নানান সীমাবদ্ধতার মাঝেও এ ধরনের সময়োপযোগী বাজেট প্রণয়ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে অভিনন্দন জানিয়ে শুক্রবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি।
মনোয়ারা হাকিম আলী বলেন, শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির ফলে এ বাজেট মহামারিতে ভেঙে পড়া শিক্ষা খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করবে। স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি চলমান মহামারি মোকাবেলার কার্যক্রমকে আরো ত্বরান্বিত করবে। কৃষি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির ফলে মহামারি দুঃসময়ে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে। কিন্তু পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এবং খাদ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করলে বৈশ্বিক বাজার দরের অস্থিতিশীলতার সঙ্গে তাল রেখে চলা সম্ভব হতো। জ্বালানি, বিদ্যুৎ, শিল্প ও অর্থনৈতিক খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করলে ব্যবসায় বাণিজ্যের উন্নয়ন তথা দেশের জনগণের উন্নয়নের পথ তরান্বিত হতো। এছাড়া পরিবহন ও যোগাযোগ এবং জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির ফলে সাধারণ জনগণের জীবন-মানের উন্নয়ন ঘটবে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের টার্নওভার করের হার কমানো এবং আয়কর রিটার্ন দাখিল বাদে বাকি সব রিপোর্টিং থেকে অব্যহতি এবং তরুণদের নতুন ধারনা বিকাশে সহায়তা করার জন্য এফবিসিসিআই প্রস্তাবিত ইনোভেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা প্রদান করার প্রস্তাবের ফলে তরুণ উদ্যোক্তাদের সামনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। এছাড়া ‘ই-বাণিজ্য করবো, নিজের ব্যবসা গড়বো’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে নতুন উদ্যোক্তাকে ই-কমার্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করার উদ্যোগ বাজেটের একটি ইতিবাচক দিক। এছাড়া পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক মানের আবাসন ও বিনোদন সুবিধা নিয়ে কক্সবাজার জেলার সবরাং ট্যুরিজম পার্ক, নাফ ট্যুরিজম পার্ক এবং সোনাদিয়ায় ইকো ট্যুরিজম পার্ক স্থাপন সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে, যা পর্যটন খাতকে আরো সামনে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।
বিড়ি-সিগারেট ও ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি দেশের সাধারণ জনগণকে ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করবে। এছাড়া গাড়িসহ বিলাসবহুল পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করায় এই সমস্ত পণ্য ক্রয়কে নিরুৎসাহিত করবে। দেশীয় তৈরি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ও অন্যান্য অন্যান্য আইসিটি পণ্য থেকে ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে দেশীয় তৈরি এসব পণ্যের দাম কমবে এবং দেশের তথ্য প্রযুক্তি খাত ও প্রতিষ্ঠানগুলো আরো অগ্রসর হবে। আয়কর, শুল্ক ও মুশক বিভাগে ই-পেমেন্ট অটোমেটেড চালান প্রবর্তন একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত।
বিবৃতিতে বলাা হয়, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪ হাজার ২৯০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব নারীদের জন্য প্রস্তাবিত বিষয়গুলো বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এই বরাদ্দকৃত টাকা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের নারী ও শিশুদের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া এসএমই খাতে নারী উদ্যোক্তাদের বার্ষিক টার্নওভার ৭০ লাখ টাকা আয়কে করমুক্ত বিদ্যমান রাখা বাজেটের ইতিবাচক দিক, যা নারীদেরকে সামনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।
বাজেটে আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র শিল্পে তাদের চলমান অংশগ্রহণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আলাদাভাবে প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব করছি। এর ফলে তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষ্টি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।