শিশু ও শিক্ষার্থীদের দাদা ভাই ‘আব্দুল লতিফ খসরু’। ছবি: লেখক

সমাজ গড়ার ভীত রচনার জন্য জ্ঞানের মশাল হাতে জ্ঞানপিপাসু সাধারণ শিক্ষার্থী ও পাঠকদের নিয়ে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি শুরু করছেন আব্দুস সোবহান স্মৃতি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল লতিফ খসরু। প্রথমে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অর্ধ শতাধিক বই এবং চারটি জাতীয় পত্রিকা নিয়ে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীর যাত্রা শুরু করেন শিক্ষানুরাগী এই ব্যক্তি।
 
উপজেলার আমরাজুড়ি গ্রামের এবং কাউখালী উপজেলা কচুয়াকাঠী গ্রামের শিক্ষার্থীদের পাঠ অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি এ কার্যক্রম শুরু করেন। তার এই কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে ছড়িয়ে দিতে চান কাউখালী উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি শিক্ষার্থীদের কাছে। নিজের ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং ‘একান্তরের গণহত্যা ও বধ্যভূমি’ নামক বই ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকা শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেন এই প্রবীণ শিক্ষানুরাগী। 

‘আব্দুল লতিফ খসরু’। ছবি: লেখক

তরুণদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে তার এই উদ্যোগ। গরীব, অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন সময়ে তুলে দিচ্ছেন শিক্ষা উপকরণ। বিজয় ও স্বাধীনতার মাস এলেই ছোট ছোট শিশুদের হাতে তুলে দেন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। লাল সবুজের পতাকা অর্জনের পেছনে বীরত্বগাথা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শোনান তাদের। তাই সবার কাছে প্রিয় মানুষ তিনি। তাইতো শিশুরা তাকে ‘দাদা ভাই’ বলে ডাকতে পছন্দ করেন।

আব্দুল লতিফ খসরু বলেন, ‘আজকাল পাঠাগারে তেমন একটা পাঠক আসেন না। পাঠকদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ তেমন একটা নেই বললেই চলে। এসব কথা চিন্তা করে পাঠকদের বই পড়ার আগ্রহসৃষ্টি বা পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের কার্যক্রম শুরু করি।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘পাঠাগার থেকে নেয়া ও তার বিলানো বই নিতে পারেন যে কেউ, এর জন্য কোনো চাঁদা বা জামানতের প্রয়োজন হয় না।’

আব্দুল লতিফ খসরেুর দেওয়া পতাকা হাতে শিশুরা। ছবি: লেখক

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় কেউন্দিয়া গ্রামের ষাটোর্ধ আব্দুল লতিফ খসরু প্রায় ১৫ বছর ধরেই করছেন এই কাজ। আজ একজন বইয়ের ফেরিওয়ালার হিসেবে পরিচিত হয়েছেন তিনি। বই বিলাচ্ছেন সবার মধ্যে। সব বয়সের সব পাঠকের হাতেই তিনি তুলে দিতে চান তার পছন্দের বইটি। 

কোনো আশা কিংবা ইচ্ছা থেকে নয়, তিনি এই কাজ করেন গ্রামের মানুষকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রেখে বই পড়ার আনন্দ বিলিয়ে দিতে। 

সন্ধ্যা নদীর তীরে ‘আলোর পাঠশালা’ নামে শিশুদের জন্য তিনি একটি বিদ্যালয়ও খুলেছেন। যেখানে প্রতিবন্ধীসহ বেশ কিছু শিশু পাঠদান করছেন।

কলেজ শিক্ষার্থী রেদওয়ান, মিথিলা ও সিমু আক্তার জানান, খসরু দাদার কাছ থেকে আমরা বিনা পয়সায় বিভিন্ন ধরনের বই ও দৈনিক পত্রিকা নিয়ে পড়ি থাকি। পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে তার এ উদ্যোগের প্রশংসা করছেন এই শিক্ষার্থীরা।

আব্দুল লতিফ খসরুর প্রতিষ্ঠিত স্কুলের শিশুরা। ছবি: লেখক

স্থানীয় সাংবাদিক সৈয়দ বশির আহম্মেদ জানান, খসরু মিয়া অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ। তিনি শুধু একজন শিক্ষানুরাগীই নন, সমাজসেবকও। সবসময় এলাকার অসহায় মানুষদের খুঁজে নিজের সাধ্যমতো তাদেরকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তিনি।
 
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা খাতুন রেখা বলেন, আব্দুল লতিফ খসরু একজন শিক্ষানুরাগী মানুষ। তিনি জ্ঞানের আলো ছড়াতে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বিভিন্ন গুণী ও বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবনীসহ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা বিভিন্ন ইতিহাসের বই শিক্ষার্থীদের পড়ার জন্য দিয়ে আসেন। তার এরকম উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান তিনি।