অনলাইন ডেস্ক : ভয়ভীতি দেখিয়ে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা মোবাইলে ভিডিও করা হয়। পরে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বাধ্য করা হয় আরও কয়েকজনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে। এই ঘটনা ফাঁস করলে উল্টো মেয়েটিকে সামাজিক চাপের মুখে পড়তে হয়। বাধ্য হয়ে ধর্ষলের বিচার দাবিতে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে ওই মাদ্রাসাছাত্রী। ভয়াবহ এ ঘটনাটি ঘটেছে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা মেইন রোড এলাকায়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় মেয়েটিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত রবিবার মেয়েটির পিতা মো. আল আমিন সরদার বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আবির, টুটুল ও রাজু নামের তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে। আজ (মঙ্গলবার) খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিদের জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেয়েটি জানায়, প্রায় দুই মাস আগে নগরীর সোনাডাঙ্গা মেইন রোড এলাকায় পূর্ব পরিচিত আবির রান্না করা ভাত দেখানোর কথা বলে তাকে ঘরে ডেকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ এরপর ঘটনা তার বন্ধু টুটুল মোবাইল ফোনে ভিডিও করে। পরে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টুটুল ও রাজু নামের আরও দুজন তাকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে মেয়েটি ধর্ষণের বিষয়টি সবাইকে জানালে সামাজিকভাবে তাকেই দোষারোপ করা হয়। পরে ক্ষোভে-দুঃখে ৩ জুন রাতে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় মেয়েটি। গতকাল বিষয়টি প্রকাশ পায়। চিকিৎসকরা জানায়, আগুনে মেয়েটির শরীরের ১০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক দিপক কুমার পাল জানান, গ্রেফতার হওয়া তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। আজ খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

News Editor : Ganash Chanro Howlader. Office: 38-42/2 Distillery Road, 1st floor, Gandaria, Dhaka-1204.