নিহত রাজিয়া ও তার ছেলে তালহা- ফাইল ছবি

আটদিন আগে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বাসা থেকে গৃহবধূ রাজিয়া ও তার সন্তানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঐ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রাজিয়ার প্রতিবেশী পোশাক কর্মী সাদিকুরকে গ্রেফতার করে পিবিআই। জোড়া খুনের দায় স্বীকার করে নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রোববার জবানবন্দি দেন সাদিকুর।

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, রাজিয়া ও তার সন্তান তালহা সেমিপাকা ঘরে থাকতেন। তার স্বামী কয়েক বছর আগে মারা যান। ঘটনার রাতে প্রতিবেশী সাদিকুর তাদের বাসার সামনে এসে ভাবি বলে ডাকতে থাকেন। রাজিয়া সাধারণত বাসায় ঢোকার কলাপসিবল গেট বন্ধ করে রাখেন। বাসার ভেতর থাকলেও গেট তালাবদ্ধ রাখেন। তবে সেদিন রাতে গেট খুলে সাদিকুরকে ঘরে প্রবেশ করতে দেন।

গ্রেফতারকৃত সাদিকুর- ছবি: সংগৃহীত

বনজ কুমার মজুমদার বলেন, রাজিয়ার কাছে ১০ হাজার টাকা ধার চান সাদিকুর। রাজিয়া তখন তাকে বলেছিলেন, বাসায় কোনো টাকা নেই। এক পর্যায়ে রাজিয়া আলমারির তালা খুলে সাদিকুরকে দেখান, আছে মাত্র ১০০ টাকা। তখন সাদিকুর আলমারির ভেতরে একটা বাটিতে রাখা স্বর্ণালংকার দেখতে পান। তখন চেয়ারে বসে থাকা রাজিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ ও পাশে থাকা ইস্তিরি দিয়ে আঘাত করেন। পরে ঘরে থাকা বঁটি দিয়ে রাজিয়াকে গলা কেটে হত্যা করেন সাদিকুর। আর ছেলে তালহা এ ঘটনা দেখে ফেলায় তাকেও গলা কেটে হত্যা করেন।

তিনি আরো বলেন, সাদিকুর এলাকায় ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। আইপিএলের জুয়া খেলে ৭০ হাজার টাকা ঋণগ্রস্ত হন। পাওনাদাররা টাকার জন্য চাপ দেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান সাদিকুর। ঐ টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি।

হত্যার রহস্য উদঘাটনের ব্যাপারে তিনি বলেন, জোড়া খুনের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে বাড়ির পেছনে সুপারি গাছে মাটি দেখতে পাওয়া যায়। এই গাছ ব্যবহার করে উপরে উঠলে রাজিয়ার ঘরের ভেতরের বাথরুমের কিছু অংশ দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজিয়ার ঘরের পেছনে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে স্থানীয় কিছু যুবক গেম খেলে। তখন খোঁজ নিয়ে অজিদ কাজী নামের এক যুবকের সন্ধান মেলে। জিজ্ঞাসাবাদ অজিদ জানান, সেদিন রাতে ঘরে চিৎকার শুনে সুপারি গাছ ব্যবহার করে উপরে উঠে ভেন্টিলেটর দিয়ে সাদিকুরকে দ্রুত ঘর থেকে বাইরে যেতে দেখেন। হত্যাকাণ্ডের পর অজিদ কাজীকে হত্যার হুমকি দিয়ে এ ঘটনা কাউকে না জানাতে বলেন সাদিকুর।

সাদিকুরের ফাঁসি দাবি করেছেন নিহত রাজিয়ার মা খন্দকার তাসলিমা বেগম। তিনি বলেন, আমার নিরীহ মেয়ে ও তার ছেলেকে হত্যা করেছে সাদিকুর।