শাবিপ্রবি রসায়ন বিভাগের উদ্যোগ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বন্যা ও বন্যা পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে বন্যার্তদের মধ্যে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে এগুলো ইতোমধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। পাশাপাশি অব্যাহত রয়েছে তৈরি কার্যক্রম। 

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. আহমেদ জালাল ফরিদ উস ছামাদ জানান, গত ২৩ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী রসায়ন বিভাগের ‘এনালাইটিক্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ল্যাবরেটরিতে ৬ হাজার ৪০০ প্যাকেট খাবার স্যালাইন, পাঁচ হাজার ২০ বোতল পানি বিশুদ্ধিকরণ তরল ও তিন হাজার ১০০ প্যাকেট ফিটকিরি তৈরি করা হয়েছে। যা বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার সুবিধার্থে শাবি শিক্ষক সমিতি, সমাজকর্ম এলামনাই এসোসিয়েশন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্নোত্থান’ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, ল্যাবে মেশিন না থাকায় আমরা পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট তৈরি করতে পারিনি। এজন্য তরল আকারেই এটি প্রস্তুত করেছি। প্রতি ১০-১৫ মিলি লিটারের ছোট বোতলে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ হাইপোক্লোরাইড উপাদান মেশানো হয়েছে। যা পানি বিশুদ্ধকরণ করতে সহায়তা করবে। এছাড়া চিনি ও লবণের সংমিশ্রণে ল্যাবে খাবার স্যালাইন তৈরি এবং প্যাকেটজাত করে বণ্টন করা হয়েছে। 

শাবিপ্রবি রসায়ন বিভাগের উদ্যোগ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এ তরল ব্যবহার করে পানি ফুটানোর প্রক্রিয়া নিয়ে এ শিক্ষক বলেন, প্রতি লিটার পানিতে দুই ফোঁটা হাইপোক্লোরাইড যোগ করে ত্রিশ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এটি পানিবাহিত রোগের জীবাণু ধ্বংস করে পানিকে বিশুদ্ধ করে তুলে। যা পান করার উপযোগী হবে।

সার্বিক বিষয়ে অধ্যাপক ড. ছামাদ বলেন, সরাসরি মানুষের জন্য এভাবে কাজ করার সুযোগ সবসময় আসে না। বন্যায় আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি। এ কাজে বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমাকে খুব বেশি সহযোগিতা করেছেন। তাদেরকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই। ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজস্ব ফান্ড থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে কাজ শুরু করি। পরে রসায়ন বিভাগ, আমার সহকর্মী ও বন্ধুবান্ধবরাও আমাকে এ কাজে অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছেন। এ সময় যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। 

খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ তরল ও ফিটকিরি তৈরিতে রসায়ন বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা সহযোগিতা করেছেন। তারা হলেন- অনিক দে, সেতু দাস, সিপ্তী পোদ্দার কথা, শাকিল আহমেদ, সাইফুর রহমান সাব্বির, মাহফুজ, পিয়াল চৌধুরী, তারেকুল আরেফিন প্রিয়াম, রেজওয়ান আহমেদ রাহিন, আরাফাত আহমেদ সজীব, সাব্বির হোসেন নিপু, আব্দুল আহাদ প্রামানিক, মেহেদী হাসান, রিফাত আরমান, তানভীর শাহরিয়ার, বদরুল আমিন ইমন, শুভ পাল, দিব্য রাজ, সুমন মিয়া, তাসফিয়া জামান অহনা, অনন্যা বড়ুয়া, কুলসুমা বেগম শুকরিয়া, ফারহানা মোশাররফ নিপা এবং লিটন বিশ্বাস প্রমুখ।