচের দুই দিন আগেই স্কটল্যান্ডের কোচ শেন বার্গার জানিয়েছিলেন যে, তারা বাংলাদেশকে পাপুয়া নিউগিনি কিংবা ওমানের কাতারেই রাখে। নিজেদের সেরাটা খেললে বাংলাদেশকে তারা হারাবেই। স্কটল্যান্ড অধিনায়ক কাইল কোয়েৎজারের কণ্ঠেও ছিল একই সুর। ম্যাচ শেষে তাদের কথাগুলোই সত্য হলো। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশকে হারিয়ে যাত্রা শুরু করল স্কটল্যান্ড।
স্কটিশদের দেওয়া ১৪১ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে বাংলাদেশ করতে পেরেছে ৭ উইকেটে ১৩৪ রান। ফলে ৬ রানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেছেন মুশফিকুর রহীম। ৩৬ বলে ৩৮ রান করেছেন তিনি। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ করেছেন ২২ বলে ২৩ রান। তবে সাকিবের ব্যাটিংটা একেবারেই টি-টোয়েন্টিসূলভ ছিল না। ২৮ বলে ২০ রান করেছেন তিনি।
স্কটল্যান্ডের ব্র্যাডলি হোয়েল ২৪ রানে তিন উইকেট নেন। এছাড়া ক্রিস গ্রিভস নিয়েছেন ২ উইকেট।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে বিপর্যয়ে পড়েছিল স্কটল্যান্ড। ৫৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর সপ্তম উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়েন ক্রিস গ্রিভস ও মার্ক ওয়াট। গ্রিভস ২৮ বলে ৪৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। ওয়াট করেন ১৭ বলে ২২ রান। ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান এসেছে ওপেনার জর্জ মানসির ব্যাট থেকে।
বাংলাদেশের পক্ষে স্পিনার মেহেদি হাসান ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফর্ম করায় ক্রিস গ্রিভস ম্যাচসেরা হয়েছেন।